বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৪ পি.এম
বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত এক দশক ধরে স্থায়ী ভবন নেই। পাঠদান চলছে টিনের ঘরে। গরমের সময়ে ঘর অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং বৃষ্টির সময় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বড় খাল এবং কাঁচা প্রবেশপথের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরি, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের দাবি উত্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে সরকারি উদ্যোগে পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায় ১০ বছর আগে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে দরপত্রের মাধ্যমে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে চারটি কক্ষবিশিষ্ট দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই অস্থায়ী অবকাঠামোতেই চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বর্তমানে একটি কক্ষ শিক্ষকদের বসার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের দুই ভাগে ভাগ করে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে এবং স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। ১৩০ শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের টিনের ঘরগুলো গরমের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রোদের তাপে ঘর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বস্তি ও মনোযোগ বজায় রেখে পাঠদান নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ভবন প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথও সমস্যার। প্রবেশদ্বারের রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টির সময় কাদা ও পানিতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি বড় খাল রয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীরা খালের দিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। খেলার সময় বা অসতর্ক মুহূর্তে কোনো শিশু খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং খালের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সুরক্ষিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে বিদ্যালয় ভবনের পাশাপাশি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা সম্ভব। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী ভবনের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, পশ্চিম ধূপতি এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় আশপাশের মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। অভিভাবকগণ বলেন, এ এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। ফলে দুর্যোগের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি বাড়ে।
এলাকাবাসী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্থায়ী ভবন ও আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।
অভিভাবকেরা বলেন, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন অস্থায়ী টিনের ঘরে পাঠ নিতে হচ্ছে। স্থায়ী ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের সীমিত ও অনুপযুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাঁরা বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন, সীমানাপ্রাচীর এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁরা বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ ভবন এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়, স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আকিদুল শেখ (২৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার পর, তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল ১০টার দিকে, নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার পথে ছিল। আগের বৃষ্টির কারণে স্কুলে যাওয়ার রাস্তার পাশে পানি জমে ছিল। এ সময় আকিদুল শেখ শিশুটিকে রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে, তিনি শিশুটিকে রাস্তার পাশের একটি বাঁশবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পালিয়ে যান।
ঘটনার পর, শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকেরা তার শারীরিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ঘটনার কথা শুনে তারা শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে শিশুটিকে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২১ জুন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত করে ইজারা প্রদান বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন জানিয়েছে, অনিয়ম পাওয়া গেলে ইজারা বাতিল করা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণ করা উচিত।
এই দাবি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাস মণ্ডল। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।
বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার কৃষি, মৎস্য আহরণ, জীববৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় হিসেবে দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার ফলে কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের পানির ব্যবহার, মাছ আহরণ এবং জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, ফসলহানি এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই নদী-খালের প্রকৃত শ্রেণি ও অবস্থা যাচাই না করে ইজারা প্রদান করা হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোন্ধামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জানান, গত ১৭ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে এসব খালের ইজারা বন্ধ এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আবেদন করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে নেট-পাটা অপসারণ করা হয়েছে, তবে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হয়নি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বটিয়াঘাটা ও দাকোপের প্রবহমান নদী-খালের ইজারা কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই, অনিয়ম পাওয়া গেলে ইজারা বাতিল, অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ইজারা ও প্রশাসনিক নথি প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, তাঁরা বৈধ মৎস্য ব্যবস্থাপনার বিরোধী নন। বরং কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং সবার অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেব প্রসাদ সরকার, কৃষক ফেডারেশনের সহসভাপতি দীপ্তি রাণী মল্লিক ও আশালতা ঢালী, সহসাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান লাভলু, ঠাকুরদাস মণ্ডল, শ্যামল সরকার এবং লোকজের সমন্বয়কারী পলাশ দাশসহ অন্যান্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ত্যাগ করছেন। এর ফলে মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।”
এ সময় রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়া একটি ইতিবাচক বিষয়।
তিনি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজিপুর-২ এর সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বারির কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ দেখিয়েছেন চলমান মামলার কাগজপত্র, আবার কেউ দেখিয়েছেন ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এদিকে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও করাতকল চলার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখান। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের অধিদপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করে, করাতকল পরিচালনার বিশেষ লাইসেন্স নয়।
মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে যেতে পারছেন না। ফলে করাতকলগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে তাঁর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি করাতকলের অফিসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।
কুলাউড়ায় কতটি করাতকল রয়েছে, কতটির বৈধ লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন আছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে এখন উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ