ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনবান্ধব বাজেট, নিত্যপণ্যের দামে চাপ পড়েনি: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী


জনবান্ধব বাজেট, নিত্যপণ্যের দামে চাপ পড়েনি: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আকারের বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিরোধী দল এবারের বাজেটকে কল্পনার বাজেট বলছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, কল্পনা ছাড়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। উন্নয়নের জন্য বড় পরিকল্পনা ও লক্ষ্য থাকা জরুরি।

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এবারের বাজেটে মানুষের ওপর এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এটিকে আমরা জনবান্ধব বাজেট বলছি।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

এ সময় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আটকে থাকা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু করতে পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ও ৪১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ৬০টি পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হয়।

এ সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা এবং সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্য এলাকা যাচাই করেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে এক টেবিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে এক টেবিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বড় ধরনের গতি লাভ করেছে। সব ধরনের অনিশ্চয়তা ও জটিলতা কাটিয়ে, একটি টেকসই আঞ্চলিক চুক্তির বিষয়ে মুখোমুখি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃতি দিয়ে, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের অন্তর্বর্তী চুক্তিকে একটি স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অনেকাংশে সহজ করেছে। এর আগে, দুই দেশের মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত এবং তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করার আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করেছিল। মূলত, শেষ মুহূর্তের এই সমঝোতা সেই ধোঁয়াশা কাটাতে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন), লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মাঝে চলা লড়াইয়ের জেরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন। এর ফলে দুই দেশের বৈঠক নিয়ে একপ্রকার স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে, সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সেখানে অবস্থান করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ড পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সফর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে টেকসই ও প্রযুক্তিগত আলোচনার সূচনা করবে। তবে, বিশেষ দূত উইটকফের এই সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কর্তৃক এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে, একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় স্থানীয় সময় বিকেল চারটায়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের ওপর হামলা না চালায়, তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধ হবে না। তবে, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল তাদের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে এখনই সেনা প্রত্যাহার করবে না।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টাতেই ইসরায়েল অন্তত এক ডজন বিমান হামলা চালালেও বিকেল পাঁচটার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে গিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননে সর্বশেষ এক অভিযানে তাদের চার সেনা প্রাণ হারিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্টারমারের বিদায় নিয়ে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্রিটেনের ক্ষমতায় আসছেন বার্নহ্যাম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


স্টারমারের বিদায় নিয়ে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্রিটেনের ক্ষমতায় আসছেন বার্নহ্যাম?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদ ছাড়ার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিটিশ লেবার দলের এমপি এবং মন্ত্রীরা তাকে দায়িত্ব ছাড়ার একটি সময়সূচি ঘোষণা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এটি এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এদিকে, মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিশাল জয়ের পর লেবার দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। দলের একাংশ বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে সামনে আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

তবে, স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত নন। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত আছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে চলে যাবেন না।

বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে সপ্তাহান্তে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে এবং মন্ত্রী, এমপি এবং পরিবারের মতামত শোনার জন্য বলেছেন। একই সঙ্গে, বার্নহ্যাম ও সম্ভাব্য এক অন্য নেতা ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো গণমাধ্যমে বক্তব্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বার্নহ্যাম লেবারের ভোটের হার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে একটি বড় জয় পান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এই ফলাফলটি তার সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) স্টারমার তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অবস্থান এবং সমর্থন যাচাই করেছেন। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার তাকে দায়িত্ব ছাড়ার জন্য একটি সময়সূচি ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস স্টারমারকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

এর আগে, লেবারের নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন নেতা স্টারমারকে পদ ছাড়ার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। স্টারমার বলেছেন, তিনি জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি নেতৃত্বের লড়াই ঘটে, তাহলে তিনি তাতে অংশ নেবেন এবং দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন না।

এদিকে, বার্নহ্যাম বলেছেন, তার এই জয় ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি দেশকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

লেবার এমপি পিটার সোয়ালো জানিয়েছেন, তিনি এখন মনে করছেন স্টারমারের পদত্যাগের সময় এসেছে এবং তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

তবে, স্টারমারের পক্ষে থাকা নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা মনে করেন যে, দলকে বিভক্ত না করে সরকারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাদের মধ্যে কিছু নেতার বিশ্বাস, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে আগের সরকারের মতো অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

লেবারের নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে কোনো প্রার্থীকে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহ্যাম এই সমর্থন সহজেই পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্টারমার বর্তমান নেতা অবস্থায় থাকাকালে নেতৃত্বের ভোটে অংশ নিতে হলে তাকে কোনো এমপির সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে না।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব কারণে আপনার বিয়ে করা উচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


যেসব কারণে আপনার বিয়ে করা উচিত

 

আল্লাহ তাআলা মানবজীবনকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তা একা পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব—তার শান্তি, ভালোবাসা, নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রশান্তি অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেই গড়ে ওঠে।

এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র সম্পর্ক হলো বিবাহ।

বর্তমান যুগে অনেকেই ক্যারিয়ার, স্বাধীনতা বা ভোগবাদী জীবনধারার কারণে বিয়েকে পিছিয়ে দেন বা এটি এড়িয়ে চলেন। কেউ কেউ মনে করেন, বিয়ে একটি সামাজিক দায়িত্ব, আবার কেউ একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা হিসেবেও দেখেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ শুধু সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি ইবাদত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত এবং মানবজীবনের ভারসাম্য রক্ষার এক অনন্য ব্যবস্থা।

তাহলে আসুন, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানার চেষ্টা করি—কেন একজন মুসলিমের জন্য বিয়ে করা এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কী কী কারণে বিয়ে করা উচিত।

১. বিবাহ মানসিক প্রশান্তি ও স্থিতির উৎস

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : রূম, আয়াত : ২১) এই আয়াত প্রমাণ করে যে, বিবাহ মানুষের জীবনে মানসিক শান্তি, ভালোবাসা ও সহানুভূতির এক অপরিহার্য মাধ্যম। একাকীত্ব কখনোই মানবমনের পূর্ণ শান্তি আনতে পারে না।

২. বিবাহ দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে।’ (মুসতাদরাক হাকেম, আয়াত : ২৭২৮) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিবাহ মানুষের চরিত্র রক্ষা, দৃষ্টি সংযম এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এটি দ্বীনের পূর্ণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩. দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের মাধ্যম

ইসলামে যৌন প্রবৃত্তিকে দমন নয়, বরং বৈধ উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবাহ এই নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৫) বিয়ে মানুষকে হারাম থেকে রক্ষা করে এবং চরিত্রকে পবিত্র রাখে।

৪. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ

বিবাহ শুধু মানবিক প্রয়োজন নয়; এটি নবী-রাসুলদের সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৬৩) তিনি নিজেও বিবাহ করেছেন এবং উম্মতকে তা অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছেন। তাই বিয়ে থেকে দূরে থাকা মানে সুন্নত থেকে বিমুখ হওয়া।

৫. পরিবার ও সমাজ গঠনের ভিত্তি

বিয়ে শুধু দুই ব্যক্তির সম্পর্ক নয়; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি। সন্তানের সঠিক লালন-পালন, ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠন, পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক অপরাধ হ্রাস ইত্যাদি সবই বিবাহের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। ইসলাম একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য পরিবারকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

৬. রিজিক ও বরকত লাভের মাধ্যম

অনেকেই মনে করেন বিয়ে করলে আর্থিক চাপ বাড়ে, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটি বরং বরকতের কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তারা দরিদ্র হয়, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২) অর্থাৎ বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ রিজিকে বরকত দান করেন।

৭. মানসিক ও সামাজিক ভারসাম্য

বিয়ে মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও স্থিতিশীলতা আনে। এটি মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে পরিবারমুখী করে তোলে। ফলে জীবনে আসে ভারসাম্য, লক্ষ্য এবং মানসিক পরিপক্বতা।

৮. ইবাদতের সুযোগ ও মনোযোগ বৃদ্ধি

বিবাহিত জীবন মানুষকে এমন একটি পরিবেশ দেয় যেখানে সে সহজে হারাম থেকে বাঁচতে পারে এবং আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারে। পরিবার পরিচালনা, সন্তান লালন-পালন এবং হালাল জীবিকা অর্জন—সবই ইবাদতের অংশে পরিণত হয়।

অতএব, বিয়ে কোনো আধুনিক চিন্তার বিরোধী বিষয় নয়; বরং এটি মানবজীবনের স্বাভাবিক, পবিত্র এবং আল্লাহ নির্ধারিত একটি ব্যবস্থা। যারা ভোগবাদী চিন্তা বা ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে বিয়ে থেকে দূরে থাকতে চান, তারা মূলত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত থেকে নিজেদের বঞ্চিত করছেন। তবে সামর্থ্য, পরিস্থিতি বা বাস্তব বাধার কারণে কেউ বিলম্ব করলে তিনি গুনাহগার হবেন না। কেননা ইসলাম কখনো কারও ওপর অযথা কঠোরতা আরোপ করে না। একজন সচেতন মুমিনের উচিত—সময় ও সামর্থ্য হলে বিয়ের মাধ্যমে নিজের জীবনকে সুন্নতের পথে পরিচালিত করা, চরিত্রকে পবিত্র রাখা এবং একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। কারণ বিবাহ শুধু সম্পর্ক নয়—এটি ঈমান, দায়িত্ব এবং জীবনের পরিপূর্ণতার এক মহান অধ্যায়।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী কতজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী কতজন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছে তারেক রহমান। তিনি আগামী ২১ জুন এক দিনের সফরে মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন।

মালয়েশিয়ায় সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনে যাবেন। দুই দেশের সফর মিলিয়ে তিনি ছয় দিনের জন্য সফর করবেন। ২২ থেকে ২৬ জুন তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং এরপর দেশে ফিরবেন।

মালয়েশিয়ায় সফরসঙ্গী হিসেবে ২৭ জন থাকবেন এবং চীনে ২৮ জন সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম জানিয়েছেন যে সফরসঙ্গীকে যৌক্তিক সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ জুন বিকেলে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

মূলত সফরের আনুষ্ঠানিক পর্ব ২২ জুন অনুষ্ঠিত হবে। মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য হবে চীনে রওনা হওয়া।

দুই দেশের সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া সফর থেকে শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসার আশা করছেন সফর-সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%