ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাংনীর একাঙ্গী চাষিরা পচন রোগে নিঃস্ব, ৫০ কৃষক দিশেহারা


গাংনীর একাঙ্গী চাষিরা পচন রোগে নিঃস্ব, ৫০ কৃষক দিশেহারা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সুবাসিত একানি বা একাঙ্গী ফসলের খেত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে কসবা ও জালশুকা গ্রামসহ উপজেলার মাঠজুড়ে সেই সুবাস এবং সবুজ সতেজতার মাঝে এখন বিষাদের ছায়া বিরাজ করছে। ক্ষতিকারক পচন রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অর্ধ শত কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৮ হেক্টর জমি আক্রান্ত হলেও মাঠপর্যায়ে প্রায় ১০-১৫ হেক্টর জমির একাঙ্গী ফসল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় চাষিরা চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন; তাদের মাথায় হাত পড়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লাভজনক এই ভেষজ ও মসলা জাতীয় উচ্চ মূল্যের ফসল একাঙ্গী চাষে তারা মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। চড়া দামে বীজ ক্রয়, জমি তৈরি, সার ও কীটনাশকের পেছনে জমানো পুঁজি ও হাড়ভাঙা খাটুনি ঢেলে একটি ভালো ফসলের স্বপ্ন বুনছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ গোড়া পচা রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে একের পর এক খেত। গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঢলে পড়ার পাশাপাশি মাটির নিচের মূল্যবান একাঙ্গী পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গাংনীর কসবা গ্রামের (পূর্বপাড়া) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রবিউল ইসলাম ছলছল চোখে বলেন, "অনেক আশা করে ১০ শতক জমিতে একাঙ্গী চাষ করেছিলাম। ধার-দেনা করে সার ও কীটনাশক দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ পচন ধরে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো খেত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব ভেবে পাচ্ছি না।"

আরও পড়ুন: দেশে ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু, দাম ও গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা

একই কথা জানিয়েছেন কসবা গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন, বদরুদ্দোজা ও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক খেত পচে লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফসল বাঁচাতে চাষিরা বারবার একাধিক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। অনেকেই পচা গোড়া উপড়ে ফেলে ক্ষোভ ও হাহাকার প্রকাশ করছেন। কৃষকদের অভিযোগ, রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি দপ্তরের কোনো কার্যকর তদারকি বা সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে বাজার থেকে নিম্নমানের কীটনাশক কিনে প্রয়োগ করায় উল্টো ক্ষতি আরও বেড়েছে।

ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকদের দাবি, অনতিবিলম্বে সরকারি প্রণোদনা, বিনাসূদে কৃষি ঋণ এবং আগামী মৌসুমের জন্য বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করা না হলে এই অঞ্চলে লাভজনক উক্ত মূল্যের ফসল চাষ একেবারেই বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়বে। একই মতামত ব্যক্ত করেছেন কৃষক বদরুদ্দোজা ও সাদ্দাম আলী।

কৃষি বিভাগের ধানখোলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈমুর রহমান জানান, চলতি বছরে একাঙ্গী পচন রোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুরুর দিকে চাষিদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করেও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। অতি তাপমাত্রা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবকে এর কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। একই অভিমত প্রকাশ করেছেন কসবা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিন রেজা জুয়েল ও গাড়াডোব ব্লকের গিয়াস উদ্দিন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া জানান, অনেক কৃষক বীজ বপনের আগে বীজ শোধন করেন না। আবার অনেকে সঠিক জমি নির্বাচন না করে নিচু জমিতেও চাষ শুরু করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এবার ফসল পচে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

সার্বিক বিষয়ে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবহাওয়াগত পরিবর্তন এবং মাটিতে ছত্রাকের (Fungus) উপদ্রব বাড়ার কারণেই একাঙ্গী ফসলে এই পচন রোগ দেখা দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছি এবং পচন রোধে সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে যেন কৃষকদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা যায়। এছাড়া বিষয়টি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রোগতত্ত্ববিদদেরও অবহিত করার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৭৫ মরদেহ, একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৭৫ মরদেহ, একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত

গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনির জন্য আজ শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে। এই মানুষগুলো ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ভবন ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে ছিল। এখন, মরদেহগুলো উদ্ধার হওয়ায়, একসঙ্গে জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির দরাজ এলাকায় ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ জন ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে, গাজার সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৮,০০০ মৃতদেহ রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, গাজায় ইসরাইলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অন্তত ৭৪,৪৭৫ জন নিহত এবং ১,৭৫,৫১৭ জন আহত হয়েছেন বলে অবরুদ্ধ অঞ্চলটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তথাকথিত “যুদ্ধবিরতি” শুরুর পর থেকে ১,৫১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, ৫,৪০০ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৩৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন

সৌদি আরবের হাইল শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার হোসেন (৪৮) মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হাইলের কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) আনোয়ারের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে।

নিহত আনোয়ার হোসেন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পূর্ব ইন্দ্রা পাশা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতা মনসুর হোসেন। তিনি সৌদি আরবের হাইল শহরে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক ছিলেন। ১০ অক্টোবর হাইল শহরে তার মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গুরুতর আহত হন আনোয়ার হোসেন। পরে পুলিশ তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কিং খালিদ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।

জেসমিন বেগম বলেন, "আমার স্বামীর মরদেহ যেন সন্তানরা দেখতে পারে। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি।"

রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কামাল জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কিছু জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তারপরেও আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুনের

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ফলে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে ওআইসি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে এবং সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের (সিএফএম) ৫২তম অধিবেশনের সাইড লাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ক ওআইসির মন্ত্রীপর্যায়ের বিশেষ কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যরাষ্ট্রগুলো। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে।

ইরাকের বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের (সিএফএম) ৫২তম অধিবেশনের সাইড লাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ক ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ কমিটির বৈঠকে এই অঙ্গীকার করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা ও মন্ত্রীপর্যায়ের বিশেষ কমিটির কো-চেয়ার হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকটকে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ সংকট মোকাবিলায় মানবিক ও আইনি কার্যক্রমে সমর্থন দিতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থাপিত পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

আইনি কাঠামোর আওতায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ করে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডা বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


কানাডা বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে

কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার কানাডীয় হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাননীয় রণদীপ সারাই ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেন। সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত অংশীদারির মাধ্যমে কানাডা ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করা।

সফরকালে, প্রতিমন্ত্রী সারাই চারটি নতুন উদ্যোগের জন্য ৪৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (৩৯০ কোটি টাকা) অনুদান ঘোষণা করেন। এই তহবিল বাংলাদেশে কৃষি উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডাকে ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডিয়ান ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতের উদ্ভাবকদের সঙ্গে কানাডার কৃষি খাতের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনালকে ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডিয়ান ডলার দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কানাডাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে।

বিশ্বব্যাংককে ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে (আইএফসি) ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে সহায়তা করবে।

এই বিনিয়োগের ঘোষণা কানাডা ও বাংলাদেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্কের ধারাবাহিকতার একটি বড় উদাহরণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কানাডা এদেশে ৬.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে এবং ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার অতিক্রম করবে।

সফরের সময়, রণদীপ সারাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি ও জলবায়ু অর্থায়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা সংকট এবং এর টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ, কানাডা ও অন্যান্য অংশীদারের যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় করেন।

সফরকালে, প্রতিমন্ত্রী সারাই সরাসরি দেখেন যে, মানুষ, গবেষণা ও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনিয়োগ কিভাবে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি জানতে পারেন, কানাডার সহায়তায় তরুণ-তরুণীরা, বিশেষ করে নারীরা, কিভাবে দক্ষতা অর্জন করে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন। কানাডা, ব্র্যাক ও অস্ট্রেলিয়ার একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কানাডা এখানে ৪ কোটি ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার প্রদান করেছে, যা গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে।

ঢাকাস্থ আইসিডিডিআর,বি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে, প্রতিমন্ত্রী সারাই দেখেন যে, কানাডার সহায়তায় পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম কিভাবে স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে সাশ্রয়ী ও জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্ভাবন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি কানাডাতেও, লাখো মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে কানাডা আইসিডিডিআর,বি কে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার অনুদান প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ছাড়া কানাডাই একমাত্র দেশ, যারা আইসিডিডিআর,বি কে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এ ছাড়া যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা ও ঘাটতি নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার জন্য কানাডা আইসিডিডিআর,বি কে ২ কোটি ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার সহায়তা প্রদান করেছে।

কক্সবাজারে, প্রতিমন্ত্রী সারাই দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। ২০১৮ সাল থেকে কানাডার ৬০ কোটি কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি সহায়তা কীভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগণের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে অবদান রাখছে, সে সম্পর্কেও তিনি সরাসরি অবগত হন। এ সময় তিনি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা, বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী সারাই কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেখেন, গবেষণার মাধ্যমে কৃষকরা কীভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে, খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে পারছেন। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে কৃষি খাতে উদ্ভাবনী পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সিমিট বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডার সঙ্গে কাজ করবে।

ঢাকায় সফরের অংশ হিসেবে, প্রতিমন্ত্রী সারাই গিলডান অ্যাকটিভওয়্যার বাংলাদেশ লিমিটেড পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কানাডার বৃহত্তম বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশে তারা উৎপাদন ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কার্যক্রম ও পরিচালনা করে আসছে। এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কানাডা-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বও আলোচনায় স্থান পায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%