প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান ইরান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরে একটি মারাত্মক পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ইরানের বিভিন্ন তেল শোধনাগার, স্থাপনা এবং সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির পর সেখানে ছড়িয়ে পড়া তেল নিঃসরণ বা ‘অয়েল স্পিল’ এখন মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘সেন্টিনেল-২’ (Sentinel-2) মিশনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের আস্তরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের কেশম ও লাভান দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে লাভান দ্বীপের হামলাকে পরিবেশগত একটি বড় জরুরি অবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছে ডাচ শান্তি গবেষণা সংস্থা ‘প্যাক্স’ (PAX)।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ দূষণের ফলে পারস্য উপসাগরের অনন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবাল প্রাচীর (Coral Reefs) এবং সামুদ্রিক প্রাণীরা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি কচ্ছপ ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত শিদ্বারা দ্বীপের সংরক্ষিত এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে তেলের এই বিষাক্ত আস্তরণ। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাও মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, সংঘাতের মাত্রা তীব্র হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনাগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনরুদ্ধার কাজ অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের নিয়ম অনুযায়ী যুদ্ধজনিত কারণে সৃষ্ট এমন পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বা পরিষ্কার করার ব্যয় মেটানোর বিধান না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ পরিবেশগত উদ্যোগ বা ইকোলজিক্যাল ইউনিয়ন গঠন না করা হলে এই অঞ্চল এক অপূরণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। সোর্স: সিএনএন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন