০৯:৪১ এম
আজ ৩০ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস (International Day of Parliamentarism)। প্রতি বছর এ দিনটি পালন করা হয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সংসদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংসদকে জনগণের কণ্ঠস্বর বলা হয়। আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জাতীয় বাজেট অনুমোদন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই দিবসের আয়োজন করা হয়।
কেন ৩০ জুন?
আরও পড়ুন: জীবনে শান্তি পেতে আজ থেকেই বাদ দিন ১২টি অভ্যাস
২০১৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩০ জুনকে আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই তারিখ কেন বেছে নেওয়া হয়েছে, তা হলো ১৮৮৯ সালের ৩০ জুন বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সংসদ এই সংস্থার সদস্য।
সংসদের কাজ শুধু আইন তৈরি নয়
অনেকে মনে করেন সংসদের কাজ কেবল নতুন আইন পাস করা। কিন্তু বাস্তবে সংসদের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। সংসদ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে, বাজেট অনুমোদন দেয়, বিভিন্ন নীতির ওপর বিতর্ক করে এবং জনগণের সমস্যাগুলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর সংসদ থাকলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ে এবং গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে ভ্রমণের ১০টি নিয়ম ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানা হতে পারে
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস?
বিশ্বের অনেক দেশে এখনো গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। কোথাও রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোথাও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা, আবার কোথাও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়তে কার্যকর সংসদের বিকল্প নেই। সংসদ যত বেশি সক্রিয় হবে, জনগণের মতামত তত বেশি গুরুত্ব পাবে।
নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান
এই দিবসে সংসদে নারী, তরুণ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে সমাজের সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও জনমুখী হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বাড়লেও অনেক জায়গায় তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সেরা সময় অক্টোবর-নভেম্বর
প্রযুক্তির যুগে বদলাচ্ছে সংসদ
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সংসদীয় কার্যক্রমেও বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। অনেক দেশের সংসদ এখন সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে বিল, বাজেট ও বিভিন্ন নথি প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে জনগণ সহজেই সংসদের কার্যক্রম জানতে পারছেন এবং প্রতিনিধিদের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশেও জাতীয় সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। সংসদীয় কমিটিগুলো বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কাজ করে।
আরও পড়ুন: গুলশানে ‘গোল্ড কিনেন’ এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার উদ্বোধন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা, কার্যকর বিরোধী মতামত, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
দিবসটির মূল বার্তা
আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো—গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা। কারণ জনগণের আস্থা, মতামত ও অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর সংসদই হতে পারে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার ১২ রাশির ভাগ্য জানালো জ্যোতিষশাস্ত্র, বিশ্লেষণ প্রকাশিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন