০৯:২৯ পি.এম
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার মধ্যে পলাশিফতেপুর, দাদপুর, চকরাজাপুর চরে তাদের বাড়ি অবস্থিত। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নৌকা ব্যবহার করে বাঘা সদরে গিয়েছিলেন তারা। কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে হবে তাদের। মূল পদ্মা নদী নৌকায় পার হয়ে তারা। কিন্তু নিজ নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে পানির মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় তাদের।
বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে মোট ১৫টি চর রয়েছে। এসব চরের অধিকাংশ মানুষ ভূমিহীন অসহায় খেটে খাওয়া নাগরিক। তারা প্রতিদিন প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপের সম্মুখীন হয়ে বসবাস করেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ শুকনো মৌসুমে কৃষি কাজ করে এবং বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। চরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক মন্থর। তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলে মিশে বসবাস করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছেন তারা।
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, এক সপ্তাহ আগে থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে পাকা রাস্তা ডিঙিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পাকা রাস্তার উপর হাটু পানি রয়েছে। এই পানি মাড়িয়ে মানুষ কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন। কালিদাসখালী চরের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মিলন খান বলেন, প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চরে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। পানির মধ্যে দিয়ে যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
আরও পড়ুন: রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় হাল্ট প্রাইজের নতুন কর্মসূচি
চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার এবং সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে পদ্মার ভাঙনে প্রায় সহস্রাধিক বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, হাজার হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। এই ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে হাজারো পরিবার। পদ্মার চরের মধ্যে ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। পদ্মায় পানি বাড়ছে, যার ফলে স্বাভাবিকভাবে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন