ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্তের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন


নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্তের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে এসব কর্মসূচি পালন হয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়াকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মানববন্ধনের আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ভুক্তভোগী শিক্ষকের হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী এবং মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষককে হুমকি দিতে থাকেন বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকদের প্রতিবাদ জানাতে বিদ্যালয়ের যাওয়ার সংবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে সটকে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন: বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণে মামলা গ্রেপ্তার নেই

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ করে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী বলেন, 'অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুয়েটে শুরু হয়েছে তিনদিনের অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


রুয়েটে শুরু হয়েছে তিনদিনের অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) তিনদিনব্যাপী অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন’ (বিএইটিই) এর একটি ইভ্যালুয়েশন টিম রোববার বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসে।

রোববার সকালে রুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছে ইভ্যালুয়েশন টিম প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়। সভায় রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

এই পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বিএইটিই প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা পরিবেশ, ল্যাবরেটরি সুবিধা, অবকঠামোগত সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করবেন। আগামী মঙ্গলবার মূল্যায়ন কার্যক্রম শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে চূড়ান্ত সভা করে তারা ঢাকা ফিরবেন।

বিএইটিই দেশের প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার মান নির্ধারণ, মূল্যায়ন এবং স্বীকৃতি প্রদানের দায়িত্ব পালন করে। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করে সংস্থাটি।

রুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিএইটিইর পূর্ববর্তী মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং পুরকৌশল বিভাগ ছয় বছরের জন্য বিএইটিই অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করেছে। এছাড়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাক্রিডিটেশনের বিষয়টি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাক্রিডিটেশন অর্জনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ বাড়ে।

এছাড়া ভবিষ্যতে ‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড’-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোরশায় পটল পাতার বড়ায় জীবিকা নির্বাহ শফিকুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


পোরশায় পটল পাতার বড়ায় জীবিকা নির্বাহ শফিকুলের

নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদর নিতপুরে একটি ব্যতিক্রমী খাবার পটল পাতার তৈরী বড়া বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শফিকুল ইসলাম। ফ্যানেসের (এম. রইচ উদ্দিন; পোরশা, নওগাঁ) অনুযায়ী, তিনি কোনো চটকদার বা নামী-দামী খাবার নয়, বরং দীর্ঘ আট বছর ধরে কেবল “পটল পাতার তৈরী বড়া” বিক্রির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শফিকুল এই পটলপাতার বড়া বিক্রি করে তার স্ত্রীসহ পাঁচ সন্তানকে নিয়ে সংসার চালান। তিনি বলেন, “কাহারও কাছে হাত পাততে হয় না আমাকে।” আসলে, শফিকুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে জন্মগ্রহণ করলেও এখন পরিবার নিয়ে ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে পোরশা উপজেলার নিতপুর মাস্টার পাড়ায় বসবাস করছেন। তিনি জানান, আট বছর আগে সামান্য পুঁজির সাথে উপজেলার গেটের পাশে ছোট একটি দোকান ঘরে পটলপাতার বড়া বিক্রি শুরু করেছিলেন। শুরুতে অনেকেই এই খাবারটি ভালো মনে করতেন না। তবে চমৎকার স্বাদের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে এই বড়া বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিন বিকেল হতেই ভোজনপ্রেমী ক্রেতারা তার দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে যাতে পটলপাতা সংগ্রহ করে বড়া ভেজে বিক্রি করা কাজটা মোটেই সহজ ছিল না, কিন্তু এরপরেও তিনি দমে যাননি। বড়া তৈরি করতে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়। এর মধ্যে পটলপাতা সংগ্রহ করে মশলার সঠিক মিশ্রণ পর্যন্ত সবকিছু তাকে নিজেই করতে হয়। আট বছর ধরে এই বড়া বিক্রি করে তার সংসার চলছে এবং সন্তানদের পড়ালেখাও এর আয় থেকে হয়। প্রতিদিন তিনি ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার বড়া বিক্রি করেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, মানুষের ভালোবাসাই তার এই কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিয়মিত দোকানে আসা কয়েকজন বড়া ক্রেতা জানান, শফিকুলের হাতের তৈরি পটল পাতার বড়া অত্যন্ত মচমচে ও সুস্বাদু। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত করা এই বড়া আজকের দিনে এলাকাটি জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। দামের কারণে এটির প্রতি সব শ্রেণী পেশার মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছেন। ক্রেতারা বলেছেন, “কোন কাজই যে ছোট নয়,” এবং শফিকুল ইসলাম আট বছর ধরে তা প্রমাণ করে চলেছেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে, তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারতেন বলে তারা মনে করেন। শফিকুলের এই ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টা সমাজের যুবকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমরা শাহবাগ থেকেই উঠে এসেছি’, ডেপুটি স্পিকারকে মাহমুদা মিতু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


‘আমরা শাহবাগ থেকেই উঠে এসেছি’, ডেপুটি স্পিকারকে মাহমুদা মিতু

নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে জানিয়েছেন, আপনি একটি মন্তব্য করেছেন যে, এটি শাহবাগ নয়। তবে আমরা তো শাহবাগ থেকেই উঠে এসেছি। শাহবাগের সত্তা নিয়ে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি।

রোববার অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন।

এর আগে, বক্তব্যের শুরুতে বাজেট সম্পর্কে বিরোধী দলের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য উল্লিখিত করেছেন যে, কওমি মাদরাসায় বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি। আমি তাকে জানাতে চাই- কওমি মানে গোষ্ঠী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোন গোষ্ঠীর জন্য, বা কোন ব্যক্তির জন্য কাজ করে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশের নেতা তারেক রহমান সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জন্য কাজ করেন। সংসদে তরুণদের ৮ জন প্রতিনিধি আছেন। কিন্তু তারা তরুণদের বিষয়ে কোন কথা বলেন না। তারা শুধুমাত্র গণভোটের বিষয় নিয়েই আলোচনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, একজন সংসদ সদস্য তার পিতার জীবিত থাকার পরেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে উল্লেখ করেছেন। সংসদ সদস্য হতে হলে মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে- এমন কোন নিয়ম নেই। জনগণের জন্য কাজ করলেই যথেষ্ট। তবুও তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে অসত্য বক্তব্য প্রদান করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিশ্বকাপ ফুটবলের উৎসবে মেতেছে পুরো গ্রাম

মনোহরপুর এখন এক টুকরো ফুটবল ভিলেজ, দর্শনার্থীদের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


মনোহরপুর এখন এক টুকরো ফুটবল ভিলেজ, দর্শনার্থীদের ঢল

চার বছর অপেক্ষার পর বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ আবারও এসেছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো বাংলাদেশেও ফুটবলপ্রেমীরা উন্মাদনায় মেতেছে। তবে যদি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে যাওয়া হয়, তবে সেটি মনে হবে বিশ্বকাপ যেন টেলিভিশনের পর্দায় নয়, বরং নেমে এসেছে মানুষের ঘর এবং আঙিনায়। কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি কেন্দ্র করে পুরো গ্রাম এখন ফুটবলের রঙে সাজানো হয়ে গেছে। পতাকার দোল, রঙিন দেয়ালচিত্র, প্রিয় তারকাদের প্রতিকৃতি এবং উৎসবমুখর মানুষের পদচারণায় গ্রামটি এখন যেন এক টুকরো বিশ্বকাপ ফ্যান জোনে পরিণত হয়েছে। গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে অন্যরকম এক দৃশ্য। চারপাশে শুধুই ফুটবল আর ফুটবল। রাস্তা দুপাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা, ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ সহ নানা দলের পতাকায় রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ির মূল ফটক থেকে শুরু করে আঙিনা, কাচারিঘর, বসতঘর এবং গাছপালা- সবখানেই ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপের আবহ। দেয়াল, গাছ, বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো হয়েছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় তারকাদের প্রতিকৃতি। কোথাও ফুটবল, কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক এবং আবার কোথাও ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের নানা গল্প ফুটে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন, কেউ বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করছেন অথবা ভিডিও ধারণ করে মনোহরপুরের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের গল্প ছড়িয়ে দিচ্ছেন। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস যেন সবচেয়ে বেশি। প্রিয় তারকাদের ছবি দেখে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছে। কারো গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কেউ আবার ব্রাজিলের পতাকা কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফুটবলপ্রেমের এই উৎসব যেন বয়সের সব সীমারেখা মুছে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন আর মাত্র একটি বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পুরো গ্রামের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যদিও দলভেদে সমর্থন রয়েছে, তবুও সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। সন্ধ্যা নামলে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাড়ির উঠোন- সবখানে জমে উঠছে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা।

গ্রামবাসীরা বলছেন, বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এই আয়োজনের স্মৃতি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে মানুষের মনে। কারণ এটি শুধুমাত্র ফুটবল নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা, ঐক্য এবং উৎসবপ্রিয়তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল মন্তব্য করেন, 'বিশ্বকাপ এলেই আমাদের গ্রামে আলাদা আনন্দ শুরু হয়। তবে এবারের সাজসজ্জা আগের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ আসছে এবং গ্রামের পরিচিতিও বাড়ছে।' দর্শনার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, 'ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে চলে এসেছি। গ্রামের মধ্যে এমন আয়োজন সত্যিই অসাধারণ।' স্থানীয় তরুণ শাওন শ্রাবন বলেন, 'আমরা চাই বিশ্বকাপের আনন্দ শুধুমাত্র টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। তাই আমরা সবাই মিলে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।' দর্শনার্থী শিহাব হোসেন বলেন, 'ফুটবল আমাদের আবেগের জায়গা। এই গ্রাম সকলের সঙ্গে বিশ্বকাপের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকে এই আয়োজন করেছে। নিজেদের উদ্যোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা সাজিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল গ্রামে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা।' বিশ্বকাপের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে মনোহরপুরে মানুষের আনাগোনা। ফুটবলের ভাষায় যেন পুরো গ্রাম আজ একটাই বার্তা দিচ্ছে- বিশ্বকাপ শুধু স্টেডিয়ামে নয়, মানুষের হৃদয়ের ভেতরেও খেলা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%