ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পে স্কেলভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি: অতীতের হার ও এবার প্রত্যাশা


পে স্কেলভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি: অতীতের হার ও এবার প্রত্যাশা

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কত বাড়তে পারে, এ নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট কৌতূহল।

স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন পর্যন্ত মোট আটবার পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। যার সবশেষটি হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হারে (বর্তমানে পাঁচ শতাংশ) বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি হলেও, নতুন করে আর আনুষ্ঠানিকভাবে বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসেনি। নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু মূলত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য নতুন পে স্কেলের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে নবম জাতীয় পে কমিশন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির যে প্রতিবেদন দিয়েছিল, সেখানে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। বর্তমানের যে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, সেটিকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাবিত হয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতা বাড়লো বা কমলো, তার চেয়ে জরুরি শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সংস্কার ও কর্মসংস্থান’

কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ের জন্য একটি পৃথক কমিটি গঠন করে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। পে কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পর থেকেই বেতন বৃদ্ধির শতাংশ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসছে।

এক্ষেত্রে অতীতে বাংলাদেশের যে পে স্কেলঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে কী পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল, সেই আলোচনাও রয়েছে।

নবম জাতীয় পে স্কেলের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কবে কত বেতন বেড়েছিল, সেই প্রসঙ্গে বলা যায় যে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ১৯৭৩ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল। মূলত ওই সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে পাকিস্তান আমলের পে স্কেল ভেঙে একটি নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

দশটি গ্রেড রেখে ঘোষিত ওই পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ১৩০ টাকা, আর সর্বোচ্চ বেতন ছিল দুই হাজার টাকা। যদিও ওই সময় পুরোপুরি এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। যেখানে ১০টি গ্রেডের পরিবর্তে ২১টি গ্রেড বা ধাপের প্রবর্তন করা হয়।

ওই পে স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ছিল ২২৫ টাকা, আর সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে ৭৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল পঞ্চাশ শতাংশ।

১৯৮৫ সালে তৃতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। যেখানে একশ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ওই পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন, ১২২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে পাঁচশ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে শতভাগ বাড়িয়ে ছয় হাজার টাকার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালে ঘোষিত চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নয়শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা আগের পে স্কেলের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি ছিল। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে দশ হাজার টাকা করা হয়।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রী: স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে

বাংলাদেশে পঞ্চম পে স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ওই পে স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার পাঁচশ টাকা করা হয়।

সর্বোচ্চ ২৩ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন দুই হাজার ৪০০ টাকা করা হয় ২০০৫ সালে ঘোষিত ষষ্ঠ পে স্কেলে। এসময় সর্বোচ্চ বেতনভুক্তদের ৫৩ শতাংশ এবং সর্বনিম্নদের ৬০ শতাংশ বেতন বেড়েছিল।

২০০৯ সালে ঘোষণা করা হয় সপ্তম পে স্কেল। যেখানে সর্বনিম্ন গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়িয়ে করা হয় চার হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবশেষ বেতন কাঠামো অর্থাৎ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বেড়ে আট হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকায় হয়েছিল।

আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

নবম পে স্কেলের কাজ কতদূর? অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পরে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির একটি প্রতিবেদন জমা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় পে কমিশন। যদিও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নে ২১ এপ্রিল একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পর থেকেই বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা দিয়েছে, তবে এখনও নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

আরও পড়ুন: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যাপকশূন্য ৮ বিভাগ, সংকটে পাবিপ্রবির একাডেমিক কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


অধ্যাপকশূন্য ৮ বিভাগ, সংকটে পাবিপ্রবির একাডেমিক কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) আটটি বিভাগে বর্তমানে কোনো অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি অনুষলের অধীন ২১টি বিভাগের মধ্যে যে সংখ্যা অধ্যাপক আছেন তা মাত্র ১৩টিতে ৩৫ জন। এ অভিজ্ঞ শিক্ষকের সংকটের কারণে শিক্ষা, গবেষণা, এবং থিসিস তদারকি সহ উচ্চশিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান সময়ে ২১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে সর্বাধিক সাতজন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ছয়জন অধ্যাপক আছেন। এছাড়া গণিত, ইইসিই ও আইসিই বিভাগে তিনজন করে অধ্যাপক রয়েছেন; ইইই, ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিসংখ্যান বিভাগে দুজন করে অধ্যাপক আছেন এবং সিএসই, অর্থনীতি ও ইতিহাস বিভাগে মাত্র একজন করে অধ্যাপক রয়েছেন।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এত দীর্ঘ সময় পরও ফার্মেসি, স্থাপত্য, রসায়ন, সমাজকর্ম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ইংরেজি, লোকপ্রশাসন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক পায়নি। অভিজ্ঞ একাডেমিক নেতৃত্বের অভাবে, শিক্ষার্থীরা থিসিস ও গবেষণার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না, এই কারণেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

অধ্যাপক সংকটের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের অবস্থাও প্রকট। সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ২১৩ জন। এর মধ্যে বর্তমানে ৫৫ জন শিক্ষছুটিতে আসনে আছেন। মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকা উচিত, কিন্তু পাবিপ্রবিতে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন।

এছাড়া, শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে ১৭ জনের ছুটির মেয়াদ শেষ হলে তারা কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। চারজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম জানালেন, যাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগদান করেননি, তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক পাওনা আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভায় এ প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে জালিয়াতির অভিযোগে জরিমানার মুখে ভারতীয় আইনজীবী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে জালিয়াতির অভিযোগে জরিমানার মুখে ভারতীয় আইনজীবী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী মক্কেলদের পক্ষে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত একটি অভিবাসন আইনজীবী মোটা অঙ্কের জরিমানার হুমকি মুখে পড়েছেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার (৪ কোটি রুপি) দেওয়ানি জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ২৮ জুলাই জরিমানার আবেদন করা হয়েছে, এবং বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।

সুরজ রাজ সিং নামের এই আইনজীবী পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মক্কেলদের হয়ে অভিবাসন মামলা পরিচালনা করেন। তিনি ভারতের নাগরিকদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা লড়েন। অভিযোগ উঠেছে, সুরজ রাজ সিং ৫৪টি রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলায় ১১৮টি জালিয়াতিপূর্ণ নথিপত্র তৈরি ও জমা দিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি আবেদনে একই ভাষা, বিবরণ এবং তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিভিন্ন ব্যক্তির করা আবেদনের নিপীড়নের বিবরণগুলোও হুবহু কপি-পেস্ট করা বলে মনে হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ ডলার জরিমানা দাবি করা হয়েছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, এই ধরনের জালিয়াতিপূর্ণ আশ্রয়ের দাবি মার্কিন জনগণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের দেশছাড়া করতে বিলম্ব ঘটায়।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যে প্রশাসন এই ধরনের মামলায় জড়িত ব্যক্তি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

সুরজ রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে জরিমানার আবেদন শঙ্কিত করেছে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুরজ সিং যে ৫৪টি আবেদন করেছিলেন, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে, আবেদনকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করে ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যাতে তারা ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারেন।

এলাকাভিত্তিক আইনজীবীর এ ঘটনার পর ভারত বা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের তৈরি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখন মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দ্বারা অত্যন্ত কড়া নজরদারির মধ্যে আসবে। জমা দেওয়া নথিপত্রের খুঁটিনাটি যাচাই করা হবে।

এতে আবেদন নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগবে। আশ্রয়ের অনুমতি পাওয়ার হারও অনেক কমে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সাথে এই ঘটনা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীরের পথচলা আরো অনেক কঠিন করে তুলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বর্ণ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরে সরকারের নীতিগত সহযোগিতার প্রশংসা বাজুসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


স্বর্ণ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরে সরকারের নীতিগত সহযোগিতার প্রশংসা বাজুসের

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান স্বর্ণ খাতকে একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় এনে একে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও নীতিগত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী নীতিগত সহায়তার ফলে স্বর্ণ খাত আজ ফরম্যালাইজড ও শৃঙ্খলবদ্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। সরকার ব্যবসাবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ভ্যাট, টার্নওভার ট্যাক্স এবং উৎস কর হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নিয়ে এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে যশোরের হোটেল ওরিয়নে খুলনা বিভাগীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাজুস সভাপতি এসব কথা বলেছেন।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জুয়েলার্স সমিতির ৩৭টি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নিয়েছেন।

মতবিনিময় সভায় বাজুস সভাপতি জানান, বৈধ উপায়ে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশীয় স্বর্ণ খাত এখন রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জুয়েলারি রপ্তানির তালিকায় একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের যেসব সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করেছে, ব্যবসায়ীরা তা শতভাগ কাজে লাগাতে চান।

খুব শিগগিরই স্বর্ণ আমদানিতে আরও সহজীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সকল লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। এর ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে স্বর্ণের বাজার সফলভাবে বিদেশের মাটিতে প্রসারিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত বিষয়ে বাজুস সভাপতি বলেন, যে পণ্য স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনেরা ব্যবহার করে, সেই পণ্য কখনই স্মাগলিং হতে পারে না। এ দেশে কিছু অসাধু ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিদেশি সিন্ডিকেটের চক্রান্তের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ব্যবসা বৈধতা অর্জন করতে পারেনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বাজুসের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়, বাজুসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আজাদ আহমেদ, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমীর ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীনসহ খুলনা বিভাগীয় কমিটির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশজুড়ে সমানভাবে উন্নয়ন হচ্ছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


দেশজুড়ে সমানভাবে উন্নয়ন হচ্ছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কে ভোট দিয়েছে এবং কী দেয়নি সেটি বর্তমান সরকার বিবেচনা করছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আজ শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া থেকে রাজগঞ্জ জিসি সড়কের চার কিলোমিটার সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন শেষে এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সড়কটি সংস্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম ভোট পেয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির ফলস্বরূপ এই চাঁচড়া ইউনিয়নে প্রথম চার কোটি টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া, যশোরের এই চাঁচড়া ইউনিয়নে প্রথম ফ্যামিলি কার্ডও প্রদান করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে উপস্থিত হয়ে যশোরে যে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধন করেছেন, সেটিও এই চাঁচড়া ইউনিয়নে অবস্থিত।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের মৌলিক অধিকার ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমসহ জেলা বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া-রাজগঞ্জ সড়কের চার কিলোমিটার সড়ক মেরামত ও প্রশস্ত করা হচ্ছে।

এ কাজের উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী স্থানীয়দের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনারা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক নির্মূলে সহায়তা করুন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব আমার কাঁধে দেওয়া হয়েছে, আমি সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো।

চার কিলোমিটার রাস্তার মেরামত ও প্রশস্তকরণের কাজে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঠিকঠাকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখার দায়িত্বও আপনাদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%