০৪:৫৫ পি.এম
ভারতের রাজস্থানের বারমের জেলার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয়টি মসজিদ ও মাদরাসায় মাত্র এক দিনের সময় দিয়ে উচ্ছেদ নোটিশ জারির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)।
সংগঠনটি একে আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের নীতির "স্পষ্ট লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছে।
সংবাদমাধ্যম মাকতুব-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্থানের বারমের জেলার গাদরা রোড তহশিল এলাকায় বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মাদরাসাকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে জমি খালি করে দেয় অথবা কেন তাদের উচ্ছেদ করা হবে না, তা মাত্র একদিনের মধ্যে স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে
এপিসিআর রাজস্থান শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাদাত আলী বুধবার (১৭ জুন) প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি এবং প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে।
অ্যাডভোকেট সাদাত আলী আরও জানান, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোর কাছে যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাতে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অথবা একই দিনে তহশিল অফিসে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নোটিশগুলোতে ১১ জুন তারিখ উল্লেখ করা থাকলেও, সেগুলো ভুক্তভোগী পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছানো হয়েছে ১৭ জুন সন্ধ্যায়। এর ফলে আইনি সহায়তা নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা এবং উপযুক্ত জবাব তৈরি করার জন্য তাদের হাতে ২৪ ঘণ্টাও সময় ছিল না।
অ্যাডভোকেট আলী বলেন, "কোনো ধর্মীয় স্থান বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে প্রভাবিত পক্ষকে তাদের বক্তব্য পেশ করার জন্য একটি ন্যায্য এবং পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া আবশ্যক। মাত্র এক দিনের নোটিশ দেওয়া আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।"
আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল
মানবাধিকার সংস্থাটি যুক্তি দিয়েছে যে, প্রশাসনের এই তাড়িঘড়ি পদক্ষেপ প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূল নীতি, বিশেষ করে 'কোনো প্রতিকূল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কথা শোনার অধিকার’-এর পরিপন্থী।
এপিসিআর আরও উল্লেখ করেছে যে, এই নোটিশগুলো ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (আইনের চোখে সমতা), ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা), ২৫ এবং ২৬ (ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিষয় পরিচালনার অধিকার)-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
উচ্ছেদ ও ভেঙে ফেলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী বিভিন্ন নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংগঠনটি জানায়, যেকোনো উচ্ছেদের আগে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে আদালতে যাওয়ার এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া বাধ্যতামূলক। রাজস্থান প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের সেই মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংগঠনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন ‘তাড়াহুড়ো এবং পক্ষপাতমূলক’ আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই নোটিশের ওপর ভিত্তি করে যদি কোনো একতরফা বা জোর পূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, তবে তারা ভুক্তভোগী কমিটিগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াইয়ে নামবে।
আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার
এপিসিআর অবিলম্বে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত করার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে চলার এবং একটি সুষ্ঠু শুনানি ও বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ছাড়া কোনো ধরনের উচ্ছেদ বা ধ্বংসযজ্ঞ না চালানোর জোর দাবি জানিয়েছে। একই সাথে তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশাসনকে স্বচ্চতা, সাংবিধানিক নিয়ম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন