বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৬ পি.এম
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
আজ ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইউএনসিটিএডি (আঙ্কটার্ড)-এর বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি এবং পরিবেশ উন্নয়নে অগ্রগতির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রবাহে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে তাদের বিনিয়োগ নীতি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করছে, সে বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই আলোচনায় বাংলাদেশ এবং তিউনিসিয়াকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। উভয় দেশের উদ্যোগ এবং অর্জনকে অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়ন কেন্দ্রিক উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, "বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হলে বাস্তব বাধাগুলো দূর করতে হবে।" এর মধ্যে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া, বৈদেশিক অর্থায়ন সহজ করা, মূলধন প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো অন্যতম।
নাহিয়ান রহমান রোচি আরও বলেন, "গত বছর এসব অঙ্গীকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করার পাশাপাশি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।" বর্তমানে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এর ফলাফলও শিগগির প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "এ ধরনের জবাবদিহির চর্চা উদ্যোগগুলোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।"
বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনার ভিত্তি ছিল ইউএনসিটিএডি’র বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশ বাস্তবায়ন শীর্ষক প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়।
ইউএনসিটিএডি’র ২০২৬ সালের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনেও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে গত বছর গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ পাওয়া স্বল্পসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৭ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনসিটিএডি এ ধরনের পদক্ষেপকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ সহায়তা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যক্রম একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ইউএনসিটিএডি’র বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনায় দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের একটি অভিযানে ১৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ ডিএমপির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বুধবার বিভিন্ন অপরাধ প্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুর থানায় ৪২ জন, শাহ আলী থানায় ২১ জন, পল্লবী থানায় ৫২ জন, কাফরুল থানায় ১৪ জন, দারুস সালাম থানায় ১৫ জন, রূপনগর থানায় ১৬ জন এবং ভাষানটেক থানায় ৭ জন রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কিশোর কুমার দাস। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অপরাহ্নে তিনি কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদান করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত ইউএনও কিশোর কুমার দাস উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়ানো এবং সরকারি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের হয়রানি কমিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব কমানো তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কালকিনিকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি কাজ করতে চান।
যোগদানকালে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা নবনিযুক্ত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নতুন ইউএনওর যোগদানে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী মির্জা আব্বাস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর তিনি গাড়ি থেকে নেমে হুইলচেয়ারে করে সমাধিস্থলে পৌঁছান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।
মির্জা আব্বাস প্রয়াত দুই নেতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
এর আগে, চিকিৎসা শেষে গতকাল বুধবার রাতে পাঁচ মাস পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি— সকলের কাছে সেই দোয়া চাই।’
আজ বিকেলে আসরের নামাজের বিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এই দোয়া চান।
তিনি উল্লেখ করেন, 'আপনারা দোয়া করবেন— আমি যাতে বাকি সময়টুকু বেঁচে থাকি দেশ এবং জাতির জন্য, দেশের জন্য যেন কিছু করতে পারি।'
মির্জা আব্বাস বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তার বক্তব্যের সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অধিকাংশ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে হুইল চেয়ারে বসা মির্জা আব্বাসকে দেখে শুভেচ্ছা জানান স্পিকার।
স্পিকার মির্জা আব্বাসের উপস্থিতি ঘোষণা করে বলেন, ‘সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে এসেছেন। আপনাকে (মির্জা আব্বাস) এই সংসদে স্বাগতম জানাচ্ছি।'
এই পুরো জাতীয় সংসদের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। হুইল চেয়ারে বসা মির্জা আব্বাস ডান হাত একটু উঠিয়ে সালাম জানান।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গতকাল রাতে দেশে ফেরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।
আসরের নামাজের বিরতির পর মির্জা আব্বাস সংসদে কিছু বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সময়ে স্পিকারের চেয়ারে বসা ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রথম সারিতে পাঁচ নম্বর আসনটি মির্জা আব্বাসের। হুইল চেয়ারে বসা বলে তিনি সেখানে যেতে পারেননি।
প্রথম সারিতে বিএনপির সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানের মাইক থেকে বক্তব্য রাখেন মির্জা আব্বাস।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদ স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্য্যরে উজ্জ্বল উদাহরণ।'
তিনি বলেন, 'আপনাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। মহান জাতীয় সংসদ স্পিকার হিসেবে আপনার দায়িত্বের পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবে যে মর্মত্ববোধ আপনি দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা আব্বাস।
আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় একটি দিন মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, '২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে।'
গত ১১ মার্চ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় সংসদে না আসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় থাকতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি।’
তিনি বলেন, 'চিকিৎসা শেষে প্রথমবার সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে অসুস্থতার সময়ে যারা দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদের স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। আপনার এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়; এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।'
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সংসদে ফিরে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে, রাজনীতি শুধু মতের পার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।'
নিজের নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার কথা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, মহান আল্লাহ যেন সুস্থতা ও শক্তি দেন, যাতে অবশিষ্ট সময় আরো নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা, শুভ কামনা ও দোয়া আমাকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে সাহস জুগিয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ দান করুন। আমি সকল সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।
তারা আমার জন্য যথেষ্ট দোয়া করেছেন। বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমার সুস্থতা কামনা করেছেন। দলমত নির্বিশেষে আমি সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।'
সংসদের বিরতির সময়ে মির্জা আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজের চেম্বারে কিছু সময় কাটান। এ সময় সংসদ সদস্যরা তার সাথে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ