ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, পেছনে ভারত


যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, পেছনে ভারত

ভারতকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির ফলে এমন চিত্র দেখা গেছে। আর বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখনও চীন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিগত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। ফলে ভারতের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে এগিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়াকেই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক বছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে আমদানি ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভারতে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন বীজ এবং তুলার আমদানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া, মার্কিন অ্যারোস্পেস জায়ান্ট বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তেও সম্মত হয়েছে সরকার।

এনবিআরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগের বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনও গম আমদানি না করা হলেও বিগত অর্থবছরে দেশটির কাছ থেকে ২২৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের গম আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

সয়াবিন বীজের আমদানি প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬২০ মিলিয়ন ডলার এবং তুলা ক্রয় ২৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৮০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য এবং প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য চিত্রের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ উল্টো। ২০২৫ সাল থেকে আরোপিত একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থার কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি স্থগিত করেছে। অন্যদিকে কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনও দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ তুলে নিয়েছে ভারত।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অবরোধ করা যাবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ এম


হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অবরোধ করা যাবে না

উচ্চ আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল, অবরোধ অথবা ধর্মঘটের আয়োজন করা যাবে না। এই নির্দেশনা প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।

গতকাল রোববার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করে। এর ফলে বাস মালিক সমিতি এবং সড়ক পরিবহন সমিতির পক্ষ থেকে কোনো হরতাল বা অবরোধের আয়োজন করা সম্ভব হবে না।

আদেশের প্রেক্ষিতে বিআরটিএর অ্যাডভোকেট রাফিউল ইসলাম মন্তব্য করেন, "হাইকোর্টের কোনো জাজমেন্ট অ্যান্ড ভার্ডিকের বিরুদ্ধে কোনো স্ট্রাইক বা হরতাল ডাকতে পারবে না।" তিনি আরও বলেন, "যদি ডাকতে হয়, তাহলে প্রপার মেজার নিতে বলা হচ্ছে রেসপন্ডেন্ট নম্বর ২ হোম মিনিস্ট্রিকে, বিআরটিএ-কে এবং বিআরটিসিকে।" বাস মালিক সমিতি, ট্রান্সপোর্ট রিলেটেড মালিক অ্যাসোসিয়েশন বা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন, কেউই এই ধরনের ডাক দিতে পারবে না। মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সমিতি, এরা কেউ ডাক দিতে পারবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ এম


মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে তল্লাশি চালানোর পর ৪৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় এই মেগা অভিযানের চিত্র উঠে এসেছে। আটক বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববার বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি এবং সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সি ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী রয়েছেন। আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশিদের সংখ্যা স্পষ্টভাবে বেশি দেখা যায়। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন। কুয়ালালামপুরের আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযান চলাকালীন লেবুহ পুডুতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ঘটে। কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়, যা পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে। এছাড়া বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গের ২৫২ মাদরাসায় তালা, বন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ এম


পশ্চিমবঙ্গের ২৫২ মাদরাসায় তালা, বন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেখানে অনুমোদনহীন মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদরাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাইয়ের পর।

এছাড়া, আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দেওয়া হয়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাদরাসাগুলোর অবস্থা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ২২ জুলাই রাজ্যের সব জেলায় মাদরাসাগুলো নিয়ে সমীক্ষা পরিচালিত হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি অনুমোদন, পরিকাঠামো, পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়।

সমীক্ষার পর দপ্তরের হাতে আসা তথ্যে উল্লেখ করা হয়, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদরাসার সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু মাদ্রাসা খারিজি মাদরাসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলছে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সমীক্ষার দাবির ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ১০০টি মাদরাসার কাছে প্রয়োজনীয় নথি এবং অনুমোদনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। যদি তাদের জবাব সন্তোষজনক না হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে কতগুলো অনুমোদিত এবং কতগুলো অনুমোদনহীন মাদরাসা রয়েছে, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলা থেকে মাদরাসাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মাদরাসার সরকারি অনুমোদন রয়েছে এবং নিয়ম মেনে চলছে, সেগুলো চালু থাকবে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ

দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯। নতুন নীতিতে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের আমদানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র না খুলে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায়ও কিছুটা নমনীয়তা তৈরি হবে।নতুন নীতির আওতায় রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উপকরণ সংগ্রহের পাশাপাশি বিনা মূল্যে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নতুন নীতির বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসআরও নম্বর ৩০৮-আইন/২০২৬, গত ২৪ আগস্ট-এর মাধ্যমে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ জারি করা হয়। নতুন আদেশটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আমদানি নীতি আদেশ জারি না হলে বর্তমান আদেশের বিধান পরবর্তী নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারি গেজেটেও ২৪ আগস্টের আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে আগামী কয়েক বছর দেশের আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি হবে প্রধান নীতিগত কাঠামো। আমদানিকারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ নীতির বিধান অনুসরণ করেই আমদানি ও সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনা করতে হবে।

উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ
নতুন আমদানি নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগ। আমদানি নীতি আদেশের অনুচ্ছেদ ৫(ম)-এ এ সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেও বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রক্রিয়াগত নমনীয়তা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালনার সুযোগ বাড়বে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের জন্য সুবিধা যেমন তৈরি হবে, তেমনি ব্যাংকগুলোর জন্য যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধিবিধান থেকে ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

এলসি ছাড়াই মূল্যসীমা ছাড়া আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের আমদানির ক্ষেত্রে। আমদানি নীতি আদেশের অনুচ্ছেদ ৬(৩) অনুযায়ী শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য সব পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র না খুলে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা যাবে।

এর ফলে আমদানিকারকদের জন্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানির ব্যবস্থা করা যাবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যক্রম দ্রুত করার সুযোগ দিতে পারে।

তবে এই সুবিধার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের পণ্য যেকোনো শর্তে আমদানি করা যাবে। আমদানি নীতি আদেশে পণ্যের শ্রেণি, নিষেধাজ্ঞা, নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান রয়েছে। ফলে এলসি না খুলে আমদানির সুযোগ থাকলেও আমদানিকারককে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব বিধান অনুসরণ করতে হবে।

রফতানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উপকরণ সংগ্রহে সুবিধা
রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৫-এ রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিধান বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে। একই সঙ্গে বিনা মূল্যে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।

রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও সময় কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে উপকরণ সংগ্রহের এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পোশাকসহ বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে সময়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ২৫-এর আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যারহাউস পদ্ধতির প্রযোজ্যতা নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানি ব্যবস্থাকে বন্ড সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারীদের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে ৩০-এর পার্ট-জি অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার অনুমতি ছিল। নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওই সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট পার্ট-জির বিধান প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধিত হিসেবে গণ্য হবে বলে নতুন সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
এতে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আমদানি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নীতিগত সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগের নির্দেশনার সঙ্গে নতুন আমদানি নীতির কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে নতুন নীতির বিধানকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকের ওপর দায়িত্ব বাড়ল
নতুন আমদানি নীতিতে আমদানিকারকদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব কমেনি। বরং আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির সময় আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উপকরণ সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে আমদানি নীতি আদেশের বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থায় অনুসৃত বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকরা নতুন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চুক্তি, পণ্যের বিবরণ এবং লেনদেনের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ এলসি বাধ্যতামূলক না থাকলেও ব্যাংকিং তদারকি পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে না।

ব্যবসা সহজ করার পথে নতুন পদক্ষেপ
নতুন নীতির মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো আমদানি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা তৈরি করা। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে মূল্যসীমা ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ রফতানিমুখী শিল্পের সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করবে।
তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধান এবং আমদানিকারকদের মধ্যে নতুন ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগের ওপর। একই সঙ্গে আমদানি নীতির অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক বিধানও সমানভাবে কার্যকর থাকবে।

দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কাঠামো
২০২৬-২০২৯ মেয়াদের নতুন আমদানি নীতি আদেশকে শুধু আমদানি সহজ করার একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ তাৎপর্য পাওয়া যাবে না। এটি আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনা, শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, বাণিজ্যিক আমদানি এবং রফতানিমুখী শিল্পের উপকরণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো।

বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে এলসি ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ এবং রফতানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের বিধান ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন নমনীয়তা আনতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের বিধানের সঙ্গে নতুন নীতির সমন্বয় রফতানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলারে তাই ব্যাংকগুলোকে শুধু নতুন নীতির বিষয়ে অবহিত করা হয়নি; বরং আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত প্রতিটি লেনদেনে নতুন নীতির বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন আমদানি নীতিতে একদিকে আমদানি প্রক্রিয়ায় নমনীয়তা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ন্ত্রিত লেনদেন নিশ্চিত করার দায়িত্বও বহাল রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লেনদেনে বিকল্প পদ্ধতি বাড়ানো, রফতানিমুখী শিল্পে উপকরণ সংগ্রহ সহজ করা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ন্ত্রিত কাঠামো বজায় রাখা। এর ফলে আমদানি ব্যবস্থায় গতি ও নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি রফতানি শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%