বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৪ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রত্যাশা নিহত পরিবারগুলোর। তারা আশা করছেন, ১২ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই আলোচিত হত্যা মামলার আপিল বিভাগের শুনানি ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগ যেন মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক মামলাটির শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ দিন নির্ধারণ করেন। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ দেশের অন্যান্য আলোচিত হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আলোচিত এসব হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চলমান অবকাশকালীন ছুটি শেষে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিনদিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহিম।
সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহকর্মীর হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।
দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি, নুর হোসেন ও তৎকালীন র্যাবের বরখাস্তকৃত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত। ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা পরে আপিল করেন এবং ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
এরপর, হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে একই বছরের ০৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়। একই বছরের ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। উভয়পক্ষের শুনানি ৩৩ কার্যদিবসে অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের ২২ আগস্ট, হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১ (বর্তমানে এরআরবি) এর চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা, সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন এবং লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।
অন্যদিকে, ১১ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রয়েছে, তারা হলেন র্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব আলী, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্ণন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ এবং সৈনিক তাজুল ইসলাম।
বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া ৯ জনও র্যাবের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন এবং সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে এবং এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন ৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। পরে আসামিরা আপিল করেন উচ্চ আদালতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাজধানীতে ‘রোড শো’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ পালন করা হয়। রোড শোটি বিআরটিএ সাভার সাব অফিস গেট থেকে শুরু হয়ে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
রোড শো'তে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোবারক হোসেন। এছাড়া নিরাপদ সড়ক চাই সাভার শাখা, সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শকসহ আরও অনেক বক্তা বক্তব্য প্রদান করেন। রোড শোতে সচেতনতামূলক লিফলেট, স্টিকার বিতরণ এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) তাকে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাছ থেকে ড. মঈন খানের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে ড. আব্দুল মঈন খান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায়, পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পারিবারিক কলহের কারণে নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাদিয়া আক্তার ওই গ্রামের কাউসারের (২৬) স্ত্রী। তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী কাউসারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই নাদিয়ার স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিত। বুধবার রাতেও পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নাদিয়াকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। তরুণী গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নাদিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ও এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকেই নজর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস প্রদান করেছেন। তিনি জানান, বিশেষত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগীরা যাতে সহজে ভিসা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইমক্যাব) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই তথ্য জানান।
ইমক্যাবের সভাপতি শাহীন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের মধ্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ নির্বাহী কমিটির ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে ইমক্যাবের প্রতিনিধিরা ভারতীয় ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভিসা পেতে ভোগান্তির বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগীদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হাইকমিশনার আরও বলেন, অনলাইনে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পর সরাসরি আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্লট পেতে কেন দেরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করছে ভারতীয় হাইকমিশন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত যত বাড়বে, ততই পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক গভীর হবে।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার ইমক্যাবের সদস্যদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব ধর, কুদ্দুস আফ্রাদ, মীর আফরোজ জামান, আবু আলী, আমিনুল হক ভূঁইয়া, নির্মল চক্রবর্তী, জাকির হোসেন ও মনির হোসেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব গোকুল ভিকে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ