বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫২ পি.এম
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ফলে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৭৫ বছর বয়সে তার প্রয়াণের পর, মহারাষ্ট্র সরকার অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিমন্ত্রী আশীষ শেলার বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, নানা পাটেকরের শেষকৃত্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। মারাঠি নাট্যজগৎ এবং মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ সময়ের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে।
নানা পাটেকরের শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রা ছিল সংগ্রামময়। মহারাষ্ট্রের ইয়েওলার সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে, তিনি নিজের অভিনয় প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মারাঠি থিয়েটারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। পরবর্তীতে, হিন্দি চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয়ের এক স্বতন্ত্র ছাপ রেখে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গোয়া থেকে নানা পাটেকরের মরদেহ পুনেতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হবে। এরপর পুনের ডোঞ্জেতে অবস্থিত তার ফার্মহাউসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে, গোয়ার বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকর। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ এবং ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে অমলিন।
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য, তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নানা পাটেকর। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করে। তার মৃত্যুতে শুধুমাত্র বলিউড নয়, বরং ভারতীয় অভিনয়জগতের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার সফর দিয়ে এই কঠিন যাত্রার শুরু হবে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ভারত ও ইংল্যান্ডের সফর রয়েছে। এই সফর শেষ হওয়ার পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ ধরে রাখার লড়াই শুরু হবে। মিচেল স্টার্কের ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার সামনে ররি ম্যাকইলরয়ের এক মৌসুমে চারটি গলফ মেজর জেতার সমান চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
শুক্রবার ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু হবে। এরপর আগামী বছর ভারত ও ইংল্যান্ড সফর এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আসবে।
অস্ট্রেলিয়া শেষবার ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০০১ সালে, ভারতে ২০০৪ সালে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১৪ সালে। এই সফরগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টার্ক মন্তব্য করেন, “এক বছরে তিনটি বড় সিরিজ বাইরে খেলা অস্বাভাবিক। এর মধ্যে দুটি জায়গায় আমরা অনেকদিন ধরে জিততে পারিনি। আবার আমরা একটি পুরনো দল, অনেকদিন ধরে একসঙ্গে খেলছি—এগুলোই চাপ বাড়াচ্ছে। তবে যদি আগামী ১২–১৪ মাসে আমরা তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ ও বিশ্বকাপ জিততে পারি, সেটা হবে ররি ম্যাকইলরয়ের চার মেজর জেতার সমান।”
অস্ট্রেলিয়ার মূল খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেকেই এখন ত্রিশোর্ধ্ব। ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক স্বীকার করেছেন যে বয়স নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে দলের লক্ষ্য এখনও বড়।
তিনি বলেন, “আমরা জানি বাইরে থেকে বয়স নিয়ে কথা হচ্ছে। জানি সামনে বড় সিরিজ আছে। একসময় গল্প শেষ হবে, কিন্তু আমরা জানি কী অর্জন করতে পারি। আমরা সবকিছু জিততে চাই, এখনও অনেক কিছু অর্জন করা বাকি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটজন নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে পল্লবী ও রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
আদেশ অনুসারে, ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিনকে পল্লবী থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান ওসি মো. হাসান বাসিরকে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে (সিটিটিসি) বদলি করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবি সিদ্দিককে রূপনগর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রূপনগর থানার বর্তমান ওসি মো. নোমান হোসেনকে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর রেজাউল ইসলামকে রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল খানকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের পরিদর্শক মীর মো. সাজ্জাদ হোসেনকে শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দীনকে একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিজটি এক দশক ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাসগুলি কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে জনতারহাট ও সাকোরপাড় সড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপচে পড়া বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে যায়।
ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে ভেলা বা ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে ব্রিজের অংশ পাড়ি দিতে হয়। এর ফলে এই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রোগীর স্বজনরা চরম বিপদে পড়েছেন।
জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমা খাতুন বলেন, "বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে ভয় পাই। এ সময় অনেকে স্কুলে যায় না।"
বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, "ব্রিজের ওপারে চাষবাস করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ি। অনেক ঘুরে যেতে হয়। ধান-পাট কাটার পর নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। যারা ছোটখাটো ব্যবসা করেন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।"
দলন গ্রামের গৃহিনী মনজিলা বেগম বলেন, "আমার স্বামী অটো চালায়। কিন্তু এই পথে যেতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে কষ্ট করে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় এসে অনেক কথা বলে যায়, কিন্তু ব্রিজটার কাজ আর হয় না।"
খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, "ব্রিজের দুই পাড়ে চারটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। শিশু শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।"
স্থানীয় যুবক জনাব আলী বলেন, "ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চরম কষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।"
জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান জানান, "জনগুরুত্বপূর্ণ সাকোয়ারপাড় ব্রিজটি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি আগামী বছর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর পার্ক এবং শ্রান্তি বিনোদনের স্থানগুলোর পর এখন রাতের অন্ধকারে ব্যস্ততম রাস্তাগুলিও দখল করতে শুরু করেছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরে নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনীর মেজর জলিল সড়ক এবং সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়কের ওপর সিটি করপোরেশনের লোগো সম্বলিত ভারি ইস্পাতের অবকাঠামোর দোকানপাট স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও, কে বা কারা এসব দোকান বসিয়েছে, তা কেউ জানাতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এলাকাবাসী অন্তত ২০টি এ ধরনের দোকান দেখে হতবাক হয়ে যায়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সাথে সেল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং সিটি করপোরেশন এর সাথে জড়িত নয়। বিকেলের দিকে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবৈধ দখলদাররা সেখানে বহাল তবিয়তেই ছিল।
উল্লেখ্য, অতীতে বরিশাল মহানগরীর অবৈধ দখলদাররা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি প্রদান করলেও, তা মান্য না করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত এবং চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে।
ওয়াকিবাহাল মহলের মতে, এসব ঘটনার পেছনে নগরীর একাধিক প্রভাবশালী মহলের আশির্বাদ কাজ করছে।
সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনীর রাস্তাসহ জাতীয় মহাসড়ক দখলের পাশাপাশি পাশের লেকের পাড় দখলের মহোৎসবের সাথে ক্ষমতাশীন দলের নাম বারবার উঠে আসছে। কোটি টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি এ লেকটির মাঝে আলোক-শব্দের ফোয়ারা এবং নান্দনিক আলোকমালার সৌন্দর্য ম্লান করে দিচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। তবে নিকট অতীতের নান্দনিক সৌন্দর্যের এ নগরীকে যেসব অবৈধ দখলদাররা ক্রমাগত গ্রাস করছে, তাদের বেশিরভাগই এ নগরীতে কোনো কর প্রদান না করলেও, করদাতা নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে।
এমনকি তাদের প্রতিদিনের জঞ্জাল পরিষ্কারে করদাতা নগরবাসীর বিপুল করের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে নগর ভবনকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। উল্টো প্রতিনিয়ত এ নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা ক্রমশ লোপ পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ