ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে রুহুল আমিনের পা, জীবিকার তাগিদে এখন রিকশার হ্যান্ডেলে তার হাত


দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে রুহুল আমিনের পা, জীবিকার তাগিদে এখন রিকশার হ্যান্ডেলে তার হাত

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।সড়ক দুর্ঘটনা শুধু তাজা প্রাণই কেড়ে নেয় না,বহু পরিবারকে চিরতরে ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তা ও ক্রাচে ভর দেওয়া এক যন্ত্রণাদায়ক বাস্তবে। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মো.রুহুল আমিনের(৪৫) গল্পটি তেমনি এক করুণ উপাখ্যান।
যে মানুষটি দীর্ঘদিন চিলমারী-ঢাকা রুটের নাইট কোচের হেলপার হিসেবে যাত্রীদের পথ চলার সঙ্গী হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন,একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আজ তার জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে একটি পা।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এই দিনে,যখন চারদিকে নিরাপদ সড়কের দাবি উচ্চারিত হচ্ছে,ঠিক তখনই এক পায়ে ভর দিয়ে জীবিকার চাকা ঘোরাতে বাধ্য হচ্ছেন রুহুল আমিন।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন কিষামতবানু নালারপাড় গ্রামের প্রয়াত রহিব আলী ও রহিতন বেগমের ছেলে রুহুল আমিন।দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারটির সংসার চলত তাঁর নাইট কোচের হেলপারের সামান্য আয়ে।
গত মার্চ মাসে ঢাকা যাওয়ার পথে তাদের নাইট কোচটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।এতে রুহুল আমিনের বাম পায়ের গোড়ালি থেঁতলে যায়।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রংপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পা-টি রক্ষা করতে টানা এক মাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা আর পা-টি রক্ষা করতে পারেননি। হাটুর নিচের অংশ কেটে বাদ দিতে হয়েছে।দীর্ঘ চিকিৎসার পর ঝরে পড়া এক পা আর ক্রাচে ভর দেওয়া শরীর নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন রুহুল আমিন। কিন্তু দুর্ঘটনার ক্ষত শুধুই পায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি বর্তমানে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বাসা বেঁধেছে তাঁর শরীরে।

সব হারিয়ে বর্তমানে রুহুল আমিনের স্থাবর সম্পত্তি বলতে কেবল বসতভিটার মাত্র এক শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। অথচ তার কাধে পরিবারের চার সদস্যের জীবনযাপনের ভার। বড় মেয়েটি এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।ছোট ছেলেটি পড়ছে পঞ্চম শ্রেণীতে।
সন্তানদের লেখা-পড়া,সংসার চালানো এবং চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি এখন ঋণগ্রস্থ ও সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছে। একদিকে পাহীন অসুস্থ শরীর আর ডায়াবেটিস-হৃদরোগের মতো জটিল ব্যাধি,সব মিলিয়ে রুহুল আমিনের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
এত কিছুর পরও অন্যের করুণার পাত্র হতে চাননি রুহুল আমিন। এক পায়ের পঙ্গুত্ব আর শারীরিক হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্বেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি।নিরুপায় হয়ে গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা এনে এক পা দিয়েই তা চালিয়ে উপার্জনের চেষ্টা করছেন।
অশ্রুসজল চোখে রুহুল আমিন বলেন,ক্রাচে ভর দিয়ে গ্যারেজ থেকে রিকশা বের করি। এক পায়ে ব্রেক আর ব্যাটারির সাহায্যে গাড়ি চালাই। শরীর চলে না,হৃদরোগ আর ডায়াবেটিসের কারণে ঘন ঘন হাঁপিয়ে উঠি। কিন্তু ঘরে সন্তানদের পড়ালেখা আর পেটের ক্ষুধা তো থেমে থাকে না।আমি না খাটলে ওদের মুখে খাবার দেবে কে?
রুহুল আমিনের মতো দুর্ঘটনাকবলিত অসহায় মানুষগুলোর বেঁচে থাকার লড়াই আমাদের সড়ক সুরক্ষার ভয়াবহ চিত্রকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।চিলমারীর এই একপা হারানো মানুষটির আকুল আবেদন,অন্তত তাঁর সন্তানদের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে এবং একটু চিকিৎসার জন্য যেন সমাজের বিত্তবান ও সরকারি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই


গোলাম মাহবুব
চিলমারী,কড়িগ্রাম
মোবাইলঃ ০১৭১৬-৫০৭৪৬৫

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণের ফলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণের ফলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চলমান ইরান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরে একটি মারাত্মক পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ইরানের বিভিন্ন তেল শোধনাগার, স্থাপনা এবং সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির পর সেখানে ছড়িয়ে পড়া তেল নিঃসরণ বা ‘অয়েল স্পিল’ এখন মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘সেন্টিনেল-২’ (Sentinel-2) মিশনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের আস্তরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের কেশম ও লাভান দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে লাভান দ্বীপের হামলাকে পরিবেশগত একটি বড় জরুরি অবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছে ডাচ শান্তি গবেষণা সংস্থা ‘প্যাক্স’ (PAX)।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ দূষণের ফলে পারস্য উপসাগরের অনন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবাল প্রাচীর (Coral Reefs) এবং সামুদ্রিক প্রাণীরা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি কচ্ছপ ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত শিদ্বারা দ্বীপের সংরক্ষিত এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে তেলের এই বিষাক্ত আস্তরণ। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাও মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, সংঘাতের মাত্রা তীব্র হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনাগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনরুদ্ধার কাজ অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের নিয়ম অনুযায়ী যুদ্ধজনিত কারণে সৃষ্ট এমন পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বা পরিষ্কার করার ব্যয় মেটানোর বিধান না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ পরিবেশগত উদ্যোগ বা ইকোলজিক্যাল ইউনিয়ন গঠন না করা হলে এই অঞ্চল এক অপূরণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। সোর্স: সিএনএন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ বছরের শিশুর প্রাণ গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ বছরের শিশুর প্রাণ গেল

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নে একটি মাটিবাহী ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু ঘটেছে চার বছর বয়সী একটি শিশুর, যার নাম জাকিয়া। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদরের মধুহাটী ইউনিয়নের কামতা পূর্বপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি কামতা গ্রামের জাফিরুল ইসলামের কন্যা।

শিশুটির ফুপা সাবদার হোসেন জানিয়েছেন, কামতা পূর্বপাড়া এলাকায় মাঠের পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল জাকিয়া। এ সময় একটি ট্রাক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিশুটি হঠাৎ করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রাক্টরটি তাকে পিষে দেয় এবং চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে।

মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটি রাস্তার পাশে খেলা করছিল। ট্রাক্টরের হর্ণ শুনে রাস্তা পার হতে গিয়ে সে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই ট্রাক্টর চালক কামতা গ্রামের নজরুলের ছেলে মাসুদ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদ-উজ-জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক চালক মাসুদকে গ্রেপ্তার ও ট্রাক্টরটি জব্দের জন্য পুলিশ এলাকায় অবস্থান করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যালন ডি’অরের সেরা কোচের নাম ফাঁস, দৌড়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


ব্যালন ডি’অরের সেরা কোচের নাম ফাঁস, দৌড়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ব্যালন ডি’অরের সেরা পুরুষ কোচের পুরস্কার জয়ের দৌড়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কোচ লুইস এনরিকেকে পিছনে ফেলে পুরস্কার জয়ের পথে রয়েছেন।

সেরা পুরুষ কোচের পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচজনের মধ্যে দে লা ফুয়েন্তে ও এনরিকের সঙ্গে আছেন আর্সেনালের মিকেল আর্তেতা, অ্যাস্টন ভিলার উনাই এমেরি এবং বায়ার্ন মিউনিখের ভিনসেন্ট কোম্পানি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। সেখানে স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তার সঙ্গে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে।

দে লা ফুয়েন্তের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য। গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ১২ বছর পর শিরোপা জিতেছে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে তারা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

অন্যদিকে, লুইস এনরিকের কৃতিত্ব হলো পিএসজিকে টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো। ক্লাব ফুটবলে তার সাফল্যও তাকে এই পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। তবে মুন্দো দেপোর্তিভোর দাবি, এবারের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে।

স্পেনের এই কোচের অধীনে দলটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের সেরা পুরুষ কোচের পুরস্কার কার হাতে উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএমএফ’র তথ্যে উন্মোচিত মোদি-অমিত শাহের ভোটার তালিকা ভণ্ডামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


আইএমএফ’র তথ্যে উন্মোচিত মোদি-অমিত শাহের ভোটার তালিকা ভণ্ডামি

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কোটি কোটি বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ভয়ঙ্কর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অবৈধ ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তাড়ানোর বিভেদকামী স্লোগান তুলে পুরো দেশকে এক চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। हाल ही में প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থনৈতিক তথ্য এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির এই ‘বড় মিথ্যা’ ও ফাঁকা প্রপাগান্ডার থলের বিড়াল সম্পূর্ণ উন্মোচন করেছে।

ভারতীয় বিশ্লেষণাত্মক সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেখা যায়, বিজেপির এই সাজানো নাটক কেবল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং ভারতের মুসলিম নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী নীলক নকশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ভারতের ভোটার তালিকা পর্যালোচনার নামে গৃহীত তথাকথিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এখন পুরো ভারতজুড়ে আগুন জ্বলছে। গত সপ্তাহে রাজধানী দিল্লি উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথের অভূতপূর্ব গণবিক্ষোভে। বিজেপি সরকার এই আন্দোলন দমনে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে দিল্লির বড় অংশকে কার্যত অবরুদ্ধ সামরিক জোনে পরিণত করেছে। হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নাগরিক এবং বহু সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।

কিন্তু কেন এই চণ্ডনীতি? কারণ, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকার খসড়া থেকে এক ধাক্কায় কল্পনাতীত ১৩ কোটি ভোটারের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে! পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, এই বিশাল বাদ পড়া গোষ্ঠীর বড় অংশই ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়, যারা প্রচলিতভাবে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কঠোর বিরোধী। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সুবিধার পেছনেও এই বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে মোদী সরকারের অন্যতম মূল কারিগর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজপথে আন্দোলনের মুখেই দাবি করেন—কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো নাকি অবৈধ ‘ঘুসপেটিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার জন্য এসআইআরের বিরোধিতা করছে!

তবে আসল সত্য হলো, কতজন তথাকথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ শনাক্ত করা গেছে—তার বিন্দুমাত্র হিসাব বা পরিসংখ্যান খোদ ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছেই নেই! কতজন অবৈধ নাগরিক ভোটার তালিকায় ঢুকেছিল, সেটির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই ১৩ কোটি মানুষের নাম কেটে দেওয়া হলো। পক্ষান্তরে, হাজার হাজার এমন নজির সামনে আসছে, যেখানে শতবর্ষ ধরে ভারতে বসবাসকারী খাঁটি ও বৈধ ভারতীয়দের নাম তালিকা থেকে রাতারাতি হাওয়া হয়ে গেছে।

আইএমএফ’র তথ্যে উন্মোচিত বিজেপির ভণ্ডামি

বিজেপি ও তার অনুসারীরা ভারতের জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে চায় যে, বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ ভারতে উপচে পড়ছে। অথচ আইএমএফের সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের চেয়েও বেশি!

বিষয়টি উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, বিশ্বের কোথাও নিজেদের সমান বা ভালো অর্থনীতির প্রতিবেশী দেশ থেকে গণ-অভিবাসন বা কাজের খোঁজে পালিয়ে আসার নজির দেখা যায় না। কিন্তু মোদী-অমিত শাহদের ভারতে প্রপাগান্ডার ওপর ভর করে এমন এক কাল্পনিক ও হাস্যকর গল্প সাজানো হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

এর আগেও ২০১৯ সালে একই ধরনের ঘৃণ্য রাজনীতি করা হয়েছিল আসামের ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ (এনআরসি) প্রক্রিয়ায়। আসাম ভারতের অন্যতম দরিদ্র একটি রাজ্য, যার অর্থনৈতিক অবস্থা বাংলাদেশের অনেক নিচে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি আসামের চেয়ে প্রায় ১.৫ গুণ বেশি! সত্যটা এমন হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি নেতারা গুজব রটিয়েছিলেন যে, প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি আসামে গিজগিজ করছে। কিন্তু বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবন নরক বানিয়ে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল, বাদ পড়েছে মাত্র ১৯ লাখ মানুষ—যার একটা বড় অংশই আবার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক! অর্থাৎ, অর্থনৈতিক কাজের খোঁজে বাংলাদেশ থেকে আসামে বিশাল গণ-অভিবাসনের যে দাবি তোলা হয়েছিল, তা ছিল এক নির্মম ও সাজানো মিথ্যা।

আইনি নজির শূন্য, উদ্দেশ্য কেবলই ভোটাধিকার হরণ

বিজেপির এই বাংলাদেশবিরোধী কার্ড যে একটি ভোঁতা অস্ত্র, তার বড় প্রমাণ হলো আইনি বাস্তবতা। ভারতে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম করা একটি গুরুতর অপরাধ। যদি কোটি কোটি অবৈধ বাংলাদেশি সত্যিই ভারতে বাস করত, তবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে লাখ লাখ অবৈধ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার হচ্ছে না কেন? আদালত ও আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত কতজন বাংলাদেশি ধরা পড়েছে? পরিসংখ্যান বলছে, সেই সংখ্যাটি প্রায় শূন্যের কোঠায়!

অতএব, বিষাক্ত এই রাজনীতির আসল হিসাব বুঝতে খুব বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তাড়ানোর নামে বিজেপি মূলত তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি ও নির্বাচনী বৈষম্য চরিতার্থ করছে। লক্ষ্য একটাই—ভারতের মূলধারার মুসলিম নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা, যাতে বিরোধী দলগুলো নিশ্চিত ভোটব্যাংক হারায় এবং অন্যায্য উপায়ে নির্বাচনে জয়লাভের পথ সুগম হয়।

আইএমএফের অর্থনৈতিক তথ্য এবং বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিজেপির এই ‘বাংলাদেশি’ জিকির ও এসআইআর নাটক এখন সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত। তবে প্রপাগান্ডা কাল্পনিক হলেও, এর নির্মম শিকার হচ্ছেন ভারতের কোটি কোটি সাধারণ নাগরিক, যাদের মাথার ওপর থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার—‘ভোটাধিকার’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%