০৫:২৩ এম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী তামযীদ তাহসীন রেজা (তামাম) এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২২২ নম্বর পেয়েছেন। তামাম তার ফলাফলে বেশ উচ্ছ্বসিত। তার ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে।
তামামের দাদা ও নানার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর (পাছপাড়া) গ্রামে অবস্থিত। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং শামছুন্নাহার বেগম শেফালী দম্পতির ছোট ছেলে। তামামের বড় ভাই তানযীম তাহমীদ রেজা চুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে পিএইচডি করছেন।
তামামের অর্জনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গণিত অলিম্পিয়াড, বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড এবং কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে চুয়েট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর থেকে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি ১২৪৭ নম্বর পেয়ে জিপিএ ৫ অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: নোবিপ্রবির সমাবর্তনে প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে দেওয়া হবে মরণোত্তর সম্মাননা
তামামের বাবা অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম "আমার দেশকে" বলেন, ছেলের এ সাফল্যে তিনি গর্বিত। তিনি ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন। মা শামছুন্নাহার বেগম জানান, তামাম অনেক সময় সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে রাত ১২টার দিকে উঠে পড়াশোনা করত। তাকে উৎসাহ দিতে তিনি বহু রাত ছেলের পড়ার টেবিলের পাশে বসে কাটিয়েছেন। বাবা-মা দুজনই ছেলের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।
সফলতার বিষয়ে তামাম বলেন, তিনি কোনো বাঁধাধরা নিয়মে পড়াশোনা করেননি। প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ সাফল্যের পেছনে কলেজের শিক্ষক এবং বাবা-মায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তামাম অনুজদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন, শুধু সহায়ক বই, কোচিং বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নোটের ওপর নির্ভর না করে মূল পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়তে হবে। নিয়মিত ক্লাস করে নিজের নোট তৈরি, পরীক্ষার আগে সেই নোট ও মূল বই পুনরাবৃত্তি এবং মৌলিক ধারণা পরিষ্কার রাখা জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার পর যে বিষয় কঠিন মনে হবে, সেটি বারবার অনুশীলন করতে হবে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিএমইউ স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্মের দুই দিন অনলাইন ক্লাসের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন