ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইমরানের ভাগ্য নির্ধারণে আজ আদালতে শুনানি, ভারত ছাড়তে হবে কাল


ইমরানের ভাগ্য নির্ধারণে আজ আদালতে শুনানি, ভারত ছাড়তে হবে কাল

ভারতে অবস্থান নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। আগামীকাল ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ পেয়েছেন তিনি। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে করা তাঁর আবেদনের শুনানি আজ মঙ্গলবার বম্বে হাই কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে, দেশ ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগের দিন আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন অভিনেতা।

মার্কিন নাগরিক হলেও, ইমরান খান দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডও রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় তাঁকে পুলিশ কর্তৃক সাময়িকভাবে আটক করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছিল।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর, ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, অভিনেতার দাবি, তিনি ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি। এমনকি কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও আদালতে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: নাম বদলাতেই খুলে যায় ভাগ্য, গ্র্যামি মনোনীত গায়িকা শিল্পা রাও কে?

ভারত ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনে ইমরান অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোন আইনি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই বলেও দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।

এদিকে, ইমরানের ওসিআই নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিনেতা আদালতের কাছে দেশ থেকে বহিষ্কারসহ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সাময়িক সুরক্ষাও চেয়েছেন।

গত সোমবার, ২৬ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল, তবে তা পিছিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হয়। আজকের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপর নির্ভর করছে ইমরানের আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পরিস্থিতি। তবে, এই মুহূর্তে তাঁর আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: আনুশকা শর্মা তৃতীয়বার মা হচ্ছেন? জল্পনা ছড়িয়েছে ভিডিওর পর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক কোমির বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ: ফৌজদারি অপরাধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক কোমির বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ: ফৌজদারি অপরাধ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ তুলেছে। জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য বেআইনিভাবে প্রকাশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। কোমি, যিনি ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তবে নতুন মামলায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। কোমি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সোমবার প্রকাশ্যে আসা আদালতের সিলমোহরযুক্ত নথিতে নতুন অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়। গত অক্টোবর মাসে আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস করতে এফবিআইয়ের সহকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কোমি। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কোমি এক বা একাধিক সহযোগীর মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদকের কাছে জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কোমি নতুন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। কোমি বলেন, ‘তারা আবার ফিরে এসেছে। বিচার বিভাগের এমন ভয়াবহ অপব্যবহার না হলে বিষয়টি প্রায় হাস্যকর মনে হতো। কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের কখনোই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া চলবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার কিছুই বদলায়নি। আমি এখনো নির্দোষ এবং এসব লোককে এখনো ভয় পাই না। আমি এখনো বিশ্বাস করি, ফেডারেল বিচারব্যবস্থা স্বাধীন।’ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এখনো অর্ধেক সময় বাকি রয়েছে উল্লেখ করে কোমি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক বছর আমাদের সবার জন্য কঠিন হবে। আমাদের দৃঢ় থাকতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে হবে।’

নতুন অভিযোগের সূত্র ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইয়াহুর ইমেইল প্ল্যাটফর্মে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার-সংকেতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজতে ওই সাইটের তথ্যপ্রবাহ স্ক্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই সংকেতের সঙ্গে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ ছিল। প্রতিবেদনের সাংবাদিক চার্লি স্যাভেজের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশের নির্দেশ কোমি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন কৌঁসুলিরা।

কোমির আইনজীবী প্যাট ফিটজেরাল্ড সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নতুন অভিযোগকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, সরকার এর আগে একই ঘটনা দুবার তদন্ত করেছে। কিন্তু দুইবারই কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফিটজেরাল্ড বলেন, এবারও কৌঁসুলিরা গ্র্যান্ড জুরির কাছে অভিযোগ উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করেননি। এর বদলে তারা ‘ক্রিমিনাল ইনফরমেশন’ নামের একটি আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন ছাড়াই কৌঁসুলিরা অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।

আইনজীবী বলেন, ‘প্রতিবেদনটি প্রকাশের ১০ বছর পর সরকার কোমির বিরুদ্ধে একটি “ইনফরমেশন” দাখিল করেছে। এটি কোনো বিচারকের অনুমোদন পায়নি, গ্র্যান্ড জুরিও জারি করেনি। এতে এমন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা কোমি করেননি।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতের বিচারক ট্রেভর ম্যাকফ্যাডেন মামলাটি তদারক করছেন। তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে এফবিআইয়ের পরিচালকের পদ থেকে কোমিকে বরখাস্ত করেন তিনি। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে এফবিআইয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন কোমি। কোমিকে বরখাস্ত করার সময় এফবিআই ট্রাম্পের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্ত করছিল। ট্রাম্প বারবার ওই তদন্তকে ‘প্রতারণা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার সমালোচকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মধ্যে কোমিও রয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে কোমি ও তার অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ডিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘কোমি, অ্যাডাম “শিফটি” শিফ, লেটিসিয়ার কী হলো? তারা সবাই ভয়াবহ অপরাধে দোষী, অথচ কিছুই করা হচ্ছে না।’ এখানে তিনি সাবেক এফবিআই পরিচালক কোমি, ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাডাম শিফ এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কথা উল্লেখ করেন। পোস্টে ট্রাম্প বন্ডিকে আর দেরি না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘এখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

এর পাঁচ দিন পর, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কোমির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা বলা এবং আইনসভা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে মামলার দায়িত্বে থাকা কৌঁসুলি লিন্ডসে হ্যালিগানকে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল—এই যুক্তিতে পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে দ্বিতীয় মামলা

এরপর ২৮ এপ্রিল কোমির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ আনে ট্রাম্প প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝিনুকের খোলস দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ বার্তা সাজিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন কোমি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এখানে ‘৪৭’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘৮৬’ শব্দটি ইংরেজিতে ‘নাকচ করা’ বা ‘বাদ দেওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। খাবার পরিবেশন খাতে কোনো খাবার বা গ্রাহককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ‘৮৬’ শব্দটি সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়। দ্বিতীয় মামলাটি এখনো চলমান।

কোমির মেয়ের চাকরিচ্যুতি বেআইনি ঘোষণা

সোমবার কোমির বিরুদ্ধে তৃতীয় দফা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই পৃথক একটি মামলায় তার মেয়ে মরিন কোমিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ঘোষণা করেন এক ফেডারেল বিচারক। মরিন কোমি সাবেক সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গত বছর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করে আসছেন, তার বাবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের কারণে তাকে প্রতিশোধমূলকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আদালত তাকে আগের পদে পুনর্বহাল এবং বকেয়া বেতন দেওয়ার অধিকারী বলে রায় দিয়েছেন।

জেমস কোমি তার বিরুদ্ধে আনা সব ফৌজদারি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সর্বশেষ অভিযোগগুলো খারিজ করার জন্যও তার আইনজীবীরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোর নজরুলের ত্রিশাল: গল্প ও স্মৃতির গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


কিশোর নজরুলের ত্রিশাল: গল্প ও স্মৃতির গুরুত্ব

রুদ্র আল মুত্তাকিন

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মানুষের জীবন কি কখনো ভৌগলিক সীমারেখায় বাঁধা পড়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? সম্ভব নয় মনে হয়! তথাপি কিছু স্থান ও কাল মানুষের জীবনের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে যে, সেই মানুষটিকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ফিরে যেতে হয় সেই মাটির কাছে। তার ধুলো-মাটি, জল-হাওয়া, লোকজীবন এবং বিস্মৃতপ্রায় স্মৃতির কাছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বুঝতে গেলেও তেমন একটি ফিরে দেখা অপরিহার্য। বাংলা সাহিত্যের আকাশে যিনি ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন। যাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, যাঁর কবিতায় প্রেম ও বিদ্রোহ পরস্পরের হাত ধরেছিল—তাঁর জীবনেও এমন কিছু ভৌগোলিক সফরের স্মৃতি রয়েছে, যাদের কথা বলতে গেলে ইতিহাসের ‘গম্ভীর’ বয়ান খানিক থেমে যায়, কান পাততে হয় মাটির নিজস্ব ভাষায়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল তেমনই একটি স্থান যা কবি নজরুলের জীবনে নানা ভাবে প্রভাব ফেলেছে। এখানে নজরুল কবি হিসেবে আসেননি। এসেছিলেন এক কিশোর হিসেবে। সামনে ছিল অনিশ্চিত জীবনের দীর্ঘপথ। ত্রিশালযাপনের মধ্য দিয়ে তিনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মানুষ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন। কে জানত এই কিশোরের নাম একদিন বাংলা ভাষার সবচেয়ে দুর্দম উচ্চারণগুলোর একটি হয়ে উঠবে! আজ এত বছর পর ‘ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতির’ পথে হাঁটতে হাঁটতে তাই শুধু নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন খুঁজলে চলে না, খুঁজতে হয় সেই সময়ের সেই কিশোরের স্পন্দন, কিশোরের বেড়ে ওঠার অনুষঙ্গ, আর ত্রিশাল কীভাবে ধারণ করে রেখেছে তার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অথচ বহুমাত্রিক অধ্যায়। কারণ, নজরুলকে ফিরে দেখা মানে কেবল একজন কবিকে স্মরণ করা নয়, তার সময়কেও নতুন করে পাঠ করা।

তিনি নিজেও বিভিন্ন বয়সে ত্রিশালের স্মৃতি স্মরণ করেছেন। তেমনই তাঁর রচিত একটি গল্প ‘অগ্নিগিরি’! আমরা এই লেখায় অগ্নিগিরি গল্পকে কেন্দ্র করে কিশোর নজরুলের ত্রিশাল ভ্রমণ করব।

‘অগ্নিগিরি’ গল্পের পটভূমি ও বাস্তব ত্রিশাল:

আগেই বলেছি, ‘অগ্নিগিরি’ ছোটগল্পটির প্রেক্ষাপট হলো ত্রিশাল। গল্পটিতে সরাসরি উল্লেখ রয়েছে ‘ত্রিশালের মাদ্রাসা’, ‘গফরগাঁও-এর জমিদারের হাতি’ এবং ‘ময়মনসিংহের হাসপাতাল’-এর মতো বাস্তব অনুষঙ্গ। নজরুল তাঁর এই গল্পে যে ‘বীররামপুর’ গ্রামের চিত্র এঁকেছেন, তা মূলত বাস্তব জীবনের ‘দরিরামপুর’ গ্রামকেই নির্দেশ করে।

বাস্তবতার সঙ্গে গল্পের এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্ট হয় ভৌগোলিক অবস্থানের বর্ণনায়। নজরুল ত্রিশালে থাকাকালীন শেষপর্যন্ত নামাপাড়ার বিচ্যুতিয়া ব্যাপারীবাড়িতে জায়গির ছিলেন। এই বাড়ির ঠিক পাশের গ্রামটি হলো ছলিমপুর। ছলিমপুরের মানুষজন বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়ি পেরিয়ে এবং একটি বটগাছ অতিক্রম করে দরিরামপুর বাজারে যাতায়াত করতেন। এই বাস্তব ভৌগোলিক চিত্রটিই গল্পে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

কৈশোরের স্মৃতি ও নজরুলের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি:

ত্রিশালের মাটিতে পা রাখার সময় কাজী নজরুল ইসলামের বয়স ছিল চৌদ্দ কি পনেরোর কাছাকাছি। এই বয়সে পৃথিবীকে দেখার চোখ তৈরি হয়। নিজের মতো করে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু জীবন তখনো নজরুলের জন্য স্থির কোনো আশ্রয় সাজিয়ে রাখেনি। পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছেড়ে আসা, নতুন মানুষের সংসারে জায়গা করে নেওয়া, এক আশ্রয় ছেড়ে অন্য আশ্রয়ে যাওয়া-এই ছিল তাঁর ত্রিশাল জীবনের বাস্তবতা। পরে যে মানুষটি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহের এক অনন্য ভাষা হয়ে উঠবেন, তাঁর কৈশোরের দিনগুলোতেও কি সেই স্বাধীনচেতা সত্তার কোনো আভাস ছিল?

প্রশ্নটি আরও কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে ওঠে নজরুলের ‘অগ্নিগিরি’ গল্পের কাছে গেলে। গল্পের চরিত্র, সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কবির ত্রিশাল-জীবনের কিছু সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উঠে এসেছে সবুর, নূরজাহান ও রুস্তমের প্রসঙ্গ। গল্পের ভেতরকার মানুষদের সঙ্গে নজরুলের বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মিল ছিল কি না, কিংবা কৈশোরের কোনো অভিজ্ঞতা গল্পের উপাদান হয়ে উঠেছিল কি না—এসব প্রশ্ন পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক শতাব্দীরও বেশি আগের ত্রিশালে।

নজরুল ১৯১৪ সালের জুনে দারোগা রফিজউল্লাহর সঙ্গে ত্রিশালে এসেছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন দরিরামপুর ইংরেজি হাইস্কুলে, বর্তমানে যা নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত। শুরুতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল কাজীর শিমলা গ্রামে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন এই পথ হেঁটে যাতায়াত করতে হতো তাঁকে। পরে রফিজউল্লাহ তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন নামাপাড়া গ্রামের কাজী হামিদুল্লাহর বাড়িতে। সেখানেও বেশিদিন থাকা হয়নি তাঁর। এরপর আশ্রয় মেলে বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে, পুকুরের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে।

এই বাড়ি বদলের ঘটনাগুলো নিছক জীবনী-তথ্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কিশোর বয়সে জায়গির থাকার অভিজ্ঞতা, নিজের ইচ্ছা ও অন্যের নিয়মের মধ্যে টানাপোড়েন, আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার বাস্তবতা-এসবের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে মানুষের বেড়ে ওঠার গল্প। ‘অগ্নিগিরি’র সবুরের সঙ্গে নজরুলের জীবনের তুলনা টানতে গেলে এই অভিজ্ঞতার জায়গাটিই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কেননা সবুরের জীবনেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। তবে মিল থাকলেই যে চরিত্রটি কবির আত্মপ্রতিকৃতি, তা নিশ্চিত বলা যায় না।

ত্রিশাল তাই এখানে শুধু নজরুলের জীবনের একটি অধ্যায়ের নাম নয়। তাঁর কৈশোরের বাস্তবতা আর সাহিত্যের সম্ভাব্য অনুরণনকে পাশাপাশি রেখে দেখা যায়। ‘অগ্নিগিরি’ সেই দেখার একটি জানালা খুলে দেয়।

ত্রিশালের এই দিনগুলোতে একদিকে যেমন ছিল ময়মনসিংহের শ্যামল প্রকৃতি ও আতিথেয়তা, অন্যদিকে ছিল নিঃসঙ্গতা ও কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। ‘ভিনদেশি’ কথনরীতির কারণে স্থানীয় বালকদের কাছে উত্ত্যক্ত হওয়া, কিংবা তাঁর প্রতিভা (গান গাওয়া, বাঁশি বাজানো, পরীক্ষায় প্রথম হওয়া) দেখে সহপাঠীদের ঈর্ষা করার মতো ঘটনাও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল।

কৈশোরের সেই অম্লমধুর স্মৃতি নজরুল কখনো ভোলেননি। ১৯২৬ সালের গফরগাঁওয়ের প্রজা সম্মিলনীতে পাঠানো চিঠিতেও তিনি ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর অশেষ ঋণ এবং শৈশবের উজ্জ্বল স্মৃতির কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। ‘অগ্নিগিরি’ গল্পের মাধ্যমে নজরুল তাঁর কিশোর বেলার সেই চেনা ভূমি, চেনা মানুষ আর ফেলে আসা দিনগুলোকেই সাহিত্যের পাতায় চিরদিনের জন্য অমর করে রেখে গেছেন।

এই প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মাওলা প্রিন্স বলেন, ‘ত্রিশাল অধ্যায় বাদ দিয়ে নজরুলের জীবন বিচার করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি ত্রিশালে এসেছিলেন 'মানুষ হতে' এবং ময়মনসিংহ জেলার কাছে তিনি 'অশেষ ঋণে ঋণী'। তাঁর জীবনে প্রথমত ত্রিশাল এবং দ্বিতীয়ত করাচি ছিল দূরদেশ ভ্রমণ বা অবলোকন। তাঁর সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্মে এই দুই অঞ্চলের প্রকৃতি ও মানুষের সমাহার ঘটেছে। 'অগ্নিগিরি' ছোটগল্প, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁকে লেখা চিঠি ও গফরগাঁও নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মেলনে পাঠানো অভিভাষণে ত্রিশাল কেন্দ্রিক তাঁর স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যিক সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।’

বর্তমানে ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণে করণীয়:

কবি নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজীর শিমলায় দারোগা রফিজউল্লাহর বাড়ি ও নামাপাড়ায় বিচ্যুতিয়া ব্যাপারীর বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। সেখানে কবির স্মারক, আলোকচিত্র ও বই সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল বর্তমানে নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত। ২০০৬ সালে ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। একই বছর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চালু হয় ‘নজরুল পর্যটন’ কর্মসূচি। এ ছাড়া প্রতিবছর কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়। তবে স্মৃতিকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন নিদর্শন সংগ্রহ ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

স্মৃতি স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে করা যায় সে প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মাওলা প্রিন্স বলেন, কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঢাকাস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এবং ত্রিশালস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দায়িত্ব দিলেই হবে না, কে বা কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন, পরিচালনা করছেন, তিনি বা তারা আদৌ নজরুল অনুরাগী কিনা, দক্ষ ও আন্তরিক কিনা, তিনি বা তারা সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিশ্চিত করে উদ্যোগ নিলে কার্যকর সুফল মিলবে। জাতীয় জীবনের বিকাশের লক্ষ্যে নজরুলচর্চায় যেমন বাজেট বাড়াতে হবে তেমনি বাজেটের সুষ্ঠু ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো সর্বসাধারণের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসাবে দাঁড় করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দ পরকীয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন, স্ত্রীকে প্রভাবিত করার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


গোবিন্দ পরকীয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন, স্ত্রীকে প্রভাবিত করার দাবি

বলিউডের অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সুনীতা একাধিকবার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। বিশেষ করে কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে গোবিন্দের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এবার এই অভিযোগগুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন গোবিন্দ। অভিনেতার দাবি, কেউ একজন তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করছেন।

সম্প্রতি এবিপি লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতির আভাস তিনি সাত-আট বছর আগে থেকেই পেয়েছিলেন। অভিনেতার মতে, তাঁর সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক মন্তব্য ও বদনাম ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই একসময় তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

স্ত্রীর অভিযোগের জবাবে সরাসরি পাল্টা আক্রমণে যেতে চান না গোবিন্দ। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের মন্তব্য নিয়েও তাঁর আপত্তি নেই। তবে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি কথা বলার পরিবর্তে নীরব থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

গোবিন্দের দাবি, তাঁকে এবং সুনীতাকে ঘিরে একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, কেউ তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করছেন। যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি। তাঁর মতে, কথার মাধ্যমে সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়তে পারে। তাই কাউকে বিব্রত বা অসম্মান না করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চান তিনি।

দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চললেও সুনীতার অবদান তিনি অস্বীকার করেননি। গোবিন্দ নিজের জীবনে অর্জিত পরিচিতি ও সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও স্ত্রীর প্রতি অসম্মান করার ইচ্ছা তাঁর নেই।

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ তাঁর জীবনের আরেকটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। পায়ে গুলি লাগার ঘটনার পর এক পা হারানো ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন। এমনকি ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গোবিন্দ ১৯৮৭ সালে সুনীতা আহুজাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান, মেয়ে টিনা ও ছেলে যশবর্ধন। সম্প্রতি গোবিন্দের আসন্ন ছবি ‘রূপা’র সহশিল্পী কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দম্পতিকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পরকীয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ ও যুবলীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ ও যুবলীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী একটি মামলায় পুলিশ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর মডেল থানার একটি বিশেষ দল তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালায়।

কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মো. ইবাদত হোসেন (৩৫), যিনি বলুহর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য। অপরজন হলেন—কোটচাঁদপুর পৌরসভার রেলস্টেশন দর্গাতলা পাড়া এলাকার মো. আশাদুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম (৪২), যিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভা যুবলীগের সদস্য।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%