১০:০১ পি.এম
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) এবং সাজিনাজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে শনিবার (১০ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিকেল ক্যাম্পটি স্থগিত করে। মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়ার পর চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং জিএস সাঈদ বিন হাবিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। জিএস সাঈদ বিন হাবিব এজিএসের অভিযোগকে মিথ্যাচার হিসেবে দাবি করে ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত স্থানে কাজ চলছিল। তবে জিএসের ফেসবুক পোস্টে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তিনি অভিযোগ করেন যে, জিএসের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিএমডিএ’তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা
অন্যদিকে, জিএস সাঈদ বিন হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে ক্যাম্প স্থগিত করানোর অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে এজিএসকে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার দেবেন। একই সঙ্গে তিনি এজিএসকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে চ্যালেঞ্জ জানান।
জিএস আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে চাকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। ক্যাম্প স্থগিতের প্রকৃত কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই ব্যাখ্যা করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “জিএস চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদকের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কল দিয়ে এটি বন্ধ করিয়েছেন এটার প্রমাণ আছে। আমার কাছে কল রেকর্ডগুলো আছে। আমি শীঘ্রই এগুলো প্রকাশ করবো। ওনার পৈতৃক সম্পত্তি অতিরিক্ত হওয়ায় ওনি ১০ কোটি টাকার একটি হাস্যকর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন আরকি। ওনি নিঃসন্দেহে মিথ্যাচার করছেন।”
তবে জিএস সাঈদ বিন হাবিব পুনরায় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “এজিএসের সৎ সাহস থাকলে প্রমাণ দেখাতে বলেন। মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়ার পর যখন আমি এজিএসের মিথ্যা পোস্ট দেখতে পাই তখনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। এর আগে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ হয়নি।”
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ সদস্য দগ্ধ
তিনি আরও বলেন, “পুরো এক বছরে এজিএস শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো কাজ করেনি। ঢাকায় ভ্রমণের পথে দুইজন মন্ত্রীকে বোধহয় দুইটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। শেষ সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন