মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৯ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বাক্বিতণ্ডার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের শেয়ার করা ঘটনার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে তিনি এ দাবি জানান।
ফেসবুক পোস্টে রাকিবুল ইসলাম রাকিব থানায় প্রবেশ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। বিএনপির সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
এ ছাড়া রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের দেওয়া বাক্স্বাধীনতার অপব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদল সভাপতি। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শতাধিক কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান। সেখানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর বাক্বিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও অনলাইনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ওসির উদ্যোগে কোরআনখানি এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর দাগনভূঞা থানা জামে মসজিদে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানের নেতৃত্বে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলে মন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এরপর মসজিদে উপস্থিত শতাধিক মুসল্লির মধ্যে তাবারক বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান মন্তব্য করেন, ‘পরিবেশমন্ত্রী অসুস্থ। তিনি যেন মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করে পুনরায় জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সে জন্যই এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা সবাই তার আশু আরোগ্যের জন্য পরম করুণাময়ের দরবারে প্রার্থনা করছি।’
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন ও ভোট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে পুরো নির্বাচন কমিশনকে দিন-রাত ঘেরাও করে বসে থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, দেশে আর কোনো চোরকে ভোট চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
শুক্রবার, রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা প্রদান করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এবার আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা—বাড়াবাড়ি করলে পুরা নির্বাচন কমিশন দিন-রাত ঘেরাও করে বসে থাকব। কাউকে কোনো বাড়াবাড়ি করতে দেওয়া হবে না। আর কোনো চোরকে ভোট চুরি করতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘এই দেশ এবং দেশের মানুষ আমাদের কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি। এ দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে কারা দেশ চালাবে, কারা সমাজ পরিচালনা করবে।’
রুকনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা বর্তমানে জামায়াতের প্রতি বাড়ছে। তাই প্রতিটি এলাকায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া এবং ভোট গণনা শেষে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল বুঝে নেওয়ার ব্যবস্থা করার তাগিদ দেন তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির নির্দেশ দিয়ে বলেন, মেয়র কিংবা কাউন্সিলর—কোনো পদেই দুর্বল প্রার্থী দেওয়া যাবে না এবং কোনো আসন ফাঁকা রাখা যাবে না; সব জায়গায় যোগ্য প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, সমাজে অবিচার বা অনিয়ম ঘটলে জামায়াত ঘরে বসে তামাশা দেখবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজপথে প্রতিবাদ জানানো হবে এবং মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিশেষ অনুদান প্রদান করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ভবনের সম্মেলন কক্ষে অসহায়, দুস্থ, রোগাক্রান্ত, প্রতিবন্ধী এবং গৃহহীন ২৫ জন ব্যক্তির মাঝে এ অনুদান বিতরণ করা হয়। সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই অনুদান প্রদান করেন এমপি। এ সময় ২৫ জন দুস্থ ব্যক্তির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন তিনি।
অনুদান বিতরণের সময় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সেক্রেটারি মো: বাবুল ইসলাম, শিবগঞ্জ পৌরসভার আমীর আবু বকর সিদ্দিক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ড. কেরামত আলী বলেন, "অত্র আসনের প্রত্যেক জন নাগরিকের দায়িত্ব আমার কাঁধে রয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের অসহায় মানুষ সহযোগিতার আবেদন করেছিল। বরাদ্দ অনুযায়ী এবং সমস্যা বিবেচনায় আজ ২৫ জনকে এ অনুদান প্রদান করা হলো।" এমপি বলেন, "ইতিপূর্বেও অনেক অসহায় ব্যক্তির মাঝে এমন সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এভাবেই সর্বাবস্থায় সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু নিয়ে অসহায় জনগনের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহৃত হওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া ২০ লাখ বই ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই বইটির ছাপা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সময়ে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনসিটিবি কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণির এই বই প্রায় ২০ লাখ কপি ছাপা হয়ে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে। এসব বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। ফেরত আনা, সংশোধন এবং পুনমুর্দ্রণ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে এবং সময়ও নষ্ট হবে। অথচ সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল চলতি বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সব বই পৌঁছে দেওয়ার।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বইটি সংশোধন করে ফের পাঠাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা যথাসময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারব।’
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়ার কারণে দাঁড়িপাল্লা ছবি পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।
উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশিরভাগ ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে সেখানে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে এসেছে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ