ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে


বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেটি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাহকদের মধ্যে যারা ঋণ খেলাপি রয়েছেন, মূল অর্থ একসাথে পরিশোধ করে তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন।

অর্থাৎ, ঋণের বিপরীতে আগে যেমন তাদেরকে নির্দিষ্ট হারে সুদ গুনতে হতো, সেটি আর পরিশোধ করতে হবে না।

তবে এই সুবিধা পেতে হলে গ্রহীতাদেরকে তাদের খেলাপি ঋণের অর্থ আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের পথে?

এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ইতোমধ্যেই দেশটির সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিশেষ এই সুবিধা দেওয়ার ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ আদায় করতে সক্ষম হবে।

পরে সেই অর্থ পুনরায় ঋণ আকারে নতুন গ্রাহকদের দেওয়া হবে, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন তারা।

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কিছু ব্যবসায়ী।

আরও পড়ুন: অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা ঠিক টাইমে ঋণের টাকা পরিশোধ করছি, তাদের কাছে ঠিকই সুদের পুরো টাকাটা নেওয়া হচ্ছে। অথচ যারা পরিশোধ করছে না, জরিমানার বদলে তাদের উল্টো সুদ মাফ করা হচ্ছে। এটা হতাশাজনক।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের যে কৌশল সরকার নিয়েছে, সেটির সফলতা নির্ভর করছে সিদ্ধান্তটির যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘প্রথমত, এটার অপব্যবহার করে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন অন্যায়ভাবে তার সুদ মওকুফ করতে না পারে, বাংলাদেশ ব্যাংককে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে, এই বার্তাও দিতে হবে যে, এই সুযোগ পরে আর দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

নির্দেশনায় কী আছে

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

সুদ মওকুফের সুবিধা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনাটি সোমবারে জারি করা হয়েছে।

১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

ফলে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা দরকার বলে মনে করছে সরকার। ঋণের অনাদায়ী অর্থ যেন ব্যাংকে ফেরত আনা যায়, সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই বিশেষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে ৩৩ নিষিদ্ধ সংগঠন সদস্য গ্রেফতার

এতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্বিকভাবে এই সিদ্ধান্ত দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

নির্দেশনাটি সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।

কারা পাবে

আরও পড়ুন: শ্রমিক নেতাদের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণার দাবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ব্যাংকের 'মন্দ ও ক্ষতিজনক' শ্রেণিতে যেসব ঋণ খেলাপির নাম রয়েছে, তারা সুবিধার আওতায় আসবে।

সাধারণত ৯০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ঋণ পরিশোধ করা না হলে ব্যাংক সেটিকে খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করে।

এর মধ্যে কোনো ঋণের কিস্তি বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় এক বছর বা তার বেশি অতিক্রান্ত হলে সেটা 'মন্দ বা ক্ষতিজনক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ থাকে।

৩০ জুনের আগে যারা এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন, তারা কেবল সুদ মওকুফের সুবিধা নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন তরুণ উদ্যোক্তা ইসতাক আহমেদ

এক্ষেত্রে যে ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে, সেটার পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তারা ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ গ্রহীতার সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবেন যে, তার সুদ মওকুফ করা হবে কি-না।

যেসব ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন কি-না এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে কি-না, সেটা যাচাই করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এসব যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি দেখা যায়, গ্রহীতা ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু সত্যিকার অর্থেই আর্থিক সমস্যায় পড়ায় পুরো অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে তার অতীত রেকর্ড ভাল, তখন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন।’

তবে সুবিধা পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো ঋণগ্রহীতাকে তার অতীতের সকল ঋণ বা আর্থিক দায় একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।

আর সেটি নিশ্চিত করতে পারলে ঋণগ্রহীতার ওপর থেকে সব ধরনের আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করা যাবে।

ফলে তাকে ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড বা তহবিল ব্যয়ও দিতে হবে না।

তহবিল ব্যয় হচ্ছে একটি ব্যাংকের সেই ব্যয়, যা ঋণ দেওয়ার জন্য সংগৃহীত অর্থের বিপরীতে খরচ হয়।

২০২২ সালে প্রকাশিত একটি নির্দেশনায় সুদ মওকুফ করতে গেলে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল।

সেইসঙ্গে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আয়ের খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ না করার শর্তও রাখা হয়েছিল।

২৯ জুন জারি করা নতুন নির্দেশনায় শর্ত দু'টি শিথিল করা হয়েছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন তাদের ঋণ খেলাপিদের সুদ মওকুফের সুবিধা দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘এক্ষেত্রে কৃষক থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত সবার জন্যই সমান সুযোগ থাকবে। ঋণ ৫০ হাজার নাকি ৫০ কোটি টাকার, সেটার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরং কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্পের স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এই সুবিধা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সফলতা কি আসবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, দেশটিতে বর্তমানে নন-পারফর্মিং লোন বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

বিপুল পরিমাণ এই অর্থের প্রায় পুরোটাই নানান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে।

মূলত তৎকালীন সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীরাই ব্যাংকখাতের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকাশ করা অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এস আলমসহ সুবিধাভোগী ওইসব গোষ্ঠী ও ব্যক্তিরা দেশ চলে গেছে। ফলে তাদের ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

এ অবস্থায় নগদ অর্থ সংকটে অনেক ব্যাংক নতুন করে ঋণ তো দিতেই পারছে না, এমনকি সাধারণ গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে গিয়েও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেগ পেতে হচ্ছে।

ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফলে ব্যাংকগুলো বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদ মওকুফের যে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে, সেটা একটা ভালো উদ্যোগ। এর ফলে খেলাপি ঋণের অর্ধেকও যদি ব্যাংকে ফেরত আনা যায়, সেটাও একটা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তবে ব্যাংকগুলোর সবাই নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করলে বা এর অপব্যবহার হলে সরকারি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়া সুদ মওকুফের এমন সুযোগ পরবর্তীতে আর না দেওয়ার বিষয়েও জোর দিচ্ছেন কেউ কেউ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শন

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অধিকতর শৃঙ্খলাবদ্ধ করার লক্ষ্যে

বাস টার্মিনাল/ডিপো স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকাল ৩টায় স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকৃত স্থানসমূহ হলো: পূর্বাচল ০৩ নম্বর ও ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল, চুনকুটিয়া (জেলখানা বিপরীতে বাঘাইর), তেঘরিয়া আন্ডারপাস, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া), কাঁচপুর ও ফুলবাড়িয়া এলাকা।

এ কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন সংসদ সদস্য (পাবনা-৫) অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।,

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান,

সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. আজাদ রহমান, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম,

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান,

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম,

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম. এ. বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান,

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ এবং বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক তালুকদার সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিবহন খাতের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের বিদ্যমান অবকাঠামো, যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা, সংযোগ সড়ক, ভূমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ বাস টার্মিনাল/ডিপো স্থাপনের বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়।

পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অধিক কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গবেষণা প্রকল্পের বাজেট বাতিলে উদ্বেগ প্রকাশ সাদা দলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


গবেষণা প্রকল্পের বাজেট বাতিলে উদ্বেগ প্রকাশ সাদা দলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আনা নতুন নীতিমালার বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গবেষণা তহবিল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে পরিচালনার এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রাচীনতম ও শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন এবং গবেষকদের স্বাধীনতা চরমভাবে খর্ব করবে।

বুধবার (১ জুলাই) সাদা দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই উদ্বেগ ও দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথাগতভাবে গবেষণা প্রকল্পের অনুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটের অংশ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হতো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নীতিমালা ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী এই বরাদ্দ পরিচালনা করত। ফলে গবেষণা তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গবেষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী তহবিল বণ্টন সম্ভব হতো।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে সরাসরি কোনো বরাদ্দ না দিয়ে, সেই অর্থ ইউজিসির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান গবেষণা ব্যবস্থাপনা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে গবেষণা অনুমোদন, অর্থছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হবে বলে সাদা দলের শিক্ষকেরা আশঙ্কা করছেন।

সাদা দলের শিক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে ৬৩টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সরাসরি বরাদ্দ না পাওয়ায় এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম, অনুদান ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষকরা মনে করছেন, এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু শিক্ষক ও গবেষকদের ওপরেই পড়বে না, বরং শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সুনাম এবং সামগ্রিকভাবে দেশের গবেষণা পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সামনে রেখে, সাদা দল ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি করেছে। তারা অবিলম্বে গবেষণা বাজেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দের পুরনো রীতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং গবেষণার জন্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ দিতে রাজি না হওয়ায় ইউপি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ দিতে রাজি না হওয়ায় ইউপি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি

বরিশালের মুলাদী এলাকায় ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ দিতে রাজি না হওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে মারধরের শিকার হয়েছেন মো. জাকির হোসেন সিকদার নামে এক ইউপি কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা দেড়টার জলবায়ু, উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে ঘটনার খবর থানায় অভিযোগ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

ইউপি পরিষদ সূত্রের তথ্য মতে, নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুতের সময় ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে তার অফিসে ঢুকে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার নিজের লোকজন নিয়ে এই মারধর ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করছেন জাকির হোসেন সিকদার।

এ ঘটনার জন্য জাকির হোসেন থানায় বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও জিডি থেকে জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নে নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য ৩ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তার অফিস কক্ষে বসে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। আর তখনই বেল্লাল হোসেন সরদার ও সুজন চৌকিদারসহ ৫-৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী তার রুমে প্রবেশ করেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে পিটিয়ে মারধর করেন। তারপর তারা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার এর আগেও তার অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করার ঘটনা ঘটিয়েছিল। এছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণ করতে বাধা দিয়ে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল দিতে দাবি জানায়। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদি ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা কার্ড জোরপূর্বক নিজেদের দখলে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য উল্লেখ করেছেন, নদী ভাঙন কবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে ৩ টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। এই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২০ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। চেয়ারম্যন পরিষদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ওই ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর এবং গুলি করার হুমকি দেন।

মুলাদী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান বলেছেন, ‘ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। আমি অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গিয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। আমি গত মঙ্গলবার পরিষদে যাইনি। তবে ওই দিন কিছু লোকের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথার কাটাকাটি ও হাতাহাতির বিষয়টি শুনেছি। আমি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।’

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেছেন, মারধর এবং প্রাণ নাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় হারানো ১০১ মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


নওগাঁয় হারানো ১০১ মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ

 জেলায় হারানো ১০১টি উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার উদ্যোগে গত এক মাসে (জুন) হারিয়ে যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যলয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন।

এ সময় হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো সনাক্ত ও উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। হারানো মোবাইল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।

জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%