০৪:৩৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীদের সুবিধা দেয়, এমন বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি করিডর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির এই হুমকির পূর্বে, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে বন্ধ করে দেয় এবং এই পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপ করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উপস্থাপন করেছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ: রিজভী
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানাচ্ছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হবে, তা সবাই পাবে, না হলে কেউই পাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুথি মিলিশিয়াদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার, যা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি, বন্ধ করে দেওয়ার একটি পরোক্ষ সংকেত দিচ্ছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ একই সঙ্গে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই সংকীর্ণ বাব–এল–মান্দেব প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে যুক্ত করে, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট।
এদিকে, ইরানের প্রেস টিভিতে খবর বেরিয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) হুথিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও একই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছেন। এই কর্মকর্তা বলেন, এটি করলেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক লাফে ২০০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
মূলত সোমবার, হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে দেশটির অভ্যন্তরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে গত চার বছর ধরে চলা অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন
যদি প্রসঙ্গটি দেখা যায়, হুথিরা আগেও প্রমাণ করেছে যে, তারা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সামরিক সক্ষমতা রাখে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে, এই গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে ইসরায়েল এবং পশ্চিমা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা ‘দুর্বল করতে’ মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন দফায় হামলা শুরু করার মাত্র এক দিন পরেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই নতুন হুমকি প্রদান করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা ধরে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি কোনোভাবে খোলা হবে না। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উপযুক্ত জবাব হিসেবে তারা ইতিমধ্যেই বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: রাহুলের আহ্বান, সব ছাত্রসংগঠনকে ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রায় যোগ দিতে বললেন
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পূর্বে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হতো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন