হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি
১০:০৫ পি.এম
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহারে সামাজিক সংগঠন ‘সম্ভাবনাময় আগামীর দুর্বার প্রজন্ম’ (প্রজন্ম)-এর উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে সফলভাবে “বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রদান করে MASTUL Foundation। আয়োজকদের মতে, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ-সচেতন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৃক্ষরোপণ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “একটি গাছ, একটি প্রাণ—সবুজ হোক আগামীর বাংলাদেশ।” তারা মনে করেন, আজ রোপণ করা প্রতিটি চারাগাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য MASTUL Foundation-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশ নেওয়া সকল স্বেচ্ছাসেবী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় পরিচালিত একটি অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ।
আজ ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে মানিকদী আমতলা এলাকায় একটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার তদন্তের সময়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চার শিশুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাসার ছাদের ইটের স্তূপের ভিতর থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পার্টি করার সময় অস্ত্রটি প্রদর্শনের এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে একজন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া, আটককৃতরা দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রটি ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং-এর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উসকানিমূলক ও অস্রাভ্য ভাষায় কথা বললে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি সংঘাতমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মত প্রকাশ সভ্য ভাষায় হওয়া উচিত বলেন মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা এবং বিতর্ক অবশ্যই থাকবে তবে সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়। এ জন্য সবাইকে একটি সহনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জুলাইয়ের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। জুলাই মাসকে বিএনপি যথাযথভাবে স্মরণ করে এবং শ্রদ্ধা করে। গত বছরের ন্যায় এবারও এই দিনটিকে বিএনপি পালন করবে।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপি আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার এরুলিয়ায় অবস্থিত বিদ্যমান বিমানফিল্ডকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপন এবং দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য ফ্লাইং অ্যাকাডেমী স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১টায় বগুড়া বিমানবন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং বিমানবাহিনীর বিএএফ ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অফিসার কমান্ডিং (এওসি) এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম শামীমুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় এয়ার ভাইস মার্শাল শামীমুল ইসলাম বলেন, "বগুড়ার এরুলিয়ায় অবস্থিত বিদ্যমান এয়ারফিল্ডকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিমানবন্দরের পাশাপাশি এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বিমানঘাঁটি এবং দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি স্থাপনের কাজও এর আওতায় রয়েছে।"
তিনি বলেন, "এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনে কার্গো সুবিধা চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। বগুড়া ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।"
সভায় বক্তারা বলেন, "বগুড়া বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।" এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি বা স্টেশন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলের অফিসার কমান্ডিং গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুসাইন মুহাম্মদ রায়হান, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীতে, বিয়ের প্রলোভনে বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই ওই নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই, পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী এক সন্তানের জননী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর, তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সে সময়, শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাঁর সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।
গত ২৪ মার্চ, শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কের তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়ার পরও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে, চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর পর, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়ে জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেছেন, "বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।" আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির মো. নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, "বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে ইতিমধ্যে তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, "কোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এদিকে, মামলা ও অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে নানা ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত যুব জামায়াত নেতা মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ