প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত এক দশক ধরে স্থায়ী ভবন নেই। পাঠদান চলছে টিনের ঘরে। গরমের সময়ে ঘর অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং বৃষ্টির সময় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বড় খাল এবং কাঁচা প্রবেশপথের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরি, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের দাবি উত্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে সরকারি উদ্যোগে পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায় ১০ বছর আগে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে দরপত্রের মাধ্যমে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে চারটি কক্ষবিশিষ্ট দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই অস্থায়ী অবকাঠামোতেই চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বর্তমানে একটি কক্ষ শিক্ষকদের বসার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের দুই ভাগে ভাগ করে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে এবং স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। ১৩০ শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের টিনের ঘরগুলো গরমের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রোদের তাপে ঘর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বস্তি ও মনোযোগ বজায় রেখে পাঠদান নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ভবন প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথও সমস্যার। প্রবেশদ্বারের রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টির সময় কাদা ও পানিতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি বড় খাল রয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীরা খালের দিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। খেলার সময় বা অসতর্ক মুহূর্তে কোনো শিশু খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং খালের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সুরক্ষিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে বিদ্যালয় ভবনের পাশাপাশি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা সম্ভব। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী ভবনের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, পশ্চিম ধূপতি এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় আশপাশের মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। অভিভাবকগণ বলেন, এ এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। ফলে দুর্যোগের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি বাড়ে।
এলাকাবাসী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্থায়ী ভবন ও আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।
অভিভাবকেরা বলেন, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন অস্থায়ী টিনের ঘরে পাঠ নিতে হচ্ছে। স্থায়ী ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের সীমিত ও অনুপযুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাঁরা বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন, সীমানাপ্রাচীর এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁরা বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ ভবন এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন