ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজে বড় সংকটে যুক্তরাষ্ট্র!


হরমুজে বড় সংকটে যুক্তরাষ্ট্র!

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন একটি সংকটে পড়েছে। খুব দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং রসদ সংকট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর ছেড়ে গেছে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। একটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ারসহ রণতরিটিকে পরে সিঙ্গাপুর প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, জর্জ ওয়াশিংটন এখন প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করছে। এটিকে ভারত মহাসাগরের দিকে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মোতায়েন থাকা দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির মধ্যে একটি জায়গা নেবে জর্জ ওয়াশিংটন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে থাকা আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন এবং নাবিকদের মনোবল নিয়ে উদ্বেগের পরিস্থিতির মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তিনি সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বিষয়ে জানা যায়, সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ছয় থেকে নয় মাসের জন্য মোতায়েন থাকে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা বাড়াও হতে পারে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন চলতি সপ্তাহে সমুদ্রে ২৬০ দিনের বেশি সময় কাটিয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরির দীর্ঘতম মোতায়েনের একটি।

জাহাজটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাদের পরিবার এবং মার্কিন আইনপ্রণেতারা। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা

এবং আসলে আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধ শুরু হয়।

মার্কিন নৌবাহিনী স্বীকার করেছে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলো সামরিক অভিযানে বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে রণতরিটিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ডাক সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নেতৃত্ব মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—প্রথমে খাবার, এরপর স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী, তারপর ডাক।’ তবে বর্তমানে নাবিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

যদিও আব্রাহাম লিংকনে খারাপ পরিস্থিতির খবর নাকচ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি

পানামা সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে হেগসেথ বলেন, প্রতিটি জাহাজ, নাবিক ও কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। দীর্ঘ মোতায়েন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কিছু মোতায়েন অন্যগুলোর চেয়ে দীর্ঘ হয়ে থাকে। এসব নাবিকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা অন্য সবার চেয়ে বেশি।’

এর পূর্বে সামরিকবিষয়ক দুই সংবাদমাধ্যম নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস জাহাজটির নাবিকদের মনোবল কমে যাওয়ার এবং গুরুতর মানসিক চাপের খবর প্রকাশ করেছে।

হেগসেথের মন্তব্যের পর আব্রাহাম লিংকনে নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের জবাবদিহি দাবি করেছেন কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তারা বিষয়টি তদন্ত, আরও তথ্য প্রকাশ এবং জাহাজটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল নৌবাহিনীর নেতৃত্বকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, লিংকনের দীর্ঘায়িত মোতায়েন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই ঘটছে এবং ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে আরও দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

অ্যারিজোনার সিনেটর ও সাবেক মেরিন রুবেন গ্যালেগো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি দুই দলের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে জাহাজটি পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন। নাবিকদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা ‘শুধু নিন্দনীয় নয়, বিপজ্জনকও।’

ইরান যুদ্ধের কারণে দীর্ঘায়িত মোতায়েন নিয়ে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি জাহাজ ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, ইরানকে দায়ী করল আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, ইরানকে দায়ী করল আমিরাত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এডনকের দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ হামলা সংঘটিত হয়।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমের বরাতে গলফ নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে। হামলার ঘটনায় এডনক এক বিবৃতিতে বলেছে, "হামলায় কেউ আহত হননি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

এডনকের দুই জাহাজে হামলাকে ইরানকে দায়ী করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে,"হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় এডনকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজের ওপর ‘শত্রুতামূলক ইরানি হামলা’ চালানো হয়েছে।" তবে, এতে কোনো হতাহত হয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত আরো বলেছে, "বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং অর্থনৈতিক চাপ বা জিম্মি করার হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ‘জলদস্যুতামূলক কর্মকাণ্ড’। এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জনগণের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি তৈরি হচ্ছে" বলেও দাবি করেছে আবুধাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ড্রোন টাস্কফোর্স ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’ গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ড্রোন টাস্কফোর্স ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’ গঠন

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন বহুজাতিক আক্রমণকারী ড্রোন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তারা এই ঘোষণা করেন। এই টাস্কফোর্সের নাম 'টাস্ক ফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক', এখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সদস্যরা কাজ করবেন। এই বাহিনী সমুদ্রে, পানির নিচে এবং আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করবে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম বিশেষায়িত একমুখী আক্রমণাকারী ড্রোন ইউনিট 'টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক' গঠন করা হয়েছিল প্রায় নয় মাস আগে। এর পর ফ্যালকন স্ট্রাইকের কার্যক্রম শুরু হলো। নতুন এই ইউনিটের উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

স্করপিয়ন স্ট্রাইক গঠনের পর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথমবারের মতো আকাশপথে আক্রমণকারী ড্রোন উৎক্ষেপণ উল্লেখযোগ্য।

'অপারেশন এপিক ফিউরি' সময়ও স্করপিয়ন স্ট্রাইক একমুখী চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করেছে। জুলাই মাসে ইরানের বন্দর স্থাপনায় সমুদ্রে চালকবিহীন আক্রমণকারী নৌযান ব্যবহার করে হামলার সময়ও এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও নতুন কৌশল নিয়ে ব্যাপক উদ্ভাবন হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, 'এই উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে টাস্ক ফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক, স্করপিয়ন স্ট্রাইকের সাফল্যকে আরো এগিয়ে নেবে।'

কুপার আরও বলেন, 'নতুন সক্ষমতাগুলোকে একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলো দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে।'

এদিকে, সেন্টকম আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যালকন স্ট্রাইকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। আঞ্চলিক দেশগুলো এতে যোগ দিলে ফ্যালকন স্ট্রাইক মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতাকে একটি সমন্বিত ও বহুজাতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিণত করবে।

কুপার উল্লেখ করেন, 'এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনেক শক্তিশালী অংশীদার ও বন্ধু রয়েছেন। আমরা যখন নতুন সক্ষমতাগুলো একসঙ্গে সমন্বয় ও কাজে লাগাই, তখন সম্মিলিতভাবে আমাদের শক্তি আরো বাড়ে।'

ফ্যালকন স্ট্রাইকের মার্কিন ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড সেন্ট্রাল (সোসেন্ট)-এর সদস্যরা। এই কমান্ডই এর আগে টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক চালু করেছিল। সোসেন্টের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পার ম্যাকডিল এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত। সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ২১টি দেশে সেন্টকমের আওতাধীন বিশেষ অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল: বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘো-ষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল: বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘো-ষণা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল ১৫ আগস্ট শনিবার। এই উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অগণিত ভক্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। ওইদিন ভোর ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

সেদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সে সময়ের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'এই সংবাদটা নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। আমরা এবারও ভেবেছিলাম তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি আজ ভোর ৬টায়, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।'

মৃত্যুর সময় বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান। এ সময় হাসপাতালে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। স্বজনদের মধ্যে ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তার স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও শেষ সময়ে হাসপাতালে ছিলেন। এছাড়াও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। একই সাথে কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তার।

হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত বছর ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারকি করেন।

আগস্ট মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে তা আর সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া 'আপসহীন নেত্রী' উপাধি পেয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।

রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন থাকে। মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ- এসবও তাঁদের জীবনে অভাবনীয় নয়। বেগম খালেদা জিয়াও চরম পর্যায়ের নির্যাতন সহ্য করেছেন। সহ্য করেছেন স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোক আর দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা।

রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই তিনি বিজয়ী হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ চীন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ফিলিপাইনের নজর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


দক্ষিণ চীন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ফিলিপাইনের নজর

দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের ‘জোরালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মার্কোস বিদেশি সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধির কারণে সমুদ্র-অঞ্চলে সম্পদ আহরণের চেষ্টা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের নতুন উপায় বের করতে হবে। এই বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি মনে করি, আমরা কিছুটা এগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চায় এই উদ্যোগ সফল হোক। এটি সবসময় একটি ইতিবাচক লক্ষণ। মার্কোস জানান, ফিলিপাইনের অতিরিক্ত তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে এবং তারা চীনের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। যৌথ অনুসন্ধানের একটি জোরালো সম্ভাবনা তিনি দেখতে পাচ্ছেন।

তেল ও গ্যাস নিয়ে সহযোগিতার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো খতিয়ে দেখতে ফিলিপাইন ও চীন গত মার্চ মাসে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করে। রিড ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অনুসন্ধানের সম্ভাবনা নিয়ে দেশ দুটি বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চালিয়েছে। কিন্তু কোন দেশের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে, তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা বারবার ভেস্তে গেছে।

সমুদ্রসীমা-সংলগ্ন এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও মার্কোস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারবে। মার্কোস বলেন, চীন থেকে নিজেদের দূরে সরানোর কোনো নীতি বা নীতিগত ঘোষণা আমাদের নেই বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন অনেক ক্ষেত্র খুঁজে পাচ্ছি যেখানে চীনের সঙ্গে আমাদের নিবিড় সহযোগিতা রয়েছে। ফিলিপাইনে এখনও অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী হলো চীন।

উল্লেখ্য, ফিলিপিন ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে সংঘাতের ঘটনায় সেই সম্পর্ক আবারও পরীক্ষার মুখে পড়েছে। বেইজিং প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। এই কৌশলগত নৌপথের মধ্য দিয়ে প্রতি বছর ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। অথচ ২০১৬ সালে ম্যানিলার দায়ের করা একটি মামলায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত বেইজিংয়ের দাবি অবৈধ ঘোষণা করেছিল।

মার্কোস আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে রসদ সরবরাহের অভিযানের জন্য অনুমতি চাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা বা ওই অঞ্চলে নিজেদের অধিকার ছেড়ে দেওয়ার মতো কোনো বিশেষ সমঝোতা বেইজিংয়ের সঙ্গে করা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে ম্যানিলার অবস্থান কোনোভাবে দুর্বল হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%