ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ব্যাংক খাত অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে: মাহবুব উল্লাহ


ব্যাংক খাত অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে: মাহবুব উল্লাহ

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, অলিগার্কদের (অতি প্রভাবশালী ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী) প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে দেশের অর্থনীতি আরো গভীর সংকটে পড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এ খাতের অস্তিত্বই হুমকির মুখে রয়েছে। অর্থনীতি ইতোমধ্যে লাইনচ্যুত হয়েছে এবং যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা শুধুমাত্র লাইনচ্যুত হবে না, বরং নদীতে গিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

ড. মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, শুরুতে ব্যাংক খাতের সংকটকে গ্রাহক চেনাসংক্রান্ত (কেওয়াইসি) সমস্যা মনে করা হলেও পরে তা ব্যাংকার, অসৎ ব্যবসায়ী ও অসাধু রাজনীতিবিদদের বিপজ্জনক যোগসাজশে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের সিন্ডিকেট ও অলিগার্কদের প্রশ্রয় দিয়ে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব নয়। তাই তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশের অর্থনীতির কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ শোষণের সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ নয়, বরং অল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব অলিগার্কের উত্থান ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, বাজারের নিয়ম অনুসরণ করা হলে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক এতদিনে বিলুপ্ত হয়ে যেত। কিন্তু বিভিন্ন উপায়ে সেগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এ প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এটি দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি।

ব্যাংক খাতে অনিয়মের কারণে মানুষের আস্থা ব্যাপকভাবে কমে গেছে উল্লেখ করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, অধিকাংশ মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ব্যাংক ভালো করছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে খাতটির উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে: জামায়াত আমির

সরকারের ঋণনির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল কর-জিডিপি অনুপাতের কারণে সরকারকে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাত ক্রমেই সরকারমুখী হয়ে পড়ছে এবং বেসরকারি খাত ঋণপ্রাপ্তিতে চাপে পড়ছে। অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি ‘ক্রাউডিং আউট’ বা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, সরকারের নিয়মিত ঋণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এসব ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন নিয়ে সমালোচনা করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রকে জনগণের কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন। এর মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের এ শোষণমূলক চরিত্র পরিবর্তন করে জনকল্যাণমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে কোনো খাতেরই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, দেশে বারবার গণঅভ্যুত্থান ঘটলেও অর্থপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আসেনি। এতে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অধৈর্য বাড়ছে। শুধু অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামো, জাতীয় পুনর্জাগরণের কর্মসূচি ও নিবেদিত নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে একদফা দাবিতে রূপান্তর হবে: জামায়াত আমির

দেশের বর্তমান সংকটের দ্রুত সমাধান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। রাতারাতি কোনো জাদুকরি সমাধান সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংশোধন এবং ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অনৈতিক যোগসাজশ বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।

খেলাপি ঋণ আদায় ও সুশাসনে জোর

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা।

তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণের পাহাড়, সুশাসনের অভাব, মূলধনসংকট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের ব্যাংক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে অনেক ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। অন্যদিকে, কিছু ব্যাংকে তীব্র তারল্যসংকট থাকলেও পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে।’

আরও পড়ুন: লংমার্চ থেকে ফিরে আমিরে জামায়াত সংসদে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইবেন

এই সংকট কাটাতে খেলাপি ঋণ আদায়, সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণিতের শিক্ষক থেকে আম্পায়ার, স্যাম নোগাইস্কির বাংলাদেশে ফেরার গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


গণিতের শিক্ষক থেকে আম্পায়ার, স্যাম নোগাইস্কির বাংলাদেশে ফেরার গল্প

‘দ্য হাচিন্স স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিতের শিক্ষক এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অধীনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেট আম্পায়ার।’

স্যাম নোগাইস্কির প্রোফাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই পরিচয় দেখলে মনে হবে, এক দেহে দুই জগতের মানুষ! তিনি গণিত পড়ান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনা করেন।

এটি কোনো রসিকতা নয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের প্রথম দুই দিনে যাকে কয়েকবার লাইট মিটার দিয়ে আলো পরিমাপ করতে দেখা গেছে, তিনিই স্যাম নোগাইস্কি।

নোগাইস্কির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। গত বছর এ দেশে তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। সিলেটে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের মাধ্যমে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে তার টেস্ট অভিষেক ঘটে। এরপর ওই সিরিজে মিরপুর টেস্টেও একই দায়িত্ব পালন করেন।

বছর ঘুরতেই নোগাইস্কি আবার মিরপুরে; এবার বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব তার কাঁধে। অর্থাৎ, ৪৭ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান তার প্রথম তিন টেস্টই পরিচালনা করছেন বাংলাদেশে!

আইসিসি নোগোইস্কির ওপর আস্থা রেখেছে কারণ তার আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। এই ৯ বছরে তিনি ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে ৬৯ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন; টিভি আম্পায়ার হিসেবে ১৭ ম্যাচে।

এক সময় মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনি সক্রিয় ছিলেন—দুই সংস্করণ মিলিয়ে ২৯ ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতেও তিনি পরিচিত মুখ।

অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রাজ্য তাসমানিয়া। স্যাম নোগোইস্কি সেই রাজ্যের রাজধানী হোবার্টের সন্তান। সেখানকার নির্মল, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মতোই তিনি যে শান্তিপূর্ণ স্বভাবের মানুষ, সেটি মাঠে তার প্রতিটি পদক্ষেপে বোঝা যায়।

মাত্র ২১ বছর বয়স থেকে নোগোইস্কি শিক্ষকতা করে আসছেন। হোবার্টের রোজেটা হাই স্কুল, ফ্রেন্ডস স্কুল হয়ে থিতু হয়েছেন হাচিন্স স্কুলে। দেড় যুগেরও বেশি সময় তিনি এই স্কুলে কাটিয়ে ফেলেছেন।

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় আম্পায়ার প্যানেলে যোগ দেন নোগোইস্কি। চার বছর পর তিনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক প্যানেলে জায়গা পান। ওই মৌসুমেই ভারতের রঞ্জি ট্রফিতে আম্পায়ার হিসেবে দাঁড়ান।

গণিতের শিক্ষক যে ক্রিকেটে দুর্দান্ত আম্পায়ারও হতে পারেন—নোগাইস্কি তার জীবন্ত উদাহরণ। ২০২৩ থেকে ২০২৫—টানা তিনবার তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা আম্পায়ার নির্বাচিত হয়েছেন। হাচিন্স স্কুলের ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, ২০১১ ও ২০১২ সালেও তাসমানিয়ার বর্ষসেরা আম্পায়ার ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে তিনি তাসমানিয়ার প্রথম আম্পায়ার হিসেবে জাতীয় প্যানেলে জায়গা পান।

তবে নোগাইস্কিও সাধারণের মতো ছোটবেলায় ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। তাসমানিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেটে ক্ল্যারেন্স ক্লাবের হয়ে অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। কিন্তু চোট তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থামিয়ে দেয়।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে (সিএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোগাইস্কি বলেছিলেন, ‘আমি খেলাটা ভীষণ ভালোবাসি। এমনকি যখন আম্পায়ারিং করি না, তখনো ক্রিকেট দেখি। ১৮ বছর বয়সে চোটে পড়ি। এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে আম্পায়ারিং শুরু করি।’

আম্পায়ারিংয়ের প্রতি আকর্ষণই স্যাম নোগাইস্কিকে সাফল্য এনে দিয়েছে। ছবি: মীর ফরিদ

চোট থেকে সেরে ওঠার পর আবার খেলায় ফিরেছিলেন নোগাইস্কি। তবে খেলোয়াড় না হয়ে কেন তিনি শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার হয়েছেন—সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আবার খেলায় ফিরেছিলাম। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পর বুঝলাম, আমার আসল টানটা আম্পায়ারিংয়ের দিকেই। সত্যি বলতে, আমি খেলোয়াড় হিসেবে যতটা ভালো, তার চেয়ে ভালো আম্পায়ারিংয়ে।’

ক্লাসরুমের বোর্ডে যিনি অঙ্ক কষান, তিনিই মাঠে দেন ‘নো’, ‘ওয়াইড’ আর ‘আউট’-এর সিদ্ধান্ত। কখনো কখনো পকেট থেকে বের করেন লাইট মিটার।

স্যাম নোগাইস্কির গল্পটা তাই শুধু এক আম্পায়ারের নয়, একজন মানুষ কিভাবে নিজের পছন্দের জায়গায় ফিরে গিয়ে তাতে সেরা হয়ে ওঠেন, সেটিরও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওমানের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আগুন, তদন্ত চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


ওমানের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আগুন, তদন্ত চলছে

ওমানের উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজটি ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে আগুনের কবলে পড়ে। এ সময় জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাইরে যাচ্ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি সতর্কবার্তায় ইউকেএমটিও জানায়, তৃতীয় একটি পক্ষ তাদের জাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি অবহিত করেছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগুন লাগার ঘটনায় জাহাজের নাবিক ও অন্যান্য ক্রুদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আরও জানা যায়নি, আগুনের কারণে সমুদ্রের পরিবেশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা।

ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ইউকেএমটিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে, কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ২০ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ এম


ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ২০ জন নিহত

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হন। একই দিনে চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুক শহরে হামলায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিনে একের পর এক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে আবারও শান্তি আলোচনা শুরুর আশা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব হামলার কোনো যুক্তি নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পক্ষে কোনো ব্যাখ্যাও থাকতে পারে না।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার কিছু আগে শহরের কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত হন এবং কয়েকটি গুদামে আগুন ধরে যায়। দিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন সবাই উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অপেক্ষায়, তখনই রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে। এটি ইচ্ছাকৃত।

জেলেনস্কি আরো জানান, ইউক্রেনের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন যে, রাশিয়া নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে তিনি মিত্রদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ওই অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে শহরটি যুদ্ধের মধ্যে আটকে রয়েছে।

ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই পক্ষই জানিয়েছে, ওই এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শহরটিতে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

তবে খেরসনে যুদ্ধবিরতি হলেও ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি।

ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া হামলা বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় জেট ইঞ্জিনচালিত একটি ড্রোন প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

হামলার পর প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মরদেহ ও বিস্ফোরণের ধাতব টুকরা। মেঝেতে জমে ছিল রক্ত। এ সময় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছিল। এর মধ্যেই পুলিশ কালো ব্যাগে মরদেহ সরিয়ে নিচ্ছিল। স্টেশনের নিচে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী স্বিতলানা শেরবাক। তিনি বলেন, ‘আর এসব কেন? তারা আসলে কী অর্জন করতে চাইছে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’

দিনিপ্রো শহরের আরেকটি হামলায় শিক্ষার্থীদের একটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবারের হামলায় শহরটির তিন লাখ ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় নিয়মিত বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন। তবে মস্কো সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ শহরের ব্যস্ত সড়কে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২৩ জন, যাদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে। শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রিঝিনস্কি বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষ ছিলেন। তারা কাজে যাচ্ছিলেন এবং প্রতিদিনের মতো নিজেদের কাজ করছিলেন।

মধ্য ইউক্রেনের ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবনে রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন। আঞ্চলিক গভর্নর এ তথ্য জানিয়েছেন। হামলায় কয়েকটি ব্যক্তিগত ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে তিনটি পৃথক হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার ড্রোন। শহরের কয়েকটি বাসে এসব ড্রোন আঘাত হানে। এতে ছয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে নতুন করে হামলা চালানো হলো। আগামী মাসে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টা কিরিলো বুদানভসহ দেশটির কর্মকর্তারা। তাদের মতে, রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে গুনাহ মাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ এম


জুমার দিনে গুনাহ মাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিনে দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাদিসে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোও রয়েছে।

এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কোরো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

জুমার দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তৃতীয়ত, এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চতুর্থত, এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন, যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পঞ্চমত, এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার দিন ফজরের নামাজে তিলাওয়াত

জুমার দিনে ফজরের নামাজে বিশেষ সুরা তিলাওয়াত করা সুন্নত। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করার কারণ হলো, এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়ার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। তাই এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

৩. জুমার দিন গোসল করা

জুমার দিনে গোসল করা এবং আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা

জুমার দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৫. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা

জুমার দিনে মসজিদে আগে প্রবেশ করা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৬. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৭. খুতবা শোনা ও জুমার নামাজ আদায় করা

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে জুমার নামাজ আদায় করা। সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৮. জুমার নামাজে নির্ধারিত সুরা পাঠ করা

নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

৯. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় রয়েছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

১০. সুরা কাহাফ পাঠ

জুমারের অন্যতম আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

১১. গুনাহ মাফের বিশেষ আমল

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

১২. দরুদ পাঠ

জুমার দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%