বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৩৬ পি.এম
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে মামলার কার্যক্রম শেষে এক আইনজীবীর ওপর হামলার অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভুক্তভোগী আইনজীবী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে মামলার আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত নির্দেশ দেন যে, অভিযোগটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করতে হবে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের সময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম খান, সাবেক সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুল এবং লাইব্রেরি সম্পাদক মাকসুদুল হাসান সবুজ বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—উম্মে হাফসা তন্বী, হুমায়ুন কবির, মো. আশরাফুল আলম খান, মাহাবুব আলম খান, শাহাদাত হোসেন, জিদান, মো. মোহিবুল্লাহ, রায়হান, খালেদ সাইফুল্লা নাঈম এবং আরমান হোসেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৫ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাদী যৌতুক নিরোধ আইনের একটি মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শুনানি শেষ করেন। এরপর মক্কেলদের নিয়ে চেম্বারে ফেরার সময় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানার সামনে তাঁদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে, প্রথম চার আসামির মদদে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আইনজীবীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
এ সময় তাঁর মাথা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
আক্রান্তদের চিৎকার শুনে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত পথচারী ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় ছয়জনকে হাতেনাতে ধরে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
পরে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে পলাতক ব্যক্তিরা আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে নিয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের তৃতীয় তলায় প্রবেশ করে পুনরায় অতর্কিত হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই গোলাগুলির ফলে ছয় বছর বয়সী একটি শিশু এবং তার মা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে কুতুপালংয়ের ৮ নম্বর ওয়েস্ট ক্যাম্পে ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিশুটির নাম ইউসুফ (৬) এবং তার মা তাহেরার পেটেও গুলি লেগেছে।
বালুখালী পানবাজার এপিবিএন ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোলাগুলির ঘটনায় এক শিশু ও তার মা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গোলাগুলির ঘটনা আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।
আহত তাহেরা ঘটনার সময় তার পাশে বসা ছেলে বাপ্পীকে নিয়ে জানান, তিনি চাল থেকে ধান আলাদা করছিলেন।
হঠাৎ দুই সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি এসে তার ছেলের মাথায় লাগে। একই সময়ে তার পেটেও গুলি লাগে। পরে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার হার্ভে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নিজস্ব কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কোচিংয়ে না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যালয়ের সাধারণ অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সিনিয়র শিক্ষক মাহবুবুল হক বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক ও দুর্ব্যবহারপূর্ণ আচরণ করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকেরা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, সান্তাহার পৌর শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের তৃতীয় তলায় ওই শিক্ষকের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। সেখানে না পড়লে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষক মাহবুবুল হক বলেন, স্কুলের পর কোচিং করানো যেতেই পারে। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো না হওয়ায় দুর্বল শিক্ষার্থীরা তাঁর কোচিংয়ে পড়তে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, শাসন করার কারণে শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করতে পারে।
আদমদীঘি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক নিজে কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে শিক্ষার্থী পড়ানোর বিষয়টি কোনো নীতিমালায় নেই।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, অভিভাবকেরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হওয়া ‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ বইপড়া কর্মসূচিতে কসবা উপজেলার ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৩টি মাদ্রাসা ও ৮টি কলেজসহ মোট ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে ইউএনও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বই পড়ার আগ্রহ ও পাঠাভ্যাস নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কুটি অটল বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীরা বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহের কথা জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ কর্মসূচিটি কসবা উপজেলার কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষামূলক কুইজে অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে বই উপহার দেন।
কর্মসূচির আওতায় কসবা উপজেলার ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৩টি মাদ্রাসা ও ৮টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী বাছাই করে তাদের পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, বইপড়া কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি কমাবে, তাদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সন্ত্রাসীরা নুর আলম (৪৬) নামে এক ওয়ার্কশপ মালিককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই ঘটনার সময় তার ভাইয়ের একটি মোটরসাইকেলও ছিনতাই করা হয়। বুধবার রাত ১১টার দিকে আলাইয়ারপুর আশ্বাদ ব্যাপারী বাড়ির মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নুর আলম জানান, তার ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তিনি পার্শ্ববর্তী বাহাদুরপুর গ্রামের রাহুল ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এলাকার সন্ত্রাসী রুবেল ও রায়হান তাদের দলবল নিয়ে উৎপেতে ছিল এবং তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। প্রাণের ভয়ে নুর আলম আশ্বাদ ব্যাপারী বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তার ডান হাতের বাহুতে গুলি করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি চিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে, গত ১৫ দিনের মধ্যে বেগমগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, দখলবাজি এবং অস্ত্রবাজির মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গুলি ও বোমার আওয়াজে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দিবা-রাত্রি কয়েকটি বাহিনীর অস্ত্রের মহড়ায় আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। বর্তমানে বেগমগঞ্জের আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামছুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলেন। অনেকেই গুলির শব্দের মতো আওয়াজ শুনেছে বলে জানান। সন্ত্রাসীরা নুর আলমকে মারধর করেছে, তবে ডাক্তাররা আঘাতের স্থান গুলির কিনা তা ভালো করে নিশ্চিত করতে পারবেন। আগামী ৩ দিনের মধ্যে সন্ত্রাসী রুবেল ও রায়হানকে ধরার জন্য পুলিশ জোর অভিযান চালাবে। ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ