মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১১ এম
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি খাত বর্তমানে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, বিগত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি : ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধা প্রদান করেছে। বাসাবাড়ি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এসব প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি মূল্যে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকট নিরসনে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগে কোরিয়ান, চাইনিজ এবং আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসংবলিত আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে একটি জ্বালানি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন—এই দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত এবং দুর্নীতি কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হংকং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য একটি ডেডিকেটেড ইকুইটি ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে তা স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক।
এ ছাড়া এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উটের প্রস্রাবের উপাদান থেকে তৈরি পণ্য ব্যবহার করলে কি ক্যানসার সারানো সম্ভব? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবির ব্যাপারে সৌদি আরব তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় থাকা পণ্যটি ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ নয়; বরং এটি শরীরের দৈনিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করার জন্য খাদ্যসম্পূরক হিসেবে নিবন্ধিত। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য পণ্যটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানাচ্ছে, উটের মূত্রের সক্রিয় উপাদান থেকে তৈরি ক্যানসারের ওষুধ অনুমোদন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা নাকচ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ (এসএফডিএ)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিকে মিথ্যা বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসএফডিএ জানায়, আলোচনায় থাকা পণ্যটি ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত ওষুধ নয়। এটি খাদ্যসম্পূরক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, নিবন্ধিত পণ্যটিতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরের প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করা। পণ্যটির অনুমোদিত ব্যবহার শুধুমাত্র খাদ্যসম্পূরক হিসেবে সীমাবদ্ধ। রোগের চিকিৎসায় এটি কার্যকর—এমন কোনো অনুমোদিত দাবি নেই।
সৌদি এই কর্তৃপক্ষ আবারও স্পষ্ট করেছে, ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য পণ্যটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে এর বিপরীত দাবি করে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোও নাকচ করেছে সংস্থাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের রিয়েলিটি শো ‘তামাশা ৫’-এর রানারআপ এজরা আয়েশা জানিয়েছেন যে, তিনি এখন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০টি বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কিছু বিবাহিত পুরুষের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে, এজরা বিয়ের প্রস্তাব এবং তার জীবনসঙ্গী সম্পর্কে নিজের পছন্দের কথা তুলে ধরেন।
এজরা জানান, তার দাদি চেয়েছিলেন যে, তিনি যেন চাচাতো ভাইকে বিয়ে করেন। তবে এজরা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি বিয়ের আগে নিজের ক্যারিয়ারকে গুছিয়ে নিতে চান।
অভিনেত্রী আরও জানান, এক বিবাহিত রাজনীতিবিদ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তাকে বিয়ে করলে বিভিন্ন বিলাসী সুযোগ-সুবিধা যেমন গাড়ি, ক্রেডিট কার্ড এবং ভ্রমণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন এজরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক বিবাহিত পুরুষও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এজরার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন যে, তার স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে রাজি আছেন।
তবে এজরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি বিবাহিত কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে চান না। তিনি অন্য কোনো নারীর সংসার ভাঙতে চান না।
এজরা বলেন, তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, যিনি নারীদের সম্মান করবেন এবং শুধুমাত্র তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।
সূত্র: ডেইলি পাকিস্তানি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কেনাকাটার আড়ালে জাল টাকা সরবরাহের অভিযোগে স্থানীয় জনতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চার নারীকেই আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজারের কয়েকটি দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক নারীদের মধ্যে রয়েছেন চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বেপারি বাড়ির মিন্টু বেপারির স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া গ্রামের আবদুল মালেকের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৩০), একই এলাকার আনোয়ার গাজীর স্ত্রী পাখি (৩৮) এবং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রত্যাশী গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪৫)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে ওই চার নারী দলবদ্ধভাবে গল্লাক বাজারের কয়েকটি দোকানে যান। তারা কম দামের পণ্য কিনে ১ হাজার টাকার জাল নোট দেন। এরপর বাকি টাকা আসল নোট হিসেবে ফেরত নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক ব্যবসায়ীর সন্দেহ হলে তিনি নোট পরীক্ষা করে একই সিরিয়াল নম্বরের একাধিক ১ হাজার টাকার নোট দেখতে পান। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর ছিল ‘ক-ছ ৭৭৬৭০৮২’। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ওই চার নারীকে ঘিরে রাখেন।
পরে তাদের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী বললেন, বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের জাল টাকা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ওই নারীদের ধরে পরিষদে নিয়ে আসেন। পরে তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। চার নারীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা জাল নোটও জব্দ করা হয়।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আল আমীন তালুকদার বললেন, এ ঘটনায় মামলা করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আল আমীন তালুকদার আরও বললেন, জাল টাকা সরবরাহের ঘটনায় এই নারীদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না বা এর পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানব ইতিহাসের সূচনা থেকে বিবাহ একটি শালীন, পবিত্র ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইসলাম ধর্মে বিয়েকে কেবল একটি সামাজিক প্রথা হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় ইবাদত। নবী করিম (সা.) যুবসমাজকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত বিয়ে করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, কারণ এটি লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে এবং চোখকে সংযত রাখে। তবে, এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে শরিয়তের কিছু নির্দিষ্ট গণ্ডি ও নীতিমালা রয়েছে। বংশের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইসলাম কিছু নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে বিবাহকে চিরতরে বা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা এবং হাদিসের আলোকে কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণ হারাম, যা নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
ইসলামে চিরতরে বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ যেসব নারী
পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু নারীর একটি স্পষ্ট তালিকা দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে একজন পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা চিরতরে হারাম। বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) এবং দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই ১৪ শ্রেণির নারী নির্ধারিত হয়েছেন। তারা হলেন—
১. মা: দাদী ও নানী— যত ওপরের স্তরেরই হোন না কেন।
২. সৎ মা: বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীরাও এর অন্তর্ভুক্ত)।
৩. মেয়ে: পৌত্রী (নাতনি) ও দৌহিত্রী—যত নিচের স্তরেরই হোক না কেন।
৪. বোন: সহোদর, বৈমাত্রেয় (বাবার দিক থেকে) এবং বৈপিত্রেয় (মায়ের দিক থেকে) সব বোন।
৫. ফুফু: বাবা ও দাদার তিন প্রকারের বোন।
৬. খালা: মা, নানী ও নানীর তিন প্রকারের বোন।
৭. ভাতিজী: ভাই ও তার তিন প্রকারের সন্তানদের মেয়েরা।
৮. ভাগিনী: বোন ও তার তিন প্রকারের সন্তানদের মেয়েরা।
৯. দুধ মা: যে নারী শৈশবে স্তন্যপান করিয়েছেন।
১০. দুধ বোন: একই দুধ মায়ের অন্য সন্তান (তার মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।
১১. শাশুড়ি: স্ত্রীর মা ও তার ওপরের বংশের নারীরা।
১২. সৎ মেয়ে: যে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা হয়েছে, তার পূর্ব ঔরসজাত কন্যা।
১৩. পুত্রবধূ: নিজ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী—যত নিচের স্তরেরই হোক।
১৪. দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা: অর্থাৎ কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তার বোনকে বা তার ফুফু, খালা, ভাতিজি ও ভাগিনিকে একত্রে বিবাহ করা হারাম।
এই নিষিদ্ধতার মূল ভিত্তি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—
وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا - حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُختِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّپَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمْ اللَّاتِي دَخْلْتُمْ بِهِنَّ...
‘আর তোমরা বিবাহ করো না সেই নারীদিগকে, যাদেরকে তোমাদের পিতারা বিবাহ করেছিল; তবে যা অতীতে হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা, ঘৃণাভাজন ও মন্দ রীতি। তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগিনি, সেই দুধ-মাতা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা এবং তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সেই স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের কোলে প্রতিপালিত হয়...।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ২২-২৩)
১৪ নারী ছাড়াও আরও যেসব ক্ষেত্রে বিবাহ হারাম
উপরে বর্ণিত ১৪ জন ছাড়াও পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে আরও কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিকহের কিতাবাদীর আলোকে সেই ক্ষেত্রগুলো হলো—
১. একসঙ্গে চারের অধিক নারীকে বিবাহ করা।
২. এমন নিকট সম্পর্কের দুজন নারীকে একসঙ্গে বিবাহ করা, যাদের একজন যদি পুরুষ হতো, তবে অন্যজনকে বিবাহ করা বৈধ হতো না (যেমন—ফুফু ও ভাতিজিকে একসঙ্গে রাখা)।
৩. স্বাধীন নারীকে বিবাহ করার পর কোনো ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা (শর্ত সাপেক্ষে)।
৪. অন্য পুরুষের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তাকে বিবাহ করা।
৫. মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের বা মুশরিক নারীকে বিবাহ করা।
৬. কোনো নারীর জন্য নিজের গোলাম বা দাসকে বিবাহ করা।
৭. কোনো স্বামীর জন্য নিজের তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনর্বিবাহ করা—যতক্ষণ না অন্য পুরুষের সঙ্গে তার বৈধ বিয়ে হয় এবং সেই স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায় (তাহলিল বা হালালা ছাড়া)।
৮. যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করা হয়েছে বা উত্তেজনার সঙ্গে স্পর্শ করা হয়েছে, তার মা, নানি, মেয়ে বা নানিকে বিবাহ করা হারাম।
৯. অন্যের বৈধ বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা।
ইসলামি শরিয়তে বিয়ের বিধান অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পবিত্র। রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করতেই আল্লাহ তাআলা নিষিদ্ধ নারীদের এই সীমারেখা টেনে দিয়েছেন। এই নিয়মগুলো মেনে চলা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং মানব সভ্যতার নৈতিকতা ও বংশমর্যাদা রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বিবাহ সংক্রান্ত এই বিধানগুলো সঠিকভাবে জানা এবং তা মেনে চলা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আমাদের শরিয়তের প্রতিটি বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ