বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ এম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক ৫ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩ বার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২ দফায় মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ওই দিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর) মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে সর্বশেষ নির্ধারিত দামে।
একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম বুধবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ ও পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
এর আগে, ২ নভেম্বর সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। ওই দিন ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ১৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ৭৮ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ৪২ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষার আবেদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ করা যাবে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত।
বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় বাদে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য প্রার্থীরা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া, দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার সঙ্গে প্রথম বর্ষের অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পরিপূরক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
ফরম পূরণের নির্ধারিত সময়ের পর ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সোনালী সেবার মাধ্যমে পরীক্ষার অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। পরীক্ষার্থীপ্রতি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি ৪০০ টাকা এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের জন্য ৮০ টাকা। কেন্দ্র ফি বাবদ অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তালিকাভুক্ত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় নিষিদ্ধ করেছে বোর্ড। যদি এ ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, প্রবেশপত্রে ভুল থাকলে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের নির্ধারিত সময় পার হয়নি এবং দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য, তারা আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন না। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহাবিশ্বের শক্তিশালী শক্তি-বিস্ফোরণের রহস্য অনুসন্ধানে দুই দশক কাটানোর পর, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সুইফট টেলিস্কোপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন মহাকাশ বাহিনী নিশ্চিত করে যে, এটি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের ওপর দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে।
এই মহাকাশ পর্যবেক্ষণযন্ত্রটির ওজন ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৫২ কেজি। এর পতন ঘটে, যখন এটি কক্ষপথে টিকিয়ে রাখার একটি উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়, যা প্রায় তিন মাস আগে শুরু হয়েছিল। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এটি শব্দের গতির প্রায় ২২ গুণ গতিতে চলছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন মহাকাশ বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিট) সুইফট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ঘটনাটি ঘটে বিষুবরেখা থেকে প্রায় ৩২২ কিলোমিটার উত্তরে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের আকাশে।
নাসার ধারণা ছিল, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় স্যাটেলাইটটির অধিকাংশ অংশ বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণজনিত তীব্র তাপে পুড়ে যাবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। এখন পর্যন্ত এসব ধ্বংসাবশেষের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নর্থ সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর মেদান থেকে স্যাটেলাইটটির পতনস্থলের দূরত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শহরটিতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে, এবং পুরো প্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ। তবে মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের দুর্ঘটনায় কারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২ হাজার ১০০ জনে একজন।
ব্রিটিশ মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লেডেন রয়টার্সকে বলেন, স্যাটেলাইটটির মাত্র কয়েকটি ছোট ও পুড়ে যাওয়া টুকরা পৃথিবীর মাটিতে পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, সেগুলোর কোনোটি থেকেই টেলিস্কোপটির আসল চেহারা চেনার সুযোগ থাকবে না। তাঁর মতে, এ ধরনের আকারের স্যাটেলাইট নিয়মিতই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। মহাকাশ অভিযানের ৭০ বছরের ইতিহাসে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
নাসার এই সুইফট স্যাটেলাইটটি প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল, যার মূল কাজ ছিল গামা-রে বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করা। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে এসব বিস্ফোরণ অন্যতম। তিনটি টেলিস্কোপের সমন্বয়ে তৈরি এই পর্যবেক্ষণযন্ত্র বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাজাগতিক ঘটনা অনুসন্ধান করত।
২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে সুইফট শত শত সুপারনোভার বিস্ফোরণ, কৃষ্ণগহ্বরের নক্ষত্র ছিন্নভিন্ন করার ঘটনা, নক্ষত্রের এক্স-রে বিকিরণ, গ্রহাণু ও ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ করেছে। এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৭ হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এটি মাত্র দুই বছরের জন্য নকশা করা হয়েছিল, তবে এটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর ছিল। গত ২০ অক্টোবর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
নিজস্ব চালিকাশক্তি বা প্রপালশন ব্যবস্থা না থাকায়, সুইফটের কক্ষপথ কয়েক মাস ধরে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছিল। স্যাটেলাইটটির কার্যকাল বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে, গত জুলাইয়ে নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ ক্যাটালিস্ট একটি বিশেষ উদ্ধারযান উৎক্ষেপণ করে। ‘লিংক’ নামের ওই মহাকাশযানের পরিকল্পনা ছিল সুইফটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে আরও উঁচু ও স্থিতিশীল কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া।
কিন্তু মহাকাশে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই লিংক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে, আগস্টের মাঝামাঝি উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরপর সুইফটকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সুইফটের পতনের মধ্য দিয়ে নাসার অন্যতম সফল মহাকাশ পর্যবেক্ষণ অভিযানের সমাপ্তি ঘটল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনীর ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি আবেদন নানামুখী সংকটে ঝুলে রয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, নাগরিকের ভুল, ভুয়া কাগজপত্র, তথ্যের গরমিল, একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ, বাস্তবতার সঙ্গে সংশোধন চাওয়া তথ্যের মিল না থাকা, গলা কাটা পাসপোর্ট, প্রবাসীদের অসম বয়স সংশোধনের আবেদন এবং পাসপোর্ট সংশোধন করে বিদেশে যাওয়া, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা এসব আবেদনের ঝুলে থাকার প্রধান কারণ। এই জটিলতা নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে। নাগরিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এতগুলো আবেদন ঝুলে থাকার ফলে তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এনআইডি সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর চক্রও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, যা ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইসি সূত্র জানায়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কমিশনে ছয়টি ক্যাটাগরির মোট ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৪৩৩টি সংশোধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৯টি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি আবেদন ঝুলে রয়েছে, যার প্রায় ৯২ শতাংশই চলতি বছরের। অনিষ্পন্ন আবেদনের মধ্যে ৭৩ হাজার ৩৭২টি ‘ঘ’ ক্যাটাগরির, যেখানে নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। এই ক্ষেত্রে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশন এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোকে মোট ছয়টি ভাগে বিভক্ত করেছে: ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে নামের বানান বা ছোটখাটো ভুল সংশোধন করা হয়। ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ছবি, স্বাক্ষর বা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের বিষয় থাকে। ‘গ’ ক্যাটাগরিতে নাম কিংবা বাবা-মায়ের নামের বড় পরিবর্তন করা হয়। ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জন্ম তারিখ, বয়স, বাবা-মায়ের নামের তথ্য সংশোধন করা হয়। ‘ক-১’ ও ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ছোটখাটো বানান বা ভুল সংশোধনের কাজ করা হয়। বর্তমানে অনিষ্পন্ন আবেদনগুলোর মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির পরেই সবচেয়ে বেশি আবেদন ঝুলে আছে ‘খ’ ক্যাটাগরিতে, যেখানে জমে আছে ২১ হাজার ৩২৮টি আবেদন।
এরপর ‘ক’ ক্যাটাগরির ১৯ হাজার ৪৪টি, ‘গ’ ক্যাটাগরির ১৬ হাজার ৮১৫টি, ‘খ-১’ ক্যাটাগরির ৪ হাজার ৬০৭টি এবং ‘ক-১’ ক্যাটাগরির ১৪৭৮টি আবেদন ঝুলে রয়েছে। এনআইডি শাখার একজন পরিচালক জানান, নানামুখী জটিলতার কারণে এনআইডি সংশোধন ঝুলে আছে। প্রতিটি আবেদনের পেছনে আলাদা গল্প রয়েছে। নাগরিকরা যে বয়স সংশোধন করতে চান, তাদের মধ্যে অনেকের পারিবারিক ও ওয়ারিশ সনদে দেখা যায় এক ভাই-বোন থেকে অন্যজনের জন্মগ্রহণের বা জন্ম তারিখের পার্থক্য ছয়-সাত মাস; আবার যে বয়স সংশোধন চান, সেই অনুযায়ী তাদের ভোটার হওয়ার বয়স ৭ বা ৮ বছর হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এসব আবেদনের অনেক আবেদনকারী তাদের তথ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন চান, যার মধ্যে অধিকাংশের অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। আবার অনেকেই এনআইডির নাম পরিবর্তন করে জমি দখল বা ঋণ নিচ্ছেন জালিয়াতি করে।
এদিকে এনআইডি সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর চক্র দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এই চক্র ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে এনআইডি জালিয়াতি করে অন্যের জমি দখল করার। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নাগরিকের তথ্য অবৈধভাবে বেচাকেনা হচ্ছে। গত ১৫ জানুয়ারি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও নাগরিকের গোপনীয় তথ্য অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাগরিকের তথ্য বেচাকেনায় মাসে কোটি টাকার বেশি লেনদেন করতেন তারা।
জানা গেছে, দেশের ১৮ লাখেরও বেশি নাগরিকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশন। দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে প্রায় সবকটির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে এই সংস্থাটি।
ইসির এক কর্মকর্তা জানান, এনআইডি সার্ভারের তথ্য অনৈতিকভাবে সংশোধন ও স্থানান্তরের জন্য ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি দেওয়া হতো একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। এর জন্য প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের ওই চক্রটি তা সরবরাহ করত বিভিন্ন কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে। এভাবেই চলছিল রমরমা ব্যবসা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ইসি নাগরিকদের সেবা দিচ্ছে। অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) সময়। আগামীর যাত্রা হবে এই গাড়ির মাধ্যমেই। একদিকে যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ইভির বাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের কারণে দেশে জ্বালানিচালিত সনাতন গাড়ির তুলনায় পরিবেশবান্ধব ইভি প্রযুক্তির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৮২৬টি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিআরটিএ থেকে নিবন্ধিত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ পর্যন্ত দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৬৯টি ফোর-হুইলার ইভি নিবন্ধিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ও খুচরা বাজারের হিসাব অনুযায়ী, দেশের রাস্তায় ইভির ব্যবহার কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। ফোর হুইলার ইভি বা গাড়ির বাজার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও থ্রি-হুইলার (ইজি বাইক) এবং ইলেকট্রিক মোটরবাইকের বাজার ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ থেকে ৬০ লাখ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার এবং ৫০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ই-বাইক চলছে।
এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এবং ইভি জনপ্রিয় করতে ইতিবাচক ট্যাক্স নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে ইভি সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ আসছে।
যদিও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের ইভি বাজার কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশজুড়ে বাণিজ্যিক ও দ্রুত চার্জিং স্টেশনের নেটওয়ার্ক এখনো অত্যন্ত সীমিত। সনাতন গাড়ির মতো ইভির এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পুনঃ বিক্রয় মূল্য গড়ে ওঠেনি। ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের মনে কিছুটা শঙ্কা আছে। সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স ভিত্তিক ইভি ডায়াগনস্টিকসের জন্য দেশের সাধারণ ওয়ার্কশপগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরকে সম্পূর্ণ ইভিবান্ধব করার রূপরেখা রয়েছে। এবারের বাজেটে শুল্ক ছাড়ের ফলে এবং স্থানীয়ভাবে ইভি তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে অটোমোবাইল বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ি একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে দেশে টেসলা, মার্সেডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, আউডি, বিওয়াইডি, ডিপল ও এমজি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। এসব গাড়ির দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে কয়েক কোটি পর্যন্ত।
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে বাজেটে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা দিয়ে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উচ্চ করভারের কারণে সাধারণের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের লক্ষ্য করে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
দেশে চীনের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির গাড়ি সরবরাহ ও উৎপাদনে জড়িত রানার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। দেশে ইভি গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রানার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এফসিএ বলেন, "বৈদ্যুতিক গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা এখন খুবই ভালো। মাঝারি আকারের একটি এসইউভি ব্যবহারকারীর মাসে জ্বালানি খরচ আগে যেখানে ছিল ৩০ থেকে ৪০ হাজার। সেখানে একটি মাঝারি আকারের বিওয়াইডি সিলিওন ৬ প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ব্যবহারীর মাসে বৈদ্যুতিক বিলের খরচ আসে মাসে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা।"
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ