ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পঞ্চদশ সংশোধনী: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু


পঞ্চদশ সংশোধনী: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের সাথে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয়ে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আজ শুরু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ড. শরীফ ভূঁইয়া।

আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

গত বছরের ১৩ নভেম্বর, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ৩ নভেম্বর, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেলিভারি রুমের ব্যবস্থা না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


ডেলিভারি রুমের ব্যবস্থা না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই সব ক্লিনিকে ডেলিভারি রুমের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি এটি না করা হয়, তাহলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

সোমবার (০৬ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলাপর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন অভিযান চলছে এবং লার্ভা নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে ট্যাবলেটের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি হাসপাতালসমূহে পর্যাপ্ত বেড এবং মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, স্যালাইনের ঘাটতি ছিলো তবে বর্তমানে পাইপ লাইনে অনেক আসছে এবং পরিস্থিতি পর্যাপ্ত।

তিনি আরো বলেন, জ্বর চলে যাওয়ার পরেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হলে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে না।

প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কঠোর নজর দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বিগত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং সরকার হামের ভ্যাকসিন দিতে সফল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, তার মধ্যে ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী হবে নারীরা, যাদের অধিকাংশ মিডওয়াইফারি কর্মী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরবের ৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


গৌরবের ৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পথচলার ৭৩ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একটি ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল, এবং আজ এটি এক বিশাল আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।

গৌরবময় এই দীর্ঘ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি, ও জ্ঞানচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে জমা হয়েছে নতুন কিছু প্রত্যাশা। বিশেষ করে, আবাসন সংকট দূরীকরণ, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এখন প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৮৭৩ সালে রাজশাহী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও, পরবর্তীতে সেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। তারপর রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়।

১৯৫০ সালে ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৫ জন ছাত্রনেতা কারাবরণও করেন।

অবশেষে, প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ এবং প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীর প্রচেষ্টায় ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয় এবং ৬ জুলাই রাজশাহী কলেজে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান— দেশের প্রতিটি বাঁক পরিবর্তনে রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহারের আত্মত্যাগ এ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।

বর্তমানে ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টর আয়তনের এই সবুজ ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী। জ্ঞান বিতরণে নিয়োজিত আছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ জন শিক্ষক। ১২টি অনুষলের অধীনে রয়েছে ৫৯টি বিভাগ ও একাধিক ইনস্টিটিউট। শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ১৭টি আবাসিক হল এবং গবেষকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।

সুদীর্ঘ এই সময়ে রাবি তৈরি করেছে বহু কালজয়ী মানুষ। ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, কিংবা ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেনের মতো অসংখ্য গুণীজন এই ক্যাম্পাসেরই সৃষ্টি।

৭৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় আকাশচুম্বী সাফল্য থাকলেও আবাসন সংকট ও গবেষণায় সীমিত বরাদ্দের মতো কিছু চিরচেনা সমস্যা এখনো কাটেনি। বর্তমানে মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলের সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে আবাসন সংকট ও হলের সিট বাণিজ্য বন্ধ করা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলকে সোমবার (৬ জুলাই) ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে ১০টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। পরে বেলুন-পায়রা ওড়ানো, আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয় উপস্থিত থাকবেন। বিকেলে স্টেডিয়ামে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ

আজ সোমবার শুরু হচ্ছে ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের অভিযোগের বিচার। এর জন্য দেশটির সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে বসবে।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে সারা দুতের্তের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে এই বিচার শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিচার দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিচার শুরু করার আগে রাজধানী ম্যানিলায় সিনেট ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদের মধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তের সমর্থক এবং বিরোধী, উভয় পক্ষেরই বিক্ষোভ হতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তে বা তার আইনজীবীরা আদালতে হাজির থাকতে পারবেন। পুরো বিচার প্রক্রিয়া ৯২ দিন ধরে চলার কথা রয়েছে।

সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন। এর ফলে ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ওই নির্বাচনেই প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অজানা উৎস থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, গোপন রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া কিছু অভিযোগ রয়েছে যেখানে প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ আছে। তবে সারা দুতের্তে এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার শুরুর আগে তিনি এই অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি। তার সমর্থকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট মার্কোস এবং তার রাজনৈতিক মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার ঘনিষ্ঠ সিনেট সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এবং সারা দুতের্তে ২০২২ সালের নির্বাচনে একই জোট থেকে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। সেই সময় ফিলিপাইনে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক পরিবারের সমর্থন একত্রিতকারী এই জোট গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, এবং দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে। রদ্রিগো দুতের্তে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আটক রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিচার আগামী ৩০ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল ভিত্তি তার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান। এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন দরিদ্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, পশ্চিমা দেশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকারের সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যদিও রদ্রিগো দুতের্তে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সারা দুতের্তের অভিযোগ, তার ৮১ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ভূমিকা রয়েছে। দুই পরিবারের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পার্থক্যও লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বাড়তে থাকা তৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তার সরকার।

তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করারও হুমকি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও জেলেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করছে, তবে সারা দুতের্তে প্রকাশ্যে এটার নিন্দা করেননি। এজন্য তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। গত মাসে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সমর্থকদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সারা দুতের্তেকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটে অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন লাগবে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সরকারি পদে থাকার অধিকার হারাবেন।

বিচার শুরুর আগেই দুতের্তে-সমর্থক কয়েকজন সিনেটর আইনী সমস্যায় পড়েছেন। দুতের্তে-ঘনিষ্ঠ সিনেটর জিংগয় এস্ট্রাডাকে গত মাসে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। তবে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দুতের্তে-সমর্থক আরেক সিনেটর রোদান্তে মারকোলেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ এবং সম্পদের ঘোষণায় সেই অর্থ গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। তিনিও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আত্মগোপনে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রদ্রিগো দুতের্তের আমলের হত্যাকাণ্ডে সহঅভিযুক্ত হিসেবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দুতের্তের মাদকবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ

ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরে এসেছে ৫০ জন নারী ও পুরুষের একটি দল। ভারত সরকার বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে পেট্রাপোল থানা পুলিশ বিএসএফের মাধ্যমের তাদের হস্তান্তর করেছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ তাদের গ্রহণ করে। এ সময় দুই দেশের পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ছয়জন নারী ছিলেন। তারা যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।

দেশে ফিরে হুমায়ুন নামের একজন ব্যক্তি জানান, তিনি পাঁচ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে যান। দালালের মাধ্যমে সীমান্তের অবৈধপথ ব্যবহার করে তিনি ভারতের তামিলনাড়ু গিয়েছিল। সেখানে তিনি বাসা-বাড়িতে, গার্মেন্টসে এবং ইটভাটায় কাজ করেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে পাঠায়, যেখানে আদালত তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কারাগারে পাঠায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৫০ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেনাপোল পোর্ট থানার কাছ থেকে গ্রহণ করে তাদের যশোর সংস্থার শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%