ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে আদালতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে আদালতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২০ সালে মৃত্যুর আগে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার শরীরে একাধিক 'সতর্কতামূলক সংকেত' দেখা দিয়েছিল। তবে এসব লক্ষণ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে আদালতে জানান এক ফরেনসিক চিকিৎসক।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় আর্জেন্টিনায় চলমান মামলায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেন ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি। সাতজন পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায় তাদের চিকিৎসায় সম্ভাব্য অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর আগে তিনি অ্যাকিউট পালমোনারি এডিমায়ও আক্রান্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন: অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের প্রথম জয়, ম্যানইউর লজ্জার ৩-০ হার

বুয়েনস আয়ার্সের উত্তরের সান সিড্রো আদালতে ক্যাসিনেলি জানান, ম্যারাডোনার শরীরে নিচের অঙ্গে পানি জমা, আঙুল ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।

তার দাবি, এসব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ম্যারাডোনার ফোলা বা শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ অনুসন্ধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের পদ্ধতিতেও এসব সতর্কতামূলক সংকেতের পর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলেও আদালতকে জানান তিনি।

ক্যাসিনেলি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন ছিল। বরং তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়াটিই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ক্যাসিনেলি জানান, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন ম্যারাডোনা।

আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল সৌদি আরব

তবে মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের কোকেন ও অ্যালকোহল আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা ম্যারাডোনা স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার কারণেই মারা গেছেন।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান এই বিচার আগস্টের পরও গড়াতে পারে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুটিং সেট থেকে অভিনেত্রী শেহনাজ গিলের ভিডিও ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


শুটিং সেট থেকে অভিনেত্রী শেহনাজ গিলের ভিডিও ফাঁস

শুটিং সেটের পরিবেশে হঠাৎ একটি বিপত্তিতে পড়েন বলিউডের অভিনেত্রী শেহনাজ গিল। শুটিংয়ের সময় আচমকাই তার নাকের নথ খুলে মুখের ভেতর ঢুকে যায়। বিষয়টি বোঝার আগেই অভিনেত্রী নথটি গিলে ফেলেন। ফলস্বরূপ, মুহূর্তের মধ্যে সেটে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন শেহনাজ নিজেই। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দৌড়ে একটি শট দিতে যাওয়ার সময় আচমকাই তার নাকের নথ খুলে মুখের ভেতর চলে যায়। এরপর তাকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত শেহনাজের কাছে ছুটে আসেন তার সহ-অভিনেতা সৌরভ সচদেবা। সেটে উপস্থিত অন্য সদস্যরাও তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। সৌরভকে শেহনাজের পিঠে চাপড় দিতে দেখা যায়।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনায় শেহনাজ ভয় পেয়ে যান। একইসঙ্গে তিনি অস্বস্তিও অনুভব করছেন। তবে, এমন পরিস্থিতিতে শুটিং বন্ধ করেননি অভিনেত্রী। কষ্ট ও অস্বস্তি সামলে তিনি কাজ চালিয়ে যান।

ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর শেহনাজের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন তার অনুরাগীরা। অনেকেই তার কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন। তবে, কয়েকজন এমন পরিস্থিতিতে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে নিজের নিরাপত্তার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শেহনাজ গিলকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ইশকনামা’ ছবিতে। ছবিটি গত ২৪ জুলাই মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘সিং ভার্সেস কৌর ২’ ও ‘সব ফার্স্ট ক্লাস’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্ঘটনায় আহত খায়রুল বাসার বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুস্থ আছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


দুর্ঘটনায় আহত খায়রুল বাসার বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুস্থ আছি’

থাইল্যান্ডে শুটিং করতে গিয়ে স্কুটি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। দুর্ঘটনায় তার বুকে ও হাঁটুতে আঘাত লেগেছে। তবে বড় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে, বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে খায়রুল বাসার লেখেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের দোয়ায় সুস্থ আছি। আজ বিকেলে স্কুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে কিছুটা ইনজুরড হয়েছি। ইনশাআল্লাহ, দ্রুতই সেরে উঠবো। খুব বড় রকমের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, শুকরিয়া।"

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। উদ্বিগ্নদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, "আমি ঠিকঠাক আছি।"

জানা গেছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার পর থাইল্যান্ডের কোলান দ্বীপে শুটিং শেষে পাহাড় থেকে নামার সময় স্কুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান খায়রুল বাসার এবং চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি। স্কুটিটি চালাচ্ছিলেন মেহেদী রনি। দুর্ঘটনায় তিনিও আহত হন।

পরে শুটিং টিমের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাতায়ায় নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় খায়রুল বাসারের বুকে ব্যথা এবং হাঁটুতে আঘাত হয়েছে। হাঁটতেও তার কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, মেহেদী রনির শরীরের কিছু অংশ ছুলে গেছে।

দুর্ঘটনার কারণে তাদের শুটিং বাতিল করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার কারণে আগামী কয়েক দিন শুটিং করা সম্ভব হবে না বলেও জানান খায়রুল বাসার।

একসঙ্গে কয়েকটি নাটকের শুটিং করতে থাইল্যান্ডে গেছেন এই অভিনেতা। ঈদের পর বিরতি কাটিয়ে সেখানে শুটিংয়ে অংশ নেন তিনি। নাটকগুলোতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন সাদনিমা বিনতে নোমানসহ আরও অনেকে।

তবে দুর্ঘটনার পরও সামনে কয়েক দিনের ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে খায়রুল বাসারের। সুস্থ হয়ে সুন্দর একটি ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, "কিছুদিন এপ্রান্তে ওপ্রান্তে ঘুরবো প্ল্যান করেছি। দোয়া রাখবেন যেন সুস্থতার সাথে একটা সুন্দর ভ্রমণ শেষে ফিরতে পারি। আপনারাও সুস্থ ও সুন্দর থাকুন, ফি-আমানিল্লাহ্।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুলাদীর কাজিরচরে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল সরদারের সামর্থের জানান দিয়ে শোডাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


মুলাদীর কাজিরচরে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল সরদারের সামর্থের জানান দিয়ে শোডাউন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মো. কামাল সরদার দিনভর গণসংযোগ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে শতাধিক মোটরসাইকেল ও অর্ধশতাধিক অটোরিকশার বহর নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কামাল সরদারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়ে গণসংযোগে অংশ নেন। প্রথমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। পরে খাশেরহাট বাজার, বড়ইয়া বাজার ও প্যাদারহাট বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চান।

গণসংযোগকালে কামাল সরদার বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজিরচর ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেই এগোচ্ছি। জনগণ যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং তাদের দোয়া ও সমর্থন দেন, তাহলে আমি তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “কাজিরচরের মানুষের নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”

পরে দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষে চরকমিশনার মডেল গ্রাম সমিতির সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচ শতাধিক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সমাবেশে কামাল সরদার বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখতে চাই। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি কারও বিরুদ্ধে নয়, কাজিরচরের মানুষের পক্ষে কথা বলতে চাই।”

তিনি বলেন, “আমার রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য মানুষের পাশে থাকা। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের কথা শুনে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার পথ সহজ করার বিষয়ে কাজ করতে চাই।”

সমাবেশে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকেরা কামাল সরদারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বলে জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে তৎপরতা বাড়িয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে কামাল সরদারের এ গণসংযোগে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করল লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করল লেবানন

লেবাননের পার্লামেন্ট মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের প্রস্তাব গ্রহন করেছে। এর মাধ্যমে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শাস্তির বিধান বাতিল করলো দেশটি। ২০০৪ সালের পর লেবাননে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, কিন্তু আদালতগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ রায়টি সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে যে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৮৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারাগারে ছিলেন।

বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সাধারণত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। তবে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, এখন সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

পার্লামেন্টে উপস্থিত বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় আগের সময়ের যে দেশগুলোর কাছে প্রত্যর্পণের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হতো, এমন দেশগুলোতে সন্দেহভাজনদের প্রত্যার্পণের ক্ষেত্রে লেবানন সমস্যায় পড়েছে।

স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা ফিরাস হামদান এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন, মন্তব্য করে বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই মুহূর্তে পৌঁছাতে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

জাতিসংঘও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব প্রতিবেশী দেশে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, তাদের লেবাননের পথ অনুসরণ করে ‘এই অমানবিক প্রথা বন্ধ’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এই সিদ্ধান্ত ‘জীবনের অধিকারের প্রতি শক্তিশালী ও নীতিনিষ্ঠ অঙ্গীকার’ প্রকাশ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, লেবানন ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের জন্য শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।’ লেবাননের সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সও এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক ও সাহসী’ বলে অভিহিত করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক্সে লিখেছেন যে, এই ভোট প্রমাণ করে যে লেবানন ‘তার অস্তিত্বের ভিত্তিতে থাকা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার সক্ষমতার মাধ্যমে এখনও একটি দৃষ্টান্ত।’

অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বহু বছরের প্রচারণার পর অবশেষে আইনটি পাস হলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস এএফপিকে বলেন যে, এই সিদ্ধান্ত ‘দেশটির মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি এমন একটি নিষ্ঠুর ও স্বেচ্ছাচারী শাস্তি থেকে স্পষ্ট বিচ্ছেদ, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক হেবা মোরায়েফ মন্তব্য করেন, ‘এই আইনকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করতে লেবাননের কর্তৃপক্ষকে সব মৃত্যুদণ্ডের রায় কমিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অনুমোদন দিতে হবে। পাশাপাশি মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বৃহত্তর সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, গত বছর ইরানে ২ হাজারের বেশি এবং সৌদি আরবে ৩৫০টির বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। জুনে জর্ডান নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ছয় ব্যক্তিকে ফাঁসি দেয়, এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর দেশটির নয় বছরের স্থগিতাদেশের অবসান ঘটে। প্রতিবেশী ইসরাইলে মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, প্রথমে ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এক সামরিক ক্যাপ্টেনকে এবং পরে ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানকে। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসরাইলের পার্লামেন্ট প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমতি দিয়ে নতুন আইন পাস করেছে।

জাতিসংঘে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশের পক্ষে লেবানন বারবার ভোট দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ২০২৪ সালের একটি প্রস্তাবও সমর্থন করেছে দেশটি। লেবাননে জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী জ্যঁ আরনো বলেছেন, সর্বশেষ পদক্ষেপটি ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে ন্যায়বিচারের প্রতি দেশটির অঙ্গীকার আরও এগিয়ে নিয়েছে।’ চলমান আইনসভা অধিবেশনে আলোচনার জন্য উত্থাপিত একাধিক বিলের অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে, এসব বিলের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচিত সাধারণ ক্ষমা আইনও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%