মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৮ এম
মাঝ-আকাশে হঠাৎ করে স্তব্ধ হয়ে যায় ২ নম্বর ইঞ্জিন। এই ঘটনার ফলে এক ভীতিকর আতঙ্ক ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে পাইলটের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ১৮৬ জন আরোহী নিয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দাগামী এই ফ্লাইটটি চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পূর্ণমাত্রার জরুরি অবস্থার (ফুল ইমার্জেন্সি) মধ্য দিয়ে অত্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেলে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘এমএইচ১৫৬’ নম্বর ফ্লাইটটিতে ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে মোট ১৮৬ জন আরোহী ছিলেন। বিমানটি আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ ২ নম্বর ইঞ্জিনে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা ও ব্যর্থতা দেখা দেয়। এর পরপরই পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় ভারতীয় সময় বিকেল ৪টা বেজে ৭ মিনিটে চেন্নাই বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিমানটি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে চেন্নাইয়ের আকাশসীমায় পৌঁছানোর কথা ছিল এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শেষে বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে এটি রানওয়েতে স্পর্শ করে। অবতরণের পরপরই বিমানটিকে ৪৫ নম্বর বে-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিমানবন্দরে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা জরুরি উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অবস্থান নেয়।
ঘটনার পরপরই চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ফ্লাইট চলাকালীন বিমানের ২ নম্বর ইঞ্জিনটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে পথ পরিবর্তন করে চেন্নাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এ বিষয়ে চেন্নাই বিমানবন্দরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বলেন, অবতরণটি অত্যন্ত সুচারু ও নিরাপদ ছিল। বিমানে থাকা ১৮৬ জন আরোহীর সবাই পুরোপুরি নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিজস্ব প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ দল উড়োজাহাজটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঠিক কী কারণে ইঞ্জিনে এমন বিভ্রাট ঘটল, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইঞ্জিন বিভ্রাটের মূল কারণ এবং আটকে পড়া ১৮৬ জন আরোহীকে কীভাবে তাদের গন্তব্যস্থল জেদ্দায় পৌঁছে দেওয়া হবে—সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতা আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এক বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ দলে নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এশিয়ান গেমস ক্রিকেট ইভেন্টে বাংলাদেশের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন শান্ত। দীর্ঘ দিন দলের বাইরে থাকার পর এশিয়ান গেমসের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয় তাকে। যদিও তার অন্তর্ভুক্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
তবে সালাহউদ্দিন জানান, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের তালিকায় শান্তর অবস্থান এবং ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে তার অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ অলিম্পিক ভবনে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের সাথে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সেরা ১৫ জন খেলোয়াড়ই খেলবে। কে দলে এল বা কে বাদ পড়ল, সেটা বড় কথা নয়। মূল বিষয় হলো আমাদের সেরা ১৫ জন খেলোয়াড় খেলছে। শান্ত সেরা ১৫ খেলোয়াড়ের একজন। আমরা সেভাবেই তাকে দলে নিয়েছি।’
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থেকে শান্তর দীর্ঘ বিরতিতে উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন কোচ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে সে নতুন কোনো খেলোয়াড় নয়। সর্বশেষ যখন সে টি-টোয়েন্টি খেলেছে তখনও সে খারাপ খেলেনি। বিপিএলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তার অনেক সেঞ্চুরি রয়েছে। আমার মনে হয়, এই ফরম্যাটের সাথে মানিয়ে নিতে তার কোনো সমস্যা হবে না।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, শান্তর এই ফেরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে অভিজ্ঞতার দিক থেকে একটি বাড়তি সুবিধাও দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারকে খেলাব।’
শুরুতে এশিয়ান গেমসের জন্য ‘এইচপি’ দল পাঠানোর কথা ভাবলেও, শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তির দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।
ভারত, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু শক্তিশালী দল পাঠানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শুরুতে এইচপি দলেরই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যখন দেখলাম অন্য দেশগুলোও তাদের মূল জাতীয় দল পাঠাচ্ছে, তখন ভাবলাম আমরা কেন তাদের পাঠাব না?’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ অগ্রাহ্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের জন্য এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। মিলিব্যান্ডকে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে অন্যতম দৃঢ়চেতা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ব্রিটিশ রক্ষণশীল মহলের চাপের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার ইসরাইলের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন। ব্রিটিশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে নেওয়া হচ্ছে। আইসিজের ওই মতামতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে মিলিব্যান্ডের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছেন। উল্লেখযোগ্য যে, মিলিব্যান্ড নিজেও ইহুদি। এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্রিটেনকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা'রও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেন যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইসরাইলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ব্রিটেনের বিরোধিতা করে আর্জেন্টিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারে। ব্রিটিশ রক্ষণশীল বিরোধী দল ও দেশটির ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশও মিলিব্যান্ডের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করছে। ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম টুগেনহাট ইসরাইলের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছেন, বসতি নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে ‘কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরাইল’ মিলিব্যান্ডের পরিকল্পনাকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ইসরাইলকে এককভাবে নিশানা করার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
অবস্থানে অনড় মিলিব্যান্ড
এত চাপের মধ্যেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন না। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের জন্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মিলিব্যান্ড আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও আবেগপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন। সম্প্রতি গাজায় থাকা মানুষের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারকে এখন আরো দৃঢ়ভাবে এবং আরো দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্রিটিশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি মিলিব্যান্ড নিজেই। তার পূর্ববর্তী দুই লেবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও ইয়েভেট কুপার গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন ব্রিফিং পেলেও মিলিব্যান্ডের মতো প্রকাশ্য ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাননি। একজন লেবার সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড ইসরাইল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকারের নীতিতে ‘ব্যাপক পরিবর্তন’ আনার বিষয়টি তুলে ধরতে যাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হলো ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু পণ্য নয়, বসতিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবা ও ব্যবসায় বিনিয়োগও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী আইনগত ব্যবস্থা থাকতে হবে। আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও বেলজিয়াসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাজ্যের পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হতে পারে।
ইসরাইলের নতুন ‘ই১’ বসতি প্রকল্পকে ঘিরেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেরুজালেমের পূর্বদিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে, যা একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরো সংকুচিত করবে।
ইসরাইলপন্থী সমালোচকেরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠীর চাপের কারণে মিলিব্যান্ড এই অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে এমন দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। লেবার পার্টির ১৪০ জনের বেশি এমপিও বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে লেবার সদস্যদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে ৮৭ শতাংশ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দেন। ফলে মিলিব্যান্ডের অবস্থান কেবল দলের একটি অংশের দাবি নয়; তা ব্রিটিশ জনমতের সঙ্গেও অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মিলিব্যান্ডের বর্তমান অবস্থান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ২০১৪ সালে লেবার নেতা থাকাকালে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। সেসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে ‘নীরবতা’র সমালোচনা করেন এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় সরকারের অবস্থানকে ভুল বলে মন্তব্য করেন। একই বছর তিনি একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নেন। গত বছরও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগকারী মন্ত্রীদের মধ্যে মিলিব্যান্ড অন্যতম ছিলেন বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
মিলিব্যান্ডের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এর আগে রক্ষণশীল সরকারের সময় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ইসরাইলবিষয়ক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। স্টারমার সরকারের আমলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু সীমিত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেক-সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানিতে সীমিত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। গাজার ওপর নজরদারি কার্যক্রম নিয়েও ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় মিলিব্যান্ডের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে পরিবর্তনই আনবে না, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে ব্রিটেনের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠতারও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের মুখে ব্রিটিশ সরকার যদি প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা দুর্বল করে, তাহলে তা আগের নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবেই বিবেচিত হবে। কিন্তু মিলিব্যান্ড ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেন, তাহলে তা বিশ্বমঞ্চে ব্রিটেনের আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই কারণে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মিলিব্যান্ডের বর্তমান অবস্থানকে শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে তাদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ।
এ হামলা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিকটবর্তী কিছু এলাকা দখল করার প্রচেষ্টার মধ্যে ঘটে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়।
সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে একটি কারাগারে হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার আনসারুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্টে জানায়, ‘ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
অন্য একটি পোস্টে তারা উল্লেখ করে, হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান এলাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহৎ তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। হুথিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সংলগ্ন এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ইরান লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই অবরোধ চলমান রয়েছে।
হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, জাওফ প্রদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক হাসান সাবুলা বলেছেন, সোমবার একটি কারাগারে হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২০ জন বন্দি নিখোঁজ রয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা এর আগে জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ওই কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক শিশুও ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ