০৩:৪৭ পি.এম
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার প্রদেশটির বড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে। তবে প্রাদেশিক প্রশাসন পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রবিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে জরুরি অবস্থা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সময়ে, প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া হয়। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্য ব্যবস্থাপক সামার হারুন বিলুর রয়টার্সকে জানান, পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে এসব অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ দাঙ্গা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু
অন্যদিকে, ইমরান খানের সহযোগী ও পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলোতে বড়া এলাকার সংঘর্ষের চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি জরুরি অবস্থা জারি ও গভর্নরের শাসনকে অভ্যুত্থান হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে ভিডিওগুলো এবং গুলি চালানোর বিষয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
দলীয় কর্মকর্তাদের দাবি, প্রদেশে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটেছে বড়া এলাকায়, যা প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পিটিআইয়ের তথ্য সম্পাদক ইকরাম খাটানা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বড়ায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (নাদরা) একটি কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে এবং আশপাশের কয়েকটি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে প্রাদেশিক প্রশাসন জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে এ ঘটনার দায় নির্ধারণ করা হবে।
ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের একমাত্র প্রাদেশিক সরকারকে স্থগিত করার ঘটনা তার রাজনৈতিক সংকটকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। সামরিক স্থাপনায় হামলায় উসকানি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী, তিন বোন ও দলের বহু কর্মীও আটক রয়েছেন। ইমরান খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন