০৯:৩৬ পি.এম
দিল্লি থেকে থাইল্যান্ডের ফুকেট যাওয়া এবং ফেরার মাঝে ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টার বিরতি। এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট ক্রুদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন।
গত ৪ তারিখে, মাঝ আকাশে বৈরী ঝাঁকুনিতে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার এই ফ্লাইটের পাইলটের বিরুদ্ধে পার্টি করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যাত্রী ও ফ্লাইটের ক্রু সদস্যদের কাছ থেকে।
এর আগে, অভিযুক্ত পাইলট দুবার ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হন। তার রক্তে মারিজুয়ানা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাইলট দিল্লি থেকে ফুকেট যাওয়ার সময়ে একটি ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নিয়ম অনুযায়ী, তিনি তার জায়গায় একজন ক্রু মেম্বারকে ককপিটের জাম্প সিটে বসিয়ে রেখে যান। কিন্তু সেই নারী ক্রু ককপিটের কাজে অভ্যস্ত ছিলেন না। পাইলট ফিরে এসে তাকে তিরস্কার করেন। তবে ফুকেটে নামার পর সম্ভবত তিনি বুঝতে পারেন যে, বিষয়টি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। তাই সমতা আনতে সবাইকে পার্টিতে নিয়ে যান।
তবে পার্টিতেও সেই ক্রু মেম্বারের মন গলেনি। ফেরার সময়, তিনি ইনচার্জের কাছে চেয়ে বিমানের পেছনের দিকে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি ছিলেন বকার ভয়ে ককপিটের আশপাশে থাকতে চাননি।
ফ্লাইটের আগে, ভেতরে এবং নামার পরও পাইলটের আচরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলট সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেননি। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর একটি তদন্তকারী তাকে সতর্ক করে জানান যে, সিসিটিভি-র মাধ্যমে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এরপরও পাইলটকে বসানোর জন্য সাহায্য করতে হয়েছিল। এমনকি প্রস্রাবের নমুনা জমা দেওয়ার সময়ও পাইলটকে শারীরিকভাবে সাহায্য করতে হয়েছিল।
একটি সূত্র জানিয়েছে যে, অন্তত একজন কেবিন ক্রু পাইলটের বিরুদ্ধে মারিজুয়ানা সেবনের অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং
গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফিরছিল। ওই সময় ওড়িশার আকাশসীমায় বিমানটি ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনার সময় বিমানের প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না, এর দায়িত্বে ছিলেন কো-পাইলট।
বিমানটি তীব্র গতিতে নিচে নামার সময় ভেতরে ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়। ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে ওঠেন। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু আহত হয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফ্লাইটের একজন যাত্রী পাইলটের সম্পর্কে বলেন, ‘আমার ভাই এবং আমি ফ্লাইটে ওঠার শেষ যাত্রী ছিলাম। পাইলটও আমাদের সঙ্গে ফ্লাইটে উঠেছিলেন। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং জিজ্ঞেস করেছিলাম ফ্লাইটটি সঠিক সময়ে আছে কি না। তিনি উত্তর দিতে অনেক সময় নিচ্ছিলেন এবং তার চোখ ছিল লাল। আমি আমার ভাইকে বললাম, তাকে নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছে। পরে যা ঘটেছিল, তা সবাই জানেন।’
যখন ফ্লাইটটি হঠাৎ উচ্চতা হারাচ্ছিল, সেই সময়গুলোর বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। সকালের নাশতার পর সবাই বিশ্রামে ছিল। আমি ও আমার ভাই একসঙ্গে বসে ছিলাম। হঠাৎ একটা প্রচণ্ড শব্দ শুনলাম, যেন একটি ফাইটার জেটের মতো। অতঃপর, দেখলাম আমার ভাই তিন থেকে চারবার ছাদের সঙ্গে বাড়ি খেল। চারপাশে সব জিনিস উড়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা রক্তাক্ত হচ্ছিল, চিৎকার করছিল, কান্নাকাটি করে সাহায্য চাইছিল এবং পাইলটকে থামাতে বলছিল।’
আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির
পাইলটের আচরণের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জীবনের প্রথম কোনো পাইলটের বিষয় যেখানে ককপিট থেকে বের হয়ে গিয়ে যাত্রীদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে ভিডিও রেকর্ড করা ঠিক হবে না। তার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল- তিলকে তাল করবেন না। আমরা তখন জীবন-মরণের মাঝখানে ছিলাম; তার মাথায় এমন কিছু ভিডিও রেকর্ড করার বিষয় নিয়ে কত ভাবনা থাকবে? যাত্রীদের নিরাপত্তা কিংবা চিকিৎসা তার মাথায় ছিল না। তিনি শুধু দিল্লিতে ল্যান্ড করার বিষয়ে চিন্তা করেছিলেন, যাতে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি না হতে হয়।’
অবশ্য অভিযুক্ত পাইলট মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তবে ঘুমের সমস্যায় ঔষধ সেবনের কথা জানিয়েছেন। এক ফ্লাইট সেফটি বিবৃতিতে পাইলট বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি আগের কিছু সময় ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলাম, যার জন্য ডাক্তার আমাকে ঔষধ দিয়েছিলেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ’আমি যাত্রাবিরতির সময় ঘুমানোর চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু সহজে ঘুম আসছিল না।’
তিনি জানান, ’ডিউটি রোস্টারটি আইনিভাবে নির্ধারিত বিশ্রামের সীমার মধ্যে থাকলেও, এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা দিনের বেলার প্রাপ্য বিশ্রামের সময় কমিয়ে দিয়েছিল।’
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিক শেখের মৃত্যু
ভারতের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা মিলে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্ত চলাকালীন, পাইলট ও কো-পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন