মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২১ পি.এম
ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিশনে নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন দেখে আশাবাদী অভিনেত্রী ফ্রিদা পিন্টো। তার মতে, পর্দায় নিখুঁত, আদর্শ ও নীতিবান নারী চরিত্রের পাশাপাশি ভুলত্রুটি, দুর্বলতা ও দ্বন্দ্বে ভরা বাস্তবধর্মী চরিত্রই দর্শকের কাছে অধিক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ, দর্শক এমন চরিত্রের মধ্যে নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান।
বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রিদা বলেন, ত্রুটিপূর্ণ চরিত্রগুলো তার কাছে অধিক আকর্ষণীয়। কারণ, বাস্তব জীবনের মানুষ কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত নয়। অতএব, পর্দায় অতিরিক্ত নিখুঁত চরিত্রের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি করা কঠিন। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘যেসব কিছু নিখুঁত, সেগুলো একঘেয়ে এবং সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের মেলানো যায় না।’
ভারতীয় বিনোদনজগতে সৃজনশীলতার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে তরুণ নির্মাতা ও শিল্পীদের নতুন চিন্তা, ভিন্নধর্মী গল্প এবং সৃজনশীল ভাবনাগুলো যেন প্রত্যাখ্যাত বা দমিয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, নতুন ভাবনা প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে পর্দায় আরও বৈচিত্র্যময় ও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র উঠে আসবে।
২০০৮ সালে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এ লাতিকা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান ফ্রিদা পিন্টো। পরবর্তী সময়ে ‘রাইজ অব দ্য প্ল্যানেট অব দ্য এপস’, ‘ইমর্টালস’, ‘ত্রিশনা’ ও ‘লাভ সোনিয়া’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন ফ্রিদা। ২০১৮ সালে এমিলি ভেরেলেন স্ট্রমের সঙ্গে ‘ফ্রিবার্ড ফিল্মস’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।
ফ্রিদার এই বক্তব্য আবারও সামনে এনেছে বিনোদনজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নারী চরিত্রকে কেবল আদর্শের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং আবেগ, ভুল, সীমাবদ্ধতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবেও তুলে ধরা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ২১ লাখের বেশি হলেও, নির্বাচনে তিনি মাত্র ৩৩টি ভোট পেয়েছেন। এর মধ্যে ১১টি ভোট এসেছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ভারতের রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন ওমপ্রকাশ বিষ্ণোই, যিনি একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের যোধপুর জেলার ওসিয়ান তহসিলের ইন্দন কি ধানি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সরপঞ্চ পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিজেকে জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওমপ্রকাশ ইউটিউবার হিসেবেও পরিচিত। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব মিলিয়ে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ।
এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে রয়েছে ১৪ লাখ, ফেসবুকে ২ লাখ ৩২ হাজার এবং ইউটিউবে প্রায় ৫ লাখ। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়েও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সমর্থন তিনি পাননি। প্রায় ১ হাজার ৬০০ ভোটারের ওই গ্রামে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ৩৩।
নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষক পেয়েছেন ৫২৭ ভোট, বিজয়ী প্রার্থী গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
এনডিটিভিকে ওমপ্রকাশ জানান, গ্রামের মানুষ তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছিলেন। তাঁদের আশ্বাসে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ভোট গণনার পর ফলাফল দেখে তিনি হতাশ হন।
তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসী বলেছিলেন, আপনি নির্বাচনে দাঁড়ান, আমরা আপনাকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে দেব। কিন্তু ভোটের বাক্স খোলার পর দেখলাম, আমি মাত্র ৩৩ ভোট পেয়েছি। ১০টি ভোট পড়েছে “নোটা”য়।’
নির্বাচনে ভোটারদের টাকা বা নেশাজাতীয় দ্রব্য বিতরণ করেননি বলেও দাবি করেন ওমপ্রকাশ। প্রচারের জন্য বড় গাড়িবহর ব্যবহার না করে আগের গাড়িতেই মানুষের কাছে গেছেন বলে জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা এবং সরাসরি ভোটের সমর্থনের মধ্যে পার্থক্যও তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সামাজিক মাধ্যম এক জিনিস, আর বাস্তব পরিস্থিতি অন্য রকম। আমার পাওয়া ৩৩ ভোটের মধ্যে ১১টি পরিবারের সদস্যদের। বাকিগুলো এসেছে আমার সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং ঘনিষ্ঠ— এমন মানুষের কাছ থেকে।’
নির্বাচনে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার ছিল গ্রামের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসহায় প্রাণীদের যত্ন নেওয়া এবং বাসিন্দাদের কাছে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। নিজের পরিচালিত গোশালায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ গরু রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কাজে নিজের প্রায় ৩০ বিঘা জমি দান করেছেন বলে জানান ওমপ্রকাশ।
তবে নির্বাচনে পরাজয়কে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন বলে জানান এই প্রভাবক। ভোটে হারলেও গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজশাহীর পিবিআই কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় মামলার আসামি হিসেবে রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছেন।
এছাড়াও, মামলার সাক্ষী হালিমা খাতুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ কারাগারের সাবেক এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের বর্তমান সিনিয়র জেল সুপার।
পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের কাছে পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের সাবেক ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ মন্তব্য করেছেন, "আমরা চাই সত্য বের হয়ে আসুক।" তিনি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজশাহী কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘কারাবিধি মেনেই পিন্টুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক রানা জানান, পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় ৯ বছর ৯ মাস পর, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন তার ভাই নাসিম আহমেদ রিন্টু। আদালত পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসাদুজ্জামান খান ও আনিসুল হকসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তৎকালীন আইজিপি, কারা কর্মকর্তা ও কারা চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পিন্টুকে হত্যা করেছেন।
অতিরিক্ত অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তার কারণে পিন্টুর জন্য কারাগারেই চিকিৎসক ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। তবে তখনকার কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০০১ সালে ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন পিন্টু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পিলখানা হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন এবং অস্ত্র লুটের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থ হলে ২৬ এপ্রিল হাসপাতালে পাঠানো হয়, পরে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। ৩ মে দুপুরে কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ৭(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সরকার বাংলাদেশকে নতুন তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ডিজিটাল সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আরও জানান, ২০২৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ মোবাইল টাওয়ারকে ফাইবার সংযোগের আওতায় আনার জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের সব প্রান্তের সাধারণ মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যা জাতীয়তাবাদী যুবদল পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মারুফ হাসানের সভাপতিত্বে এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসানের সঞ্চালনায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদসহ অন্যান্য সদস্যরা।
এ সময় পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইসও) ডা. মশিউর রহমান এবং জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আরিফ হাসান শতাধিক সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহবায়ক মারুফ হাসান বাসসকে জানিয়ে বলেন, "আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের পাশাপাশি জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ