০৩:৫৪ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনমুক্ত একটি দেশ গড়ার জন্য কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন শব্দগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমাজব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্য আমাদের, যেখানে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন থাকবে না।
আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ভেন্যু পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আরও জানান, বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও গুম ও খুনের বিরুদ্ধে বিদেশে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তবে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে তিনি কখনো আপস করেননি।
মন্ত্রী জানান, আগামীকাল সারা দেশে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক, যা গুম, খুন বা কোনো ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিশ্বাস করে না।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তিনি আরও জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ দিবস পালন করতে দেওয়া হয়নি। এখন সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশপ্রেমিক সরকারের উদ্যোগে দিবসটি সফলভাবে পালন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা দেশের জনগণকে বার্তা দিতে চাইÑ গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। ভয়াবহ সেই কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আমরা একটি ন্যায়বিচারের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো দেশে সংঘটিত হতে দেওয়া যাবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোরও বিচার হবে এবং সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা এ দিবস পালন করব। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য অনেক ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। সরকার কাজ করছে যাতে দেশে আর কখনো গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশে যে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে যারা হত্যা করেছে, তারা জেলে থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাদের বিচার হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন