মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৫ এম
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে তাদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ।
এ হামলা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিকটবর্তী কিছু এলাকা দখল করার প্রচেষ্টার মধ্যে ঘটে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়।
সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে একটি কারাগারে হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার আনসারুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্টে জানায়, ‘ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
অন্য একটি পোস্টে তারা উল্লেখ করে, হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান এলাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহৎ তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। হুথিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সংলগ্ন এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ইরান লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই অবরোধ চলমান রয়েছে।
হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, জাওফ প্রদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক হাসান সাবুলা বলেছেন, সোমবার একটি কারাগারে হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২০ জন বন্দি নিখোঁজ রয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা এর আগে জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ওই কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক শিশুও ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসার, সম্পর্ক ও জীবনের টানাপোড়েনে মানবেতিহাসে সম্পর্কের নানা রূপ দেখা যায়। কর্মক্ষমতা ও সামাজিক সফলতার ওপর ভিত্তি করে মানুষের প্রতি পারিপার্শ্বিক আচরণের পরিবর্তন এক নিত্যদিনের বাস্তবতা। সম্প্রতি পারিবারিক জীবনের এই কঠোর বাস্তবতা ও মায়ের চিরন্তন ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গভীর বার্তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসে জীবনের এক নির্মম সমীকরণ। পুরুষ যতক্ষণ উপার্জনক্ষম থাকেন এবং পরিবারে আর্থিক যোগান দিতে পারেন, ততক্ষণ সংসারের সম্পর্কগুলোতে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ও অনুগত্য বজায় থাকে। কিন্তু সময়ের ঘূর্ণাবর্তে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেলে বা শারীরিক অক্ষমতা চলে এলে অনেক সময় স্ত্রী কিংবা সন্তানসহ কাছের মানুষের আচরণে ব্যবধান দেখা যায়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেও দেখা যায়, বিপদে পড়ে স্বামী অসহায় বা অক্ষম হয়ে পড়লে কিছু ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে জীবনসঙ্গী মুখ ফিরিয়ে নিতেও দ্বিধা করেন না।
তবে অন্যান্য সম্পর্কের সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের পার্থক্য এখানেই স্পষ্ট হয়। মায়ের ভালোবাসা কোনো আর্থিক দেনাপাওনা বা উপার্জনের পরিমাপকের ওপর নির্ভর করে না। সন্তান জীবনের যে পর্যায়ই থাকুক না কেন, মায়ের কাছে সে চিরকালই সেই স্নেহের ছোট সন্তান। সন্তানের বিপদে অশ্রুপাত করা এবং তাঁর মঙ্গল কামনায় নিরন্তর প্রার্থনা করাই মায়ের সহজাত ধর্ম।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক জীবনে প্রতিটি সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। স্ত্রীকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই সাময়িক প্ররোচনা বা সম্পর্কের মোহে পড়ে জন্মদাত্রী মাকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। কারণ, জীবনে কোনো বিপর্যয় ঘটলে কিংবা অকালমৃত্যু হলে অন্য যেকোনো সম্পর্কের মানুষ হয়তো একসময় নিজের পথ গুছিয়ে নেয়, কিন্তু মায়ের বুক খালি হলে সেই শূন্যতা ও অশ্রু চিরকাল থেকে যায়।
তাই পারিবারিক টানাপোড়েনের মাঝেও মায়ের নিঃস্বার্থ অবস্থান ও ভালোবাসাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া প্রতিটি সন্তানের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফেনীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ফেনী মডেল থানার এসআই মোতাহের হোসেন, এসআই মোনেম শাহরিয়া চৌধুরী, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, ফেনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকার মমতাজুল হক চৌধুরী ম্যানসনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে আকবর হোসেন সানি চৌধুরী (২৭) ও খোরশেদ আলম (৩৬) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, পলাতক আসামি সোহেল প্রকাশ কালু (৪০) ও রহমান হোসেন (৪৫)-এর সহযোগিতায় বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদক সংগ্রহ করা হয়েছিল। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফেনী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সদর থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, ভাষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগণের টেকসই উন্নয়নকে সমর্থন করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ইউনেস্কোর বর্তমান হেড অব অফিস ও কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুজান ভাইজ।
তিনি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাব পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। মতবিনিময়ের সময় পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, ভাষা, পরিবেশ, বন নির্ভর জনগণের জীবন-জীবিকা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. সুজান ভাইজ মন্তব্য করেন, "জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, ইউএনডিপি ও ইউনিসেফের মতো সংস্থাগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করছে। যদিও ইউনেস্কোর মূল কাজের ক্ষেত্র শিক্ষা ও ভাষা, স্থানীয় জনগণের টেকসই এবং দুর্যোগ-সহনশীল উন্নয়নের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন নির্ভর স্থানীয় জনগণের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ এবং বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাঙ্গামাটির সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে ড. সুজান ভাইজ মন্তব্য করেন, "এ অঞ্চলে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে।" তিনি জানান, জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও অনেক সাংবাদিক কাজ করছেন। স্থানীয় বাস্তবতা ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে ইউনেস্কোর এবং বাংলাদেশ প্রেস ইনিষ্টিটিউট- পিআইবি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি কীভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে উন্নয়ন সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এ সময় বাংলাদেশ প্রেস ইনিষ্টিটিউট-পিআইবি’র প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুণ, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ ইলিয়াস, সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহম্মেদসহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ