প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
আজ ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইউএনসিটিএডি (আঙ্কটার্ড)-এর বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি এবং পরিবেশ উন্নয়নে অগ্রগতির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রবাহে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে তাদের বিনিয়োগ নীতি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করছে, সে বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই আলোচনায় বাংলাদেশ এবং তিউনিসিয়াকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। উভয় দেশের উদ্যোগ এবং অর্জনকে অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়ন কেন্দ্রিক উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, "বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হলে বাস্তব বাধাগুলো দূর করতে হবে।" এর মধ্যে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া, বৈদেশিক অর্থায়ন সহজ করা, মূলধন প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো অন্যতম।
নাহিয়ান রহমান রোচি আরও বলেন, "গত বছর এসব অঙ্গীকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করার পাশাপাশি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।" বর্তমানে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এর ফলাফলও শিগগির প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "এ ধরনের জবাবদিহির চর্চা উদ্যোগগুলোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।"
বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনার ভিত্তি ছিল ইউএনসিটিএডি’র বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশ বাস্তবায়ন শীর্ষক প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়।
ইউএনসিটিএডি’র ২০২৬ সালের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনেও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে গত বছর গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ পাওয়া স্বল্পসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৭ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনসিটিএডি এ ধরনের পদক্ষেপকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ সহায়তা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যক্রম একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ইউএনসিটিএডি’র বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনায় দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন