০৫:০৮ পি.এম
দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের ‘জোরালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মার্কোস বিদেশি সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধির কারণে সমুদ্র-অঞ্চলে সম্পদ আহরণের চেষ্টা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের নতুন উপায় বের করতে হবে। এই বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি মনে করি, আমরা কিছুটা এগিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চায় এই উদ্যোগ সফল হোক। এটি সবসময় একটি ইতিবাচক লক্ষণ। মার্কোস জানান, ফিলিপাইনের অতিরিক্ত তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে এবং তারা চীনের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। যৌথ অনুসন্ধানের একটি জোরালো সম্ভাবনা তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ
তেল ও গ্যাস নিয়ে সহযোগিতার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো খতিয়ে দেখতে ফিলিপাইন ও চীন গত মার্চ মাসে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করে। রিড ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অনুসন্ধানের সম্ভাবনা নিয়ে দেশ দুটি বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চালিয়েছে। কিন্তু কোন দেশের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে, তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা বারবার ভেস্তে গেছে।
সমুদ্রসীমা-সংলগ্ন এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও মার্কোস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারবে। মার্কোস বলেন, চীন থেকে নিজেদের দূরে সরানোর কোনো নীতি বা নীতিগত ঘোষণা আমাদের নেই বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন অনেক ক্ষেত্র খুঁজে পাচ্ছি যেখানে চীনের সঙ্গে আমাদের নিবিড় সহযোগিতা রয়েছে। ফিলিপাইনে এখনও অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী হলো চীন।
উল্লেখ্য, ফিলিপিন ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে সংঘাতের ঘটনায় সেই সম্পর্ক আবারও পরীক্ষার মুখে পড়েছে। বেইজিং প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। এই কৌশলগত নৌপথের মধ্য দিয়ে প্রতি বছর ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। অথচ ২০১৬ সালে ম্যানিলার দায়ের করা একটি মামলায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত বেইজিংয়ের দাবি অবৈধ ঘোষণা করেছিল।
মার্কোস আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে রসদ সরবরাহের অভিযানের জন্য অনুমতি চাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা বা ওই অঞ্চলে নিজেদের অধিকার ছেড়ে দেওয়ার মতো কোনো বিশেষ সমঝোতা বেইজিংয়ের সঙ্গে করা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে ম্যানিলার অবস্থান কোনোভাবে দুর্বল হয়নি।
আরও পড়ুন: লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন