১১:১০ এম
উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, দেশের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, শনিবার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের ‘কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনা’ অনুমোদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ভারত সমর্থিত আট সন্ত্রাসী নিহত
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি নো কোয়াং চোল ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও পদাবনতি ঘটেছে।
বর্তমানে তাকে দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গি নিয়োগ পেয়েছেন।
একই সময়ে, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে এবং তাকে ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্যও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু
এছাড়া সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কেসিএনএ একটি আলাদা প্রতিবেদনে জানায়, শনিবার এক অনুষ্ঠানে কিম জং উন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
কেসিএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ‘নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে যুগান্তকারী গুরুত্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কেসিএনএ প্রকাশিত একটি ছবিতে কিম জং উনকে একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির বুকে পদক পরিয়ে দিতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি দমন কমিশনের বিরুদ্ধে সাবেক এমপি কামারুল আরেফিনের মামলা
দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রতি কিছু ‘বিশেষ প্রযুক্তি’ উদ্ভাবন করেছে, যা যুদ্ধ করার সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে কেসিএনএ দাবি করেছে। তবে ওই প্রযুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কেসিএনএ জানায়, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ‘অনন্য উন্নয়নের পথ’ তুলে ধরেছে।
জুনের শেষ দিকে কিম জং উন নতুন একটি দূরপাল্লার একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা এবং কামানের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
তিন দেশের যৌথ সামরিক মহড়া
আরও পড়ুন: আলীয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে : শিবির সভাপতি
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে।
পিয়ংইয়ং নিয়মিত এসব সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি হিসেবে নিন্দা করে আসছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দেওয়ার পর এটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
ট্রাম্প এসব সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি উসকানিমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ারও কঠোর সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনেরও প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছিলেন এবং এবার তিনি আবারও কিমের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছেন। চলতি বছরেই এমন বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাপ্তাই হ্রদ থেকে পাথরে বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার, নৌকা মালিক আটক
তবে ট্রাম্পের এসব উদ্যোগের প্রতি উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়নি। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমিত পরিসরের সামরিক মহড়ারও নিন্দা করেছে।
এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রিডম এজ’ নামে ত্রিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় ১৫ পুণ্যার্থী নিহত
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা এবং এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিন দেশের এ বার্ষিক মহড়া একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অনুশীলন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন