শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৮ পি.এম
বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কনের বাড়িতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানও শেষ হয়ে গেছে। বরকে বরণ করার জন্য আলোকসজ্জার গেট সাজানো হয়েছিল। দুই পরিবারে নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তটি বিষাদে পরিণত হয়। বিয়ের আগের দিন মারা গেছেন গাইবান্ধার তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২২)। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সৌমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়। তিনি চার দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর উপসর্গের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষার ফল বা চিকিৎসকের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌমিক গাইবান্ধা পৌর এলাকার ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান আহমেদ ও জেসমিন আক্তার দম্পতির ছোট ছেলে। তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। বিয়ের পর ঢাকায় একটি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাদ জুমা গাইবান্ধা শহরের স্টেশন জামে মসজিদে সৌমিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন সৌমিক
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তার ভাই। গত চার দিন ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসা দিতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব ঘটে। দুপুর ১টার দিকে সেন্টারের চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে স্বজনেরা ওষুধ নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
তবে বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিয়ের আনন্দ বদলে গেল শোকে
শুক্রবার সৌমিকের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। বিয়ের পর শনিবার নবদম্পতির বৌভাতের আয়োজন করার কথা ছিল। কনের বাড়িতে আগের দিন সন্ধ্যায় গায়েহলুদের অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছিল। বরকে বরণ করতে বাড়ি ও আশপাশ সাজানো হয়েছিল। সৌমিকের বাড়িতেও বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন তার মৃত্যুতে সব আয়োজন থেমে যায়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু, স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে ভেঙে পড়েন।
সৌমিকের মা জেসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেধাবী ছেলেকে নিয়ে তাদের পরিবারের গর্ব ছিল। বিয়ের পরই তার ঢাকায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম রুবেল বলেন, ছোটবেলা থেকেই সৌমিককে চেনেন তিনি। বিনয়ী ও মেধাবী এই তরুণের বিয়ের ঠিক আগের দিন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। নতুন জীবন শুরুর মুহূর্তে তাকে হারিয়ে পরিবার যে শোকের মধ্যে পড়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সৌমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে ডেভিড কোম্পানি পাড়াসহ গাইবান্ধা শহরে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তের ভারতীয় অংশে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা খালেদ আহমদ (২৩) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহত খালেদ কানাইঘাট উপজেলার এরালীগুল গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার পুত্র।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে কানাইঘাটের দনা সীমান্তের মিকিরপড়া এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের আকুয়া এলাকায় প্রবেশ করেন খালেদ। এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন। এরপর থেকে তার মরদেহ সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছে পড়ে ছিল।
কানাইঘাটের লক্ষীপ্রাসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করেন খালেদ। বাকিরা ফিরে এলেও খালেদ খাসিয়াদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। তার লাশ সীমান্তে পড়ে ছিল। থানা পুলিশ ও বিজিবিকে জানানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক মো. নাজমুল হক জানান, বৃহস্পতিবার ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়া ও বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘাত ঘটে। এ সময় একজন বাংলাদেশী নাগরিক নিখোঁজ হয় বলে সোর্সের মাধ্যমে জানা যায়। এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সিলেটের কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের পরিবার ও স্বজনরা বিকেলে লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে বলে শুনেছি।’
থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, তারা থানায় জানায়নি, আমরা বিষয়টি জানার পর তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মার্কিন দূতাবাস রিয়াদে জানিয়েছে যে সউদী আরবের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ফলে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একইসাথে, মার্কিন সরকারি কর্মীদের সউদী আরবের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের আগে বিশেষ অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সড়ক বা ট্রেন পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কানাডা তাদের নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার এবং সউদী আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরের অরিয়েন্টেশনে সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সউদী আরবের বিমান পরিবহন অবকাঠামোতে বারবার হামলার প্রেক্ষাপটে এই আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তাগুলো এসেছে, যা আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সূত্র: সানডে গার্ডিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন’। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কিংবা পরিবহনের অভাবে যেন কোনো মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিবরিয়ার ‘হিউম্যান ইক্যুইটি সিভিলাইজেশন’ (মানবিক সাম্যভিত্তিক সভ্যতা) দর্শন এবং ‘ফাইভ জিরো ভিশন’-এর আওতাধীন ‘জিরো ডেথ উইদাউট ট্রিটমেন্ট’ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই সেবা চালু করা হচ্ছে।
মানবকল্যাণ ও জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে গত ১৪ বছর ধরে সংস্থাটি দেশ-বিদেশে নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও চাটখিল অঞ্চলে কয়েক বছর ধরে সফলভাবে বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেখানে অর্জিত সাফল্য এবং ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মানবিক সেবা এবার রাজধানীতে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেক সময় আর্থিক সংকট বা অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে চরম বিপদে পড়তে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে আর্থিক বাধা দূর করাই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগের পেছনে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই; বরং মানুষের বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য। রাজধানীর অসহায় রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে এ পদক্ষেপ একটি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছে ফাউন্ডেশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম পাশে সীমান্ত নদীর ওপর অবস্থিত দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ আয়রন ব্রিজটি অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মিলটন চন্দ্র পালের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্রিজটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী পথচারীরা।
বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এতে ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ছিলেন পথচারী ও যানবাহনচালকেরা। বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন বাকেরগঞ্জ সদর রোডে যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটির বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল এলাকাবাসীকে।
সম্প্রতি ব্রিজটির জরাজীর্ণ অবস্থা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মিলটন চন্দ্র পালের নজরে এলে তিনি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের আশ্বাস দেন। পরে তাঁর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, এর কিছুদিন আগেও একই ব্রিজের উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এবার ব্রিজটির সংস্কার সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আরেকটি সমস্যা নিরসন হলো।
ব্রিজটি সংস্কার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত চলাচলকারী পথচারীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংস্কারের ফলে ব্রিজটি দিয়ে চলাচল আরও নিরাপদ হবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
পৌর প্রশাসক মিলটন চন্দ্র পাল জানান, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জনদুর্ভোগ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্রিজটির স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ