ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, লং মার্চের হুঁশিয়ারি এমপির


মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, লং মার্চের হুঁশিয়ারি এমপির

কুমিল্লার গোলাবাড়ি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী লং মার্চের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, যদি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকি, প্রয়োজনে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার কথাও তার মুখ থেকে বেরিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। এমপি মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, “যদি জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে গোলাবাড়ি কেন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না? যদি সেখানে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার না হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়।” তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গোলাবাড়ির মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনে গোলাবাড়ি এলাকায় ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন। সভায় জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকুকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন করেন, “মার্ডার ও মাদকসহ ৩৫টি মামলার আসামিরা কীভাবে জামিন পায়? এ বিষয়টি নিয়ে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।” জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুমিল্লার সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিংকু, অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম, লাকসাম সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোমনায় পাশাপাশি চার কবরে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


হোমনায় পাশাপাশি চার কবরে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন বোনের লাশ অবশেষে কুমিল্লার হোমনায় এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাঁদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে। জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ফলে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে ছিল এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্ণীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের লাশ হোমনায় নিয়ে এসেছে। লাশগুলো বাড়িতে আসলে পুরো গ্রামবাসীদের ও তাদের চাচা মামারা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। স্বজনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভবনের পাঁচ তলার ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই বোন সায়মা আক্তার (২১) ও সিফা আক্তার (১০) মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মেঝো বোন ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তারও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘাতক অন্তরও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হাসপাতালে মারা গেছে। দীর্ঘ ৩০ বছর রায়পুরে কাটানোর পর, অবশেষে নিজের ভূমিতেই পাশাপাশি চার কবরে ঠাঁই হলো এক পরিবারের চার সদস্যের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনিবার কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


শনিবার কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে দুই উপজেলার প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকবেন।

ফুলবাড়ী জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম এবং নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কামাল হোসেন এ সম্পর্কিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ৩৩ কেভি সোর্স লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতসহ সব শ্রেণির গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর আওতায় নাগেশ্বরী উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার ৪০০ এবং ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় ৫৭ হাজার গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকবেন।

ফুলবাড়ী জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করতে পার‌লে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কামাল হোসেন ব্যাখ্যা দেন যে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পর গ্রাহকরা উন্নত ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০টি ঘরে সন্ধ্যার পর বসে মাদকের আসর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ পি.এম


গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০টি ঘরে সন্ধ্যার পর বসে মাদকের আসর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা অঞ্চলের আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের ৬০টি পরিত্যক্ত ঘর বর্তমানে মাদকসেবী এবং মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই এসব পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসে। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত এই মাদক সেবন ও লেনদেন চলতে থাকে। স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাদের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে তবে দীর্ঘদিন ধরে ৬০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবী লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ দ্বারাই নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে অনেকের যাতায়াত রয়েছে। নদী-সংলগ্ন অঞ্চলের কারণে নৌকাযোগে সহজেই মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে, ট্রলার বা স্পিডবোটের মাধ্যমে নদীপথে পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকদ্রব্য এই অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। এসব আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা এবং গাঁজা সেবন করা হচ্ছে। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি, মারামারি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইচাহাক শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে ঢুকে মাদক সেবন করে। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যান। ভয় এবং নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ওই দিকটায় যেতে চান না। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা কুলছুম বেগম জানান, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ছেলে-মেয়ে বাইরে যেতে পারছে না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদকের আসর বন্ধ করুক। আকোটের চর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলছেন, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, এই ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসে শেষ মুহূর্তে স্থগিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ পি.এম


প্যারিসে শেষ মুহূর্তে স্থগিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ফ্রান্স সফরের সময় ফ্রান্স বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক আগ্রহ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত না হওয়ায় প্রবাসী মহলে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।

আয়োজকরা বলছেন, মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি সফরসূচি এবং তীব্র দাবদাহের জন্য অনুষ্ঠানটি স্থগিত হয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানাচ্ছে যে, সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলোকেও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংबর্ধনা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিএনপির নেতাকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠানটি স্থগিতের ঘোষণা আসে।

ফ্রান্স বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি সফরসূচি এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে চলমান প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে অনুষ্ঠান আয়োজন সংক্রান্ত সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার খেয়াল রেখে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুষ্ঠানটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ অনৈক্য এবং নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা অনুষ্ঠান আয়োজনকে জটিল করে তুলেছে। বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে বলেও তাদের অভিমত।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের জানান, তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ছিলেন। কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। কিন্তু মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি কর্মসূচি ও চলমান দাবদাহের কারণে সময়মতো অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী সফরের সময় নির্ধারিত হোটেলের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়তি উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি বিরূপ হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর একজন মন্ত্রীর আগমন স্বাভাবিকভাবেই নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অতিরিক্ত ভিড় ক্ষতিকর ছিল।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুব আলম রাঙ্গা জানান, অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে নেওয়া হয়েছে, যদিও হল বুকিং এবং অতিথি আমন্ত্রণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল।

বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সফরের সময় বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয় এবং বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

সূত্রটি আরও জানাচ্ছে যে, কমিউনিটির উদ্যোগে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের বা স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ আয়োজকদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। যদিও কমিউনিটির ভেতরে অনুষ্ঠানের ব্যাপক আগ্রহ ছিল, শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হওয়ায় অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একাংশ মনে করেন, এমন একটি কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ কেবল তাঁরই রয়েছে বলে তারা মত দেন।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ জানান, মন্ত্রী মহোদয় সফর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত আছেন। সেখানে মন্ত্রীর নিজ এলাকার কিছু লোকজনের উপস্থিতিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এটি তিনি ভালোভাবে নেননি। আমাদের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। এককেন্দ্রিক নেতৃত্ব আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ বলেন, একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবণতা এই পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। যদি সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি প্রবাসীদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই একটি কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় এই কারণে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%