প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদর নিতপুরে একটি ব্যতিক্রমী খাবার পটল পাতার তৈরী বড়া বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শফিকুল ইসলাম। ফ্যানেসের (এম. রইচ উদ্দিন; পোরশা, নওগাঁ) অনুযায়ী, তিনি কোনো চটকদার বা নামী-দামী খাবার নয়, বরং দীর্ঘ আট বছর ধরে কেবল “পটল পাতার তৈরী বড়া” বিক্রির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শফিকুল এই পটলপাতার বড়া বিক্রি করে তার স্ত্রীসহ পাঁচ সন্তানকে নিয়ে সংসার চালান। তিনি বলেন, “কাহারও কাছে হাত পাততে হয় না আমাকে।” আসলে, শফিকুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে জন্মগ্রহণ করলেও এখন পরিবার নিয়ে ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে পোরশা উপজেলার নিতপুর মাস্টার পাড়ায় বসবাস করছেন। তিনি জানান, আট বছর আগে সামান্য পুঁজির সাথে উপজেলার গেটের পাশে ছোট একটি দোকান ঘরে পটলপাতার বড়া বিক্রি শুরু করেছিলেন। শুরুতে অনেকেই এই খাবারটি ভালো মনে করতেন না। তবে চমৎকার স্বাদের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে এই বড়া বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিন বিকেল হতেই ভোজনপ্রেমী ক্রেতারা তার দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে যাতে পটলপাতা সংগ্রহ করে বড়া ভেজে বিক্রি করা কাজটা মোটেই সহজ ছিল না, কিন্তু এরপরেও তিনি দমে যাননি। বড়া তৈরি করতে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়। এর মধ্যে পটলপাতা সংগ্রহ করে মশলার সঠিক মিশ্রণ পর্যন্ত সবকিছু তাকে নিজেই করতে হয়। আট বছর ধরে এই বড়া বিক্রি করে তার সংসার চলছে এবং সন্তানদের পড়ালেখাও এর আয় থেকে হয়। প্রতিদিন তিনি ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার বড়া বিক্রি করেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, মানুষের ভালোবাসাই তার এই কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিয়মিত দোকানে আসা কয়েকজন বড়া ক্রেতা জানান, শফিকুলের হাতের তৈরি পটল পাতার বড়া অত্যন্ত মচমচে ও সুস্বাদু। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত করা এই বড়া আজকের দিনে এলাকাটি জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। দামের কারণে এটির প্রতি সব শ্রেণী পেশার মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছেন। ক্রেতারা বলেছেন, “কোন কাজই যে ছোট নয়,” এবং শফিকুল ইসলাম আট বছর ধরে তা প্রমাণ করে চলেছেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে, তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারতেন বলে তারা মনে করেন। শফিকুলের এই ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টা সমাজের যুবকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন