০৯:০২ এম
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে টেলিটককে সরকারি মালিকানাতেই রাখা হবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রী জানালেন, বর্তমানে দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক; এই চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান উন্নত করতে আরো বেশি মোবাইল টাওয়ার প্রয়োজন, যার জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ দরকার। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, 'টেলিটককে বাজারে রাখতেই হবে। এটি সরকারি মালিকানাতেই থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।'
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৭ দিন বা ১৫ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজের অব্যবহৃত ডেটার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছে। তবে অপারেটররা তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক নীতির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছে। কলড্রপ সমস্যা নিয়েও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অপারেটরদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি বডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস এবং জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে এবং রেমিট্যান্স পাঠানো আরো সহজ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, সেসব স্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে টেলিটকসহ অন্যান্য অপারেটরের সঙ্গে সমন্বয় করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে এবং এর অধিকাংশই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। একসঙ্গে সব ডাকঘর সংস্কার করা সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং ও অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক পেশায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে, যাতে তারা ক্ষতিকর অনলাইন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এর পরবর্তী পর্যায় সকল উপজেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে।
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ৫জি সেবা সম্প্রসারণে মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিনিরপেক্ষ (টেকনোলজি-নিউট্রাল) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ৫জি চালুর জন্য ২.৩ গিগাহার্জ ও ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করা হবে।
চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে পরিচয়পত্রও প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন