১২:৪৭ পি.এম
শিক্ষা খাতের উন্নয়ন নিয়ে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আইনি জটিলতার কারণে অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই আইনি জটিলতার কারণে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি রোববার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিলসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানেও বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
শিক্ষা বাজেটের প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিক্ষার ফলাফল এখনও সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছি। দেশের কোথাও বাল্যবিয়ে বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ধারাকে এক রাখার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার খরচ কমানোর জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, দেশের সকল স্কুলে প্রি-প্রাইমারি ক্লাস চালু করা হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, আগামী বছরের মধ্যে সরকারিভাবে মিড-ডে মিল, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা প্রদান করা হবে। মানসম্মত শিক্ষা না দেয়ার কারণে অভিভাবকরা কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিপরীতে আউটকাম বা ফলাফল বিবেচনা করা হবে।’
শিক্ষক বদলির প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত দিনে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের বদলি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত করা হবে। আগামী দুই বছর পরে প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক ক্লাসরুমে যেতে পারবেন না।’
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কুল ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে। সামগ্রিকভাবে কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও প্রশাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য সরকার কাজ করছে এবং এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে প্রথমবারের মতো সঠিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন