ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আলেম ওলামার মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব: রাসিক প্রশাসক


আলেম ওলামার মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব: রাসিক প্রশাসক

সমাজে আলেম ওলামা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মান বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। গত ১৭ বছরে দাড়ি-টুপি ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অনেকেই নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন কেউ তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর বারো টায় রাজশাহীর ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উদ্যোগে ১২৩৬ তম ৪৫ দিনব্যাপী নিয়মিত ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক ডা: মো: আসেম আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, "প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা শুধু রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নয়, বরং মানুষের অধিকার, মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা। এই ৩১ দফার মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।"

আরও পড়ুন: একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমের জেরে ব্যবসায়ী হত্যা

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক এ. কে. এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, "নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও খেলোয়াড়দের সুযোগ সৃষ্টিতে রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই মানবিক উন্নয়নের পরিচয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহীকে আরও মানবিক, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।"

এছাড়া, উক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের দাবির প্রেক্ষিতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির হল রুম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাসিক প্রশাসক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ

জনতা ব্যাংক এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সাইবার হামলার সম্ভাবনার কারণে উক্ত ব্যাংকদুটি তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে, ব্যাংক দুটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে, গ্রাহকেরা ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না। কোন তথ্যও জানা যাচ্ছে না।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে, সেখানে একটি নোটিশ দেখা যায়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, "আমাদের অ্যাপ্লিকেশনটি বর্তমানে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। এটি শীঘ্রই চালু হবে। এই অসুবিধার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। জনতা ব্যাংক পিএলসি।" পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে। সেখানে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত পর্যটন গমন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ২ হাজারের পরিবর্তে সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে স্থানীয় জনগণ।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবি করে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, গাজী আহসান হাবীব, নিহত রোহানের বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, এ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল, যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, মোস্তাফিজুর রহমান লিখন এবং আব্দুল মালেক খান বক্তৃতা করেন।

বক্তারা বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে বিদেশে বসে পরিকল্পনা করে অর্থের বিনিময়ে কলেজ ছাত্র রোহানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ডসহ সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান। পরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী, বিএনপি নেতা এবং নিহত রোহানের স্বজনেরা।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কলেজ ছাত্র রোহান। পরের দিন ৬ অক্টোবর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়। ৮ অক্টোবর বিকেলে নিকটবর্তী একটি মেহগনি বাগানে পেট কাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা একটি মামলা দায়ের করলে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরিজীবীদের পকেট খালি, ঋণের জালে আটকা সংসার চালানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


চাকরিজীবীদের পকেট খালি, ঋণের জালে আটকা সংসার চালানো

মাসের বেতন হাতে আসার সাথে সাথেই সংসারের খরচের হিসাব শুরু হয়ে যায়। বাসাভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিল এবং কিস্তি পরিশোধ করতে করতেই আয়ের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। মাসের ২৫ তারিখ পার হওয়ার আগেই অনেকের পকেট খালি হয়ে যায়। বাকি দিনগুলো চালাতে কেউ সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ আবার ঋণ নিচ্ছেন। পরবর্তী মাসে বেতন পেয়ে ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবারও নতুন করে টাকার সংকট তৈরি হচ্ছে। এইভাবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে অনেক চাকরিজীবী ঋণের চক্রে আটকে পড়ছেন।

আনাস আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার মাসিক বেতন ৫৪ হাজার টাকা। পরিবারসহ থাকলেও তাকে মাসে ২০ হাজার টাকা বাসাভাড়া দিতে হয়। গ্যাসের সিলিন্ডার, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ছয় মাস আগে কেনা মুঠোফোনের কিস্তি দিতে হয় ৫ হাজার ৫০০ টাকা।

কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য আনাস মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। জ্বালানি ও যাতায়াত বাবদ মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারের জন্য ব্যয় হয় আরও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এসব খাতেই মাসে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো এবং জরুরি সময়ের জন্য টাকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন আনাস। কিন্তু নিয়মিত খরচ সামলাতে গিয়ে প্রায়ই সেই সঞ্চয় ভাঙতে হয়। মাসের ২৫ তারিখের আগেই অনেক সময় তার হাতে টাকা থাকে না। তখন বাকি দিনগুলো চালাতে মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। তিন মাসের এসব ঋণ পরিশোধ করতে সুদও দিতে হয়। পরের মাসে বেতন পাওয়ার পর ঋণ শোধ করতে গিয়ে সংসারের বাজেটে আবারও টান পড়ে।

আনাস গণমাধ্যমকে বলেন, "প্রতিদিনই খরচ বাড়ছে, কিন্তু বেতন বাড়ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে হয়তো ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া যায় না।"

একই সমস্যায় পড়ছেন আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী নিলয়। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "খরচ এত দ্রুত বাড়ছে যে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি কাজ করার মতো সময় বা সুযোগ খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়।"

আনাস ও নিলয়ের মতো ঢাকার অনেক বেতনভোগী মানুষের জন্য সংসারের খরচ সামলানো এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সঞ্চয় কমছে, আবার কারও কারও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ নিতে হচ্ছে।

বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, কমছে স্বস্তি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের ১২ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ অবশ্য পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষকে এখনো আগের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য ও সেবা কিনতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের সম্মানসূচক গবেষণা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, "বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বুঝতে হলে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যথেষ্ট কঠোরভাবে বা সঠিক সময়ে মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিকভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া এবং সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়েছে।"

মাহতাব উদ্দিনের মতে, দুর্বল কর আদায়ব্যবস্থা এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল ব্যয় সরকারের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এসব কাঠামোগত কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের সংসার খরচেও পড়ছে।

খাবার ও শিক্ষার খরচ কমাচ্ছে পরিবার

মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়।

মাহতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, "পণ্যের দাম বাড়লে এবং প্রকৃত মজুরি সেই হারে না বাড়লে মানুষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিবারগুলো মাছ, মাংস বা ফল কেনা বন্ধ করে দিতে পারে। তারা কম পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। এমনকি সন্তানের শিক্ষার খরচও কমিয়ে দিতে পারে।"

এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদেও পড়তে পারে। কম পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষার খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সুযোগ হারানোর কারণে পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

যদিও সবার বেতন ও খরচের ধরন এক নয়, তবু এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, গড়ে মজুরি বৃদ্ধির হার পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে আগের মতো খরচ চালানো ও সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ঋণ শোধ করতেই শেষ হচ্ছে পরের মাসের বেতন

জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ শুধু চাকরিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে হিসাব করতে হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মোটরসাইকেলে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২০০ টাকার জ্বালানি খরচ করেন। অন্যদিকে, মেট্রোরেলে যাওয়া-আসায় তার ব্যয় হয় ২৪০ টাকা। ফলে কোন মাধ্যমে যাতায়াত করবেন, তা ঠিক করার আগেও তাকে খরচের হিসাব করতে হয়।

মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, "বন্ধুদের অনেকেই মাসের শেষ দিকে টাকা ধার করেন। বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা শোধ করেন। এতে পরের মাসের শুরুতেই আবার টাকার সংকট তৈরি হয়। তখন নতুন করে ঋণ নিতে হয়। এভাবে বারবার ঋণ নিয়ে চলতে গিয়ে তারা একটি চক্রে আটকে পড়ছেন।"

মাহতাব উদ্দিনের মতে, শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "যুক্তরাজ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেলকর্মীরা সংগঠিতভাবে আন্দোলন করে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক কর্মী, এমনকি দাপ্তরিক কাজ করা কর্মীদেরও একই ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই। শ্রমিকের চাহিদার তুলনায় শ্রমের জোগান বেশি হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়ানোর দাবি আদায় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।"

শুধু খরচ কমিয়ে কি সংকট কাটবে?

সংসারের বাজেটে চাপ তৈরি হওয়ার পেছনে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি ছোট ছোট ব্যয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। রেস্তোরাঁয় খাওয়া, ঘোরাঘুরি, অনলাইনে কেনাকাটা কিংবা শখের পেছনে নিয়মিত খরচ করলে মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা খরচ হলেও মাস শেষে তা দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকা।

তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোই এই সংকটের একমাত্র সমাধান নয়। অনেকের জন্য বাড়তি আয় করার সুযোগ খুঁজে পাওয়াও কঠিন। কারণ, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ সীমিত।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশে মোট শ্রমের চাহিদা ২ শতাংশের সমপরিমাণ চাপের মুখে পড়তে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শ্রমের চাহিদায় সম্ভাব্য পরিবর্তন—সব মিলিয়ে অনেক মানুষের জন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বাজেট ও সঞ্চয়ে মিলতে পারে কিছুটা স্বস্তি

ঢাকার সাংবাদিক মুমিতুল মিম্মা গণমাধ্যমকে জানান, নিজের খরচের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, তার টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, "আগে আমি হিসাব না করেই খরচ করতাম। মাসের মাঝামাঝি সময়েই টাকার সংকটে পড়তাম। তাই খরচের একটি ডায়েরি রাখা শুরু করি। যাতায়াতের ভাড়া থেকে শুরু করে এক কাপ চায়ের খরচও সেখানে লিখে রাখতাম। এতে বুঝতে পেরেছি, আমার টাকা কোথায় যাচ্ছে। একই সঙ্গে খরচের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে।"

খরচের হিসাব রাখলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট তৈরি করা সহজ হয়। বেতন পাওয়ার পরপরই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখাও কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুললে হঠাৎ খরচের সময় ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, "জীবনযাত্রার ব্যয় যেমনই হোক, নিজের আয়ের মধ্যে খরচ সামলানোও একটি দক্ষতা। বর্তমানের উচ্চমূল্যের মধ্যেও অনেক মানুষ আপনার আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় করে সংসার চালাচ্ছেন।"

তিনি মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয় করা এবং প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। তার মতে, মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা পেনশনভিত্তিক আমানত প্রকল্পের মতো ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখলে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে আলাদা তহবিল থাকলেও হঠাৎ খরচের চাপ সামলানো সহজ হয়।

তবে যাদের আয়ের প্রায় পুরোটাই খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যায়, তাদের পক্ষে সঞ্চয় করা কঠিন। আয় দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোই সম্ভব না হলে শুধু বাজেট তৈরি করে সংকট কাটানো যায় না। তাই ব্যক্তিগত খরচের হিসাব রাখার পাশাপাশি আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করাও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%