ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ঢাকা-বেইজিং ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা

তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন


তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন

চীন তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা দেবে। এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঘোষিত ১৫ দফা যৌথ ঘোষণাপত্রে এ কথাটি জানানো হয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে -

১. চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করেন। সফরের সময়ে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভা (সামার দ্ভোস)-এ অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

সফরের সময় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাপারে বিস্তৃত মতবিনিময় হয় এবং উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছায়।

২. উভয় পক্ষ উল্লেখ করে যে, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক আস্থা সুদৃঢ় করেছে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব জোরদার করেছে এবং ফলপ্রসূ বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা পরিচালনা করেছে।

চীন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানায় এবং নতুন সরকারের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ মনে করে যে, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

উভয় দেশ বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বকে আরও উন্নীত করে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

৩. উভয় দেশ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, শাসনব্যবস্থা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধি এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৪. উভয় দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার।

অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

৫. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নমূলক ছোট প্রকল্পেও সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার

এছাড়া শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

৬. বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা প্রদানের জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশও চীনা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

একই সঙ্গে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির

৭. সংযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌর প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে নতুন সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে।

৮. সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা দেবে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্র সিফাত উদ্ধার, দুই অপহরণকারী গ্রেফতার

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করবেন।

এছাড়া সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

৯. উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সফর, প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।

১০. ২০২৫ সালে চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘চীন-বাংলাদেশ জনগণের মধ্যে বিনিময় বর্ষ’ সফলভাবে উদযাপনের প্রশংসা করা হয়েছে।

উভয় দেশ গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে।

১১. বাংলাদেশ ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উদ্যোগসমূহের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে, চীন জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও)-এর অংশীদার হওয়ার বাংলাদেশের আবেদনকে সমর্থন করেছে।

১২. উভয় দেশ জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক শৃঙ্খলা এবং জাতিসংঘ সনদের নীতি ও উদ্দেশ্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখা এবং ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের পুনরুত্থানের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

১৩. মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।

চীনও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১৪. সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে।

১৫. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সফরসঙ্গীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রসঙ্গত, চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সফরে তাঁর সঙ্গে ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে।

এর আগে, ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে ২২ জুন তিনি চীন সফরে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মাদকের করাল গ্রাস থেকে

তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন

আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার শহর শাখার যুব বিভাগের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ২৬ জুন বাদ জুমা শহরের বাজারঘাটস্থ প্রধান সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও জেলা যুব বিভাগ সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। শহর যুব বিভাগের সভাপতি কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের সময় অতিথিবৃন্দ বলেন, মাদক বাংলাদেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি শহর থেকে গ্রামে সয়লাবের মতো পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত মাদকের ভয়াবহ নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। দেশে ৮২ লাখ মাদকাসক্তের সংখ্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ ভাগ লোক ১৮ বছরের আগেই মাদকাসক্ত হয়ে যায়।

এহেন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যাবে। তরুণ প্রজন্মের মেরুদন্ড ভেঙে পড়বে। সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। জাতি হিসেবে আমাদের পরিচিতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। বক্তারা উল্লেখ করেন, সরকারীভাবে আমরা শুধুমাত্র বক্তব্য, বিবৃতি ও আনুষ্ঠানিকতার প্রত্যাশা করি না। আমাদের সকল রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ সব স্তরে সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তরুণ প্রজন্মকে ভয়াবহ মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। একটি সুস্থ, সুখী ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্যে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করার জন্য বক্তারা সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বক্তারা মাদকাসক্তদের সুস্থ করে গড়ে তোলার জন্য সরকারি উদ্যোগ আরো সম্প্রসারিত করার দাবি জানান। বক্তারা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিক সরঞ্জাম, গোয়েন্দা নজরদারি, জনবল বৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে প্রযুক্তির সাহায্যে মাদক কারবারি, বহনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। শহর যুব বিভাগের সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা যুব বিভাগ সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, লং মার্চের হুঁশিয়ারি এমপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, লং মার্চের হুঁশিয়ারি এমপির

কুমিল্লার গোলাবাড়ি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী লং মার্চের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, যদি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকি, প্রয়োজনে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার কথাও তার মুখ থেকে বেরিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। এমপি মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, “যদি জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে গোলাবাড়ি কেন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না? যদি সেখানে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার না হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়।” তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গোলাবাড়ির মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনে গোলাবাড়ি এলাকায় ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন। সভায় জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকুকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন করেন, “মার্ডার ও মাদকসহ ৩৫টি মামলার আসামিরা কীভাবে জামিন পায়? এ বিষয়টি নিয়ে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।” জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুমিল্লার সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিংকু, অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম, লাকসাম সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোমনায় পাশাপাশি চার কবরে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


হোমনায় পাশাপাশি চার কবরে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন বোনের লাশ অবশেষে কুমিল্লার হোমনায় এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাঁদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে। জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ফলে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে ছিল এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্ণীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের লাশ হোমনায় নিয়ে এসেছে। লাশগুলো বাড়িতে আসলে পুরো গ্রামবাসীদের ও তাদের চাচা মামারা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। স্বজনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভবনের পাঁচ তলার ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই বোন সায়মা আক্তার (২১) ও সিফা আক্তার (১০) মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মেঝো বোন ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তারও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘাতক অন্তরও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হাসপাতালে মারা গেছে। দীর্ঘ ৩০ বছর রায়পুরে কাটানোর পর, অবশেষে নিজের ভূমিতেই পাশাপাশি চার কবরে ঠাঁই হলো এক পরিবারের চার সদস্যের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনিবার কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


শনিবার কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে দুই উপজেলার প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকবেন।

ফুলবাড়ী জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম এবং নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কামাল হোসেন এ সম্পর্কিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ৩৩ কেভি সোর্স লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতসহ সব শ্রেণির গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর আওতায় নাগেশ্বরী উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার ৪০০ এবং ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় ৫৭ হাজার গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকবেন।

ফুলবাড়ী জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করতে পার‌লে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কামাল হোসেন ব্যাখ্যা দেন যে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পর গ্রাহকরা উন্নত ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%