প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত করে ইজারা প্রদান বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন জানিয়েছে, অনিয়ম পাওয়া গেলে ইজারা বাতিল করা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণ করা উচিত।
এই দাবি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাস মণ্ডল। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।
বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার কৃষি, মৎস্য আহরণ, জীববৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় হিসেবে দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার ফলে কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের পানির ব্যবহার, মাছ আহরণ এবং জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, ফসলহানি এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই নদী-খালের প্রকৃত শ্রেণি ও অবস্থা যাচাই না করে ইজারা প্রদান করা হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোন্ধামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জানান, গত ১৭ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে এসব খালের ইজারা বন্ধ এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আবেদন করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে নেট-পাটা অপসারণ করা হয়েছে, তবে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হয়নি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বটিয়াঘাটা ও দাকোপের প্রবহমান নদী-খালের ইজারা কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই, অনিয়ম পাওয়া গেলে ইজারা বাতিল, অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ইজারা ও প্রশাসনিক নথি প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, তাঁরা বৈধ মৎস্য ব্যবস্থাপনার বিরোধী নন। বরং কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং সবার অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেব প্রসাদ সরকার, কৃষক ফেডারেশনের সহসভাপতি দীপ্তি রাণী মল্লিক ও আশালতা ঢালী, সহসাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান লাভলু, ঠাকুরদাস মণ্ডল, শ্যামল সরকার এবং লোকজের সমন্বয়কারী পলাশ দাশসহ অন্যান্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন