ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে যুবশক্তির হারিকেন মিছিল


তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে যুবশক্তির হারিকেন মিছিল

জ্বালানি তেলের দাম অসহনীয়ভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি রাজধানীতে হারিকেন মিছিল করেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলামোটর থেকে শুরু হয়ে এই মিছিলটি শাহবাগের পরীবাগ পেট্রোল পাম্পের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, “সরকার যদি জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়া হবে।”

তারিকুল ইসলাম এসময় আরও বলেন, এর আগে সরকার প্রত্যেককে কথা দিয়েছিল যে আর তেলের দাম বাড়ানো হবে না। অথচ আমরা দেখেছি, যখন দেশের মানুষ ঈদ-আনন্দে ব্যস্ত, তখন হঠাৎ করে রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সব নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, সরকার বারবার তেলের দাম বাড়াচ্ছে, তারা কি জনসাধারণের কথা একবারও ভাববে না?

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গুলশান-বনানীর সরকার। তারা শুধুমাত্র উচ্চ বিত্তের মানুষদের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়; জনসাধারণের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয় না। না হলে এত দ্রুত আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি করত না।

সরকার জানিয়ে দেয়, তারা জ্বালানি ক্ষেত্রে লুটপাট করছে। যুবশক্তির সভাপতি বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার যেমন জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে, বর্তমান সরকারও ঠিক একইভাবে লুটপাট করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোগান্তির সমাধান না করে নিজের পিআর ক্যাম্পেইন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তার পিআর ক্যাম্পেইন দেখলেই মনে হয়, জনগণের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে তিনি গুলশান-বনানীর প্রধানমন্ত্রী হতে চান।

ইসলামী ব্যাংক দখলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের উচিত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ইস্যুগুলোর সমাধান করা। কিন্তু আমরা দেখেছি, বিগত পলাতক ফ্যাসিজম সরকারের মতো করে তারা ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। আজ ইসলামী ব্যাংক দখলের প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা করে সরকার প্রমাণ করেছে যে, সরকার এই দেশে বিএনপি বাদে আর কাউকে থাকতে দিতে চায় না। তারা চায় বিগত সরকারের মতো গৃহপালিত বিরোধী দল। জনগণ বাংলাদেশে আর গৃহপালিত বিরোধী দল দেখতে চায় না।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এই কর্মসূচিতে সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলসহ জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ এম


প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সের

চলতি মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ‘ইউরোসেটরি’-তে ইসরাইলি সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে মেলায় শুধু সরকারি কর্মকর্তারাই নন, বরং ইসরাইলি অস্ত্র নির্মাতারাও বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। প্রদর্শনীতে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র বা সামরিক ব্যবস্থা প্রদর্শন করতে পারবে না ইসরাইলের কোনো কোম্পানি। তাদের কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত পণ্য (এয়ার ডিফেন্স প্রোডাক্ট) প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

মূলত একটি বিতর্কিত ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্স এই সিদ্ধান্ত নেয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়া ফ্লোটিলা কর্মীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং মন্ত্রী বেন-গভির তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন।

এই ঘটনার জের ধরেই ফরাসি প্রশাসন ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ: এটিএম আজহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ এম


আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ: এটিএম আজহার

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এবং রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। মিডিয়ার সামনে বসে, প্রতিদিন পেপার পত্রিকা দেখে দেশের কোথাও না কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

সোমবার বিকেলে বদরগঞ্জ হাইস্কুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিন চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের লোকজনই জড়িত। তাদের দলের লোকজনের বাড়তি ইনকামের আশায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটছে। বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হয়েছে যে ব্যবসায়ী ও চাকরি জীবী সহ দেশবাসী ভয়ে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়ার পরে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিকে কোন খেয়ালই করছেন না।

এটিএম আজহার বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন, বাণিজ্যমন্ত্রী, এলজিইডি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সহ সকল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে তিনি সংবিধান ছাড়া কথা বলেন না। তিনি সব বিষয়ে পারদর্শী। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক নীতিবাক্যের কথা বলেন। কিন্তু সে নীতির বাস্তবায়নে তার যথেষ্ট অনীহা। সভা সেমিনারে তাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে মাদক জুয়ার বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু তদন্ত করলে দেখা যায় যে, মাদক জুয়া সহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের লোকজনই জড়িত।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও ভালো করে জানেন যে, মাদক নির্মূল করতে না পারলে এ দেশে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, রাহাজানি এবং নারীদের প্রতি অন্যায় অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম কোনভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই যে কোন মূল্যে সবার আগে সব ধরনের মাদককে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং অন্যায় অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্র এ দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে, কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদক উৎপাদনকারী কারখানা বসিয়েছে। সেখান থেকে মাদক সরবরাহ করে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং উদীয়মান যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তারা চায় এ দেশের মানুষ মেধাশূন্য হয়ে মাদক সেবনে উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে। মাদক বিক্রির একটি বড় অংশ সরকারি দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেক উচ্চ পর্যায়ে চলে যায়, তাই মাদক নির্মূল হয় না।

এটিএম আজহার শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে জানান, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে ধর্ষক জড়িত, তিনি নিজেও পুরোপুরি মাদকের সঙ্গে আসক্ত ছিলেন। ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি নিজেও মাদক সেবন করেছিল বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তাই সবার আগে আমাদের মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদক নির্মূলের বিকল্প নেই। সুতরাং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো, সবার আগে মাদক নির্মূল করে যুব সমাজকে রক্ষা করুন এবং বাংলাদেশের রক্ষা করুন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে আজহার বলেন, ইসলামী ব্যাংকে লুটপাটের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা ব্যাংক ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামী ব্যাংকটি একটি ইসলামী আদর্শিক ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু একটি মহল ব্যাংকটি সুদ মুক্ত হয়ে পরিচালিত হওয়ার পথে বাধা দিচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা এস আলমের টাকা পাচারকারীকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল হক, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা মাসুদ রানাসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ এম


লেবাননে ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলছে

ইরানকে চাপে ফেলতে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে খবরের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা বলছেন যে, লেবাননে চলমান হামলা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইসরাইল প্রতোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দর আল এতাইবি এই লক্ষণীয় মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইল খুব ভালো করেই জানে যে, ইরানকে সরাসরি স্পর্শ না করে আঘাত করার এবং দেশটির রক্তক্ষরণ ঘটানোর সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হলো লেবানন।

এই হামলার পেছনে ইসরাইলের বহুমুখী কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে বলে এই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন। চলমান পরিস্থিতির ভেতর বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিণতির প্রতিটিই ইসরাইলের অনুকূলে যেতে পারে। প্রথমত, যদি কোনো আলোচনা বা সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ইসরাইল পুনরায় পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাবে, যা তাদের মূল লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, еবং যদি লেবাননকে এমন এক চরম সংকটে ঠেলে দেওয়া যায় যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত করবে, তবে তা ইসরাইলের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করবে। আর যদি এই সবকিছুর কোনোটিই না ঘটে, তবে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের বসতি সম্প্রসারণের দিকে এগিয়ে যাবে। ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইসরাইল তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের ওপর পূর্বে আরোপিত ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখাগুলো পুনর্বিবেচনা করেছেন। এর কারণ হলো, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এখন বুঝতে পেরেছে যে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা মূলত ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।

অধ্যাপক আল এতাইবি আরও সতর্ক করেছেন যে, এই ক্রমাগত বিমান হামলা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ তেহরানকে একটি কঠিন উভয়সংকটে ফেলবে। এর ফলে, ইরান হয়তো পুনরায় সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে, যার পুরো দায় তাদের ওপর বর্তাবে। অথবা এই চাপের মুখে ইরান-লেবানন অক্ষ বা জোট ভেঙে যাবে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিটি ঘটলে, তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রকল্প এবং তাদের প্রক্সি বা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি বিরাট ধাক্কা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলছে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলছে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে তেহরান কোনও ধরনের আলোচনা বা সংলাপে লিপ্ত নেই। তিনি ইরানের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে এই মুহূর্তে শত্রুপক্ষের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে আলোচনা চলছে না এবং ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও তেহরান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আব্বাস আরাগচির বরাত দিয়ে আজিজি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কৌশলগত পদ্ধতি তৈরি করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, এবং বৈরী রাষ্ট্রগুলোর কোন যুদ্ধজাহাজ বা নৌযানকে এটি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।

শত্রুপক্ষ ভেবেছিল ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু ইসলামিক রিপাবলিক দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রয়েছে, যাদের একটির রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনী। এর আগে কেউ কল্পনা করতে পারেনি যে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

ক্ষেত্রের নিরাপত্তার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নির্ভরশীল মনে হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি তা পাল্টে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

চলতি যুদ্ধে যে দেশগুলো মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেয়নি, তারা নিরাপদ থেকেছে। পক্ষান্তরে, মার্কিন ঘাঁটির আমন্ত্রক দেশগুলো সুরক্ষিত থাকতে পারেনি। এটি প্রমাণ করে যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের সাথে ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যার ফলস্বরূপ দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ নামক একটি ব্যাপক পাল্টা অভিযান চালায়। প্রায় ১০০ তরঙ্গের এই অভিযানে শতশত ব্যালিস্টিক এবং হাইপারসনিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে মার্কিন এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়।

যুদ্ধের ৪০তম দিনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং পরবর্তীতে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের অতিরিক্ত দাবি ও অবস্থান পরিবর্তনের কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ইরান নতুন কোনও প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ তেহরানের তেল রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের পথে বন্ধ করার যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%