মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০১ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে তাঁর প্রথম ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো করা এবং পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সুফল তুলে ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পারসুয়িং ক্লাইমেট জাস্টিস থ্রু ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, জলবায়ু কূটনীতি জোরদার করার লক্ষ্যে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বৃদ্ধি করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি পৃথক ‘জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। এছাড়া, আগামী নভেম্বরে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনেও (কপ-৩১) প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, নারী ও শিশুরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য পরিণতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে। তাই বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় তাদের ঝুঁকি ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় তাদের সুরক্ষা ও ঝুঁকির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা স্পষ্ট জানাব যে, এদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ও সুবিধার কথাও তুলে ধরব।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য প্লাস্টিকসহ অন্যান্য দূষণকারী উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ কীভাবে আরও কার্যকর জলবায়ু কূটনীতি চালাতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ব্রাইটার্স, সিপিআরডি ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এবং বেশ কয়েকটি সংস্থা সহ-আয়োজক হিসেবে কর্মসূচিটি আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর চিতলমারীর অসুস্থ ও অসহায় প্রবীণ লেখক জুড়ান মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার সন্তোষপুর গ্রামে অসুস্থ লেখকের বাড়িতে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তরে ‘গরিব শিক্ষার্থীদের বই-খাতা কিনে দেওয়া জুড়ান মৃত্যুশয্যায় টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না’- শিরোনামে মানবিক সংবাদটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসার পর তিনি লেখকের বাড়িতে গিয়ে তার শরীরিক অবস্থার বিষয়ে জেনে পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। একইসাথে তিনি লেখকের চিকিৎসার আশ্বাসও প্রদান করেন। এ সময় চিতলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সি এবং সাংবাদিক পংকজ মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও বলেন, "যুগান্তরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা তার সংকটের কথা জানতে পারি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার জন্য যতটুকু সম্ভব আমরা সহায়তার ব্যবস্থা করেছি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"
উপজেলা প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও মানবিক সহায়তার জন্য জুড়ান মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা ইউএনও ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সুশীল সমাজও এই সংবাদ প্রকাশ ও তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তায় প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ মা হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে চলতি মাসেই তিনি মা হতে যাচ্ছেন। জীবনের নতুন এ অধ্যায়ে প্রবেশ করার আগে, সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
জীবনের নতুন অধ্যায়কে কেন্দ্র করে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন মৌসুমীর কাছের মানুষ ও সহকর্মীরা। এ উপলক্ষে তিনি একটি ঘরোয়া আয়োজনে বেবি শাওয়ার সম্পন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত একটি ঘরোয়া গেট টুগেদারের মতো। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বেবি শাওয়ারের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন।
নিজের বাসার ছাদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ-আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায় তাকে। মৌসুমীর সহকর্মী হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা শ্যামল মাওলা, নাজিয়া হক অর্ষা, অহনা রহমান, নূর ইমরান মিঠু এবং গায়িকা ঐশীসহ আরও অনেকে। হবু মা মৌসুমী হামিদ কাছের মানুষদের সঙ্গে গল্প, আড্ডা ও আনন্দে সময় কাটান।
এদিকে, বেবি শাওয়ারের পর অভিনেত্রীকে স্বামী আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা গেছে। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে মৌসুমী হামিদের বিয়ের আগে দীর্ঘ ১৪ বছরের বন্ধুত্ব ছিল। দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান মৌসুমী।
এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে মৌসুমী বলেন, তার মা হওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করতে বন্ধুরা একটি স্বল্প পরিসরে এ আয়োজন করেছিলেন। তাই অনেককেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, অতিথিদের দেশীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আয়োজনের মধ্যে ছিল মাছ, ভাতসহ নানা ধরনের খাবার।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘চরকি কার্নিভ্যাল’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবার মা হওয়ার সুখবরটি প্রকাশ্যে আনেন মৌসুমী হামিদ। এরপর থেকেই তার মাতৃত্বের খবর নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার সেই আনন্দের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হলো বেবি শাওয়ারের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টটেনহ্যামের কোচ রবার্তো ডি জেরবি প্রকাশ্যে রিচার্লিসনের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের টটেনহ্যামের প্রথম একাদশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান এই কোচ এই মন্তব্য করেছেন।
ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিয়েতনাম ডট ভিএনের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোচ ডি জেরবি বলেন, ‘লিভারপুলের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচের জন্য রিচার্লিসনকে দলে ডাকা হবে না।’
গত মাসে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর, ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের জন্য টটেনহ্যামের ২৫ সদস্যের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে, এই মৌসুমে স্পার্স প্রিমিয়ার লিগে একটিও গোল করতে না পারলেও, ডি জারবি সেই খেলোয়াড়ের ফিরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন, যিনি ২০২৫/২৬ মৌসুমে স্পার্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন।
ডি জেরবি বলেন, ‘রিচার্লিসনের ব্যাপারে পরিস্থিতিটা সবাই জানে। কারাবাও কাপ হোক বা প্রিমিয়ার লিগ, কোনো কিছুই বদলায়নি। পরিস্থিতি একই আছে।’
প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে টটেনহ্যামের ৩-০ গোলের বড় পরাজয়ের ম্যাচে রিচার্লিসন প্রথম একাদশে ছিলেন, এরপরই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
অ্যানফিল্ড সফরের আগে সংবাদ সম্মেলনে, রিচার্লিসনের টটেনহ্যাম ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে কিনা জানতে চাওয়া হলে সেই পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে ডি জারবি বলেন, ‘আমি জানি না। এটা আমার জন্য কোনো প্রশ্ন নয়। যাইহোক, রিচার্লিসন যখন খেলত, তখন আমরা ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ০-৩ গোলে হেরেছিলাম। হয়তো আপনি ভুলে গেছেন, তাই শুধু মনে করিয়ে দিতে চাইলাম।’
রিচার্লিসন খেলার যোগ্য হলেও তাকে খেলতে দেওয়া হবে না। এমনকি কারাবাও কাপেও না বলে যোগ করেন তিনি। এই কঠোর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিচার্লিসন দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানান। বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডি জারবির কথাগুলো পোস্ট করেন এবং ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার কমেন্টে একটি কান্নার ইমোজি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে চলমান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’-এ দেশটির অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসবের স্ট্যান্ড পরিদর্শন করেছেন রুশ সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি ৫০০ বর্গমিটারজুড়ে তৈরি এসবের এই স্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন। এবারের উৎসবে এটি সবচেয়ে বড় স্ট্যান্ড।
উৎসব উপলক্ষে বিশেষভাবে তৈরি ‘ডিসট্রিক্ট’ নামের এই স্ট্যান্ডে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নানা ব্যবহার তুলে ধরা হচ্ছে। এর অন্যতম আকর্ষণ কাইনেটিক ওয়াল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ায় এ ধরনের দেয়ালের আর কোনো নজির নেই। উপপ্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন উপলক্ষে দেয়ালটিতে বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাও প্রদর্শন করা হয়।
‘ডিসট্রিক্ট’ চারটি থিমভিত্তিক জোনে ভাগ করা হয়েছে—‘এডুকেশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার’, ‘এন্টারটেইনমেন্ট’, ‘হেলথ’ ও ‘ফিনটেক’। দর্শনার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী এসব জোন ঘুরে প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে জানার এবং তা নিজেরা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
শিক্ষা ও ক্যারিয়ারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
‘এডুকেশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার’ জোনে রয়েছে এসবের নিজস্ব লেকচার হল। এখানে দর্শনার্থীরা ‘স্কুল ২১’-এর বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারছেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এজেন্ট ব্যবহারের বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ রয়েছে।
ফক্সফোর্ড, অ্যালগরিদমিকা ও নেটোলজির মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। উৎসবে অংশগ্রহণকারী তরুণেরা এসবের নিয়োগকারীদের কাছ থেকে ক্যারিয়ারসংক্রান্ত পরামর্শ নিতে পারছেন।
এই জোনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ভাইব কোডিং’। এখানে এআইয়ের সহায়তায় ডিজিটাল পণ্য তৈরি এবং ক্যারিয়ার পোর্টফোলিও গড়ে তোলার পদ্ধতি তুলে ধরা হচ্ছে।
বিনোদন ও স্বাস্থ্যসেবায় এআই
‘এন্টারটেইনমেন্ট’ জোনে এআই ব্যবহার করে অডিও ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরির বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তরুণেরা এসব প্রযুক্তি নিজেরাই ব্যবহার করে দেখতে পারছেন।
‘হেলথ’ জোনে রয়েছে ‘গিগাডক’ স্মার্ট মিরর। শরীরচর্চার ফলাফল মূল্যায়নে এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুলও সেখানে পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ‘ফিনটেক’ জোনে এসবের আধুনিক আর্থিক সেবাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ‘পে বাই স্মাইল’ সুবিধা ব্যবহার করে দেখতে পারছেন এবং বিশেষ নকশার সীমিত সংস্করণের কার্ড অর্ডার করতে পারছেন। এ ছাড়া এমন একটি এটিএমও রয়েছে, যেটিতে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি ‘গিগাচ্যাট’ এআই সহকারী ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
উৎসবের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসবের স্ট্যান্ডটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। সেখানে প্রযুক্তি দেখার পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ে জানার, ডিজিটাল টুল ব্যবহারের এবং বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকছে।
পরিদর্শনকালে দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো বলেন, ‘বিশ্বের সামনে রাশিয়ার সক্ষমতা তুলে ধরার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কয়েক মাস ধরে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৬ সালকে রাশিয়ার জাতিসমূহের ঐক্যবর্ষ ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অভিন্ন কল্যাণ ও লক্ষ্য সামনে রেখে একত্রিত হচ্ছে। উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যেও এসব মূল্যবোধ রয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
১৯১ দেশের ১০ হাজার তরুণ
রাশিয়ার জাতীয় প্রকল্প ‘ইয়ুথ অ্যান্ড চিলড্রেন’-এর অংশ হিসেবে ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ইয়েকাতেরিনবুর্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’। ‘ফলো ইয়োর ড্রিম’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে ১৯১ দেশের ১০ হাজার তরুণ নেতা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাশিয়ার ৫ হাজার এবং অন্যান্য দেশের ৫ হাজার তরুণ রয়েছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতি, জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, ক্রীড়া, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, ডিজিটালাইজেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং নাগরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তরুণেরা রয়েছেন।
২০২৪ সালের বিশ্ব যুব উৎসবের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক হাজার কিশোর-কিশোরী অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে রাশিয়ার ৫০০ এবং বিদেশের ৫০০ কিশোর-কিশোরী রয়েছে। ‘দ্য মুভমেন্ট অব দ্য ফার্স্ট’ শিশু কর্মসূচিটি আয়োজন করছে।
২০২৪ সালের ১ থেকে ৭ মার্চ রাশিয়ার সিরিয়াসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব উৎসবে ১৯০ দেশের ২০ হাজার তরুণ নেতা অংশ নিয়েছিলেন। ওই উৎসবের পর রুশ প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক যুব সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিবছর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যুব উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ