প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কনের বাড়িতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানও শেষ হয়ে গেছে। বরকে বরণ করার জন্য আলোকসজ্জার গেট সাজানো হয়েছিল। দুই পরিবারে নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তটি বিষাদে পরিণত হয়। বিয়ের আগের দিন মারা গেছেন গাইবান্ধার তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২২)। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সৌমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়। তিনি চার দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর উপসর্গের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষার ফল বা চিকিৎসকের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌমিক গাইবান্ধা পৌর এলাকার ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান আহমেদ ও জেসমিন আক্তার দম্পতির ছোট ছেলে। তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। বিয়ের পর ঢাকায় একটি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাদ জুমা গাইবান্ধা শহরের স্টেশন জামে মসজিদে সৌমিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন সৌমিক
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তার ভাই। গত চার দিন ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসা দিতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব ঘটে। দুপুর ১টার দিকে সেন্টারের চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে স্বজনেরা ওষুধ নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
তবে বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিয়ের আনন্দ বদলে গেল শোকে
শুক্রবার সৌমিকের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। বিয়ের পর শনিবার নবদম্পতির বৌভাতের আয়োজন করার কথা ছিল। কনের বাড়িতে আগের দিন সন্ধ্যায় গায়েহলুদের অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছিল। বরকে বরণ করতে বাড়ি ও আশপাশ সাজানো হয়েছিল। সৌমিকের বাড়িতেও বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন তার মৃত্যুতে সব আয়োজন থেমে যায়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু, স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে ভেঙে পড়েন।
সৌমিকের মা জেসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেধাবী ছেলেকে নিয়ে তাদের পরিবারের গর্ব ছিল। বিয়ের পরই তার ঢাকায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম রুবেল বলেন, ছোটবেলা থেকেই সৌমিককে চেনেন তিনি। বিনয়ী ও মেধাবী এই তরুণের বিয়ের ঠিক আগের দিন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। নতুন জীবন শুরুর মুহূর্তে তাকে হারিয়ে পরিবার যে শোকের মধ্যে পড়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সৌমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে ডেভিড কোম্পানি পাড়াসহ গাইবান্ধা শহরে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন