ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপ উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের পক্ষে কেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপ উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের পক্ষে কেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ অগ্রাহ্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের জন্য এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। মিলিব্যান্ডকে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে অন্যতম দৃঢ়চেতা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ব্রিটিশ রক্ষণশীল মহলের চাপের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

 

আরও পড়ুন: আমরা মাফিয়া ডন বানাব না: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার ইসরাইলের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন। ব্রিটিশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে নেওয়া হচ্ছে। আইসিজের ওই মতামতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে মিলিব্যান্ডের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছেন। উল্লেখযোগ্য যে, মিলিব্যান্ড নিজেও ইহুদি। এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্রিটেনকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা'রও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেন যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইসরাইলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ব্রিটেনের বিরোধিতা করে আর্জেন্টিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারে। ব্রিটিশ রক্ষণশীল বিরোধী দল ও দেশটির ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশও মিলিব্যান্ডের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করছে। ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম টুগেনহাট ইসরাইলের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছেন, বসতি নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ‘কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরাইল’ মিলিব্যান্ডের পরিকল্পনাকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ইসরাইলকে এককভাবে নিশানা করার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে লাগেজ পাচ্ছেন যাত্রীরা: মন্ত্রী

অবস্থানে অনড় মিলিব্যান্ড

এত চাপের মধ্যেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন না। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের জন্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মিলিব্যান্ড আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও আবেগপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন। সম্প্রতি গাজায় থাকা মানুষের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারকে এখন আরো দৃঢ়ভাবে এবং আরো দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্রিটিশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি মিলিব্যান্ড নিজেই। তার পূর্ববর্তী দুই লেবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও ইয়েভেট কুপার গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন ব্রিফিং পেলেও মিলিব্যান্ডের মতো প্রকাশ্য ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাননি। একজন লেবার সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড ইসরাইল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকারের নীতিতে ‘ব্যাপক পরিবর্তন’ আনার বিষয়টি তুলে ধরতে যাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হলো ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু পণ্য নয়, বসতিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবা ও ব্যবসায় বিনিয়োগও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী আইনগত ব্যবস্থা থাকতে হবে। আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও বেলজিয়াসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাজ্যের পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হতে পারে।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণ হবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে

ইসরাইলের নতুন ‘ই১’ বসতি প্রকল্পকে ঘিরেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেরুজালেমের পূর্বদিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে, যা একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরো সংকুচিত করবে।

ইসরাইলপন্থী সমালোচকেরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠীর চাপের কারণে মিলিব্যান্ড এই অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে এমন দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। লেবার পার্টির ১৪০ জনের বেশি এমপিও বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে লেবার সদস্যদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে ৮৭ শতাংশ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দেন। ফলে মিলিব্যান্ডের অবস্থান কেবল দলের একটি অংশের দাবি নয়; তা ব্রিটিশ জনমতের সঙ্গেও অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মিলিব্যান্ডের বর্তমান অবস্থান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ২০১৪ সালে লেবার নেতা থাকাকালে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। সেসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে ‘নীরবতা’র সমালোচনা করেন এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় সরকারের অবস্থানকে ভুল বলে মন্তব্য করেন। একই বছর তিনি একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নেন। গত বছরও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগকারী মন্ত্রীদের মধ্যে মিলিব্যান্ড অন্যতম ছিলেন বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

মিলিব্যান্ডের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এর আগে রক্ষণশীল সরকারের সময় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ইসরাইলবিষয়ক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। স্টারমার সরকারের আমলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু সীমিত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেক-সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানিতে সীমিত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। গাজার ওপর নজরদারি কার্যক্রম নিয়েও ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক

এ অবস্থায় মিলিব্যান্ডের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে পরিবর্তনই আনবে না, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে ব্রিটেনের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠতারও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের মুখে ব্রিটিশ সরকার যদি প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা দুর্বল করে, তাহলে তা আগের নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবেই বিবেচিত হবে। কিন্তু মিলিব্যান্ড ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেন, তাহলে তা বিশ্বমঞ্চে ব্রিটেনের আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই কারণে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মিলিব্যান্ডের বর্তমান অবস্থানকে শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হুথিদের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হুথিদের হামলা

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে তাদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ।

এ হামলা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিকটবর্তী কিছু এলাকা দখল করার প্রচেষ্টার মধ্যে ঘটে।

এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়।

সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে একটি কারাগারে হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

মঙ্গলবার আনসারুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্টে জানায়, ‘ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’

অন্য একটি পোস্টে তারা উল্লেখ করে, হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান এলাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহৎ তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তবে হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। হুথিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সংলগ্ন এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ইরান লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই অবরোধ চলমান রয়েছে।

হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, জাওফ প্রদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক হাসান সাবুলা বলেছেন, সোমবার একটি কারাগারে হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২০ জন বন্দি নিখোঁজ রয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা এর আগে জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ওই কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক শিশুও ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


বাকৃবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ এর মধ্যে যেটি আগে আসে সেই সময় পর্যন্ত তিনি উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উপাচার্যকে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। এছাড়া মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপার্জন থামলে বদলায় সম্পর্ক, বিপদে সন্তানের নিঃস্বার্থ আশ্রয় কেবল গর্ভধারিণী মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​মাছুদুর রহমান আসলাম

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


উপার্জন থামলে বদলায় সম্পর্ক, বিপদে সন্তানের নিঃস্বার্থ আশ্রয় কেবল গর্ভধারিণী মা

 

সংসার, সম্পর্ক ও জীবনের টানাপোড়েনে মানবেতিহাসে সম্পর্কের নানা রূপ দেখা যায়। কর্মক্ষমতা ও সামাজিক সফলতার ওপর ভিত্তি করে মানুষের প্রতি পারিপার্শ্বিক আচরণের পরিবর্তন এক নিত্যদিনের বাস্তবতা। সম্প্রতি পারিবারিক জীবনের এই কঠোর বাস্তবতা ও মায়ের চিরন্তন ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গভীর বার্তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উঠে আসে জীবনের এক নির্মম সমীকরণ। পুরুষ যতক্ষণ উপার্জনক্ষম থাকেন এবং পরিবারে আর্থিক যোগান দিতে পারেন, ততক্ষণ সংসারের সম্পর্কগুলোতে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ও অনুগত্য বজায় থাকে। কিন্তু সময়ের ঘূর্ণাবর্তে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেলে বা শারীরিক অক্ষমতা চলে এলে অনেক সময় স্ত্রী কিংবা সন্তানসহ কাছের মানুষের আচরণে ব্যবধান দেখা যায়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেও দেখা যায়, বিপদে পড়ে স্বামী অসহায় বা অক্ষম হয়ে পড়লে কিছু ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে জীবনসঙ্গী মুখ ফিরিয়ে নিতেও দ্বিধা করেন না।

তবে অন্যান্য সম্পর্কের সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের পার্থক্য এখানেই স্পষ্ট হয়। মায়ের ভালোবাসা কোনো আর্থিক দেনাপাওনা বা উপার্জনের পরিমাপকের ওপর নির্ভর করে না। সন্তান জীবনের যে পর্যায়ই থাকুক না কেন, মায়ের কাছে সে চিরকালই সেই স্নেহের ছোট সন্তান। সন্তানের বিপদে অশ্রুপাত করা এবং তাঁর মঙ্গল কামনায় নিরন্তর প্রার্থনা করাই মায়ের সহজাত ধর্ম।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক জীবনে প্রতিটি সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। স্ত্রীকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই সাময়িক প্ররোচনা বা সম্পর্কের মোহে পড়ে জন্মদাত্রী মাকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। কারণ, জীবনে কোনো বিপর্যয় ঘটলে কিংবা অকালমৃত্যু হলে অন্য যেকোনো সম্পর্কের মানুষ হয়তো একসময় নিজের পথ গুছিয়ে নেয়, কিন্তু মায়ের বুক খালি হলে সেই শূন্যতা ও অশ্রু চিরকাল থেকে যায়।

তাই পারিবারিক টানাপোড়েনের মাঝেও মায়ের নিঃস্বার্থ অবস্থান ও ভালোবাসাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া প্রতিটি সন্তানের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে ১৬৫ পিস ইয়াবা ও সাড়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


ফেনীতে ১৬৫ পিস ইয়াবা ও সাড়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ফেনী শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফেনীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ফেনী মডেল থানার এসআই মোতাহের হোসেন, এসআই মোনেম শাহরিয়া চৌধুরী, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, ফেনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকার মমতাজুল হক চৌধুরী ম্যানসনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে আকবর হোসেন সানি চৌধুরী (২৭) ও খোরশেদ আলম (৩৬) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, পলাতক আসামি সোহেল প্রকাশ কালু (৪০) ও রহমান হোসেন (৪৫)-এর সহযোগিতায় বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদক সংগ্রহ করা হয়েছিল। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফেনী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সদর থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%